বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
ঠাকুরগাঁওয়ে আইসক্রিম নামের বিষ তৈরি হচ্ছে
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :
Published : Sunday, 9 June, 2019 at 3:19 PM
ঠাকুরগাঁওয়ে আইসক্রিম নামের বিষ তৈরি হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ২০টি কারাখানায় নিম্নমানের ও ক্ষতিকর রং-উপকরণ মিশিয়ে আইসক্রিম তৈরির নামে সস্তা দামের ‘বিষ’ তৈরি শুরু হয়েছে। শীত মওসুম চলে যাওয়ায় শিশু ও স্কুল শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে ক্ষতিকর কুলফি আইসক্রিম তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা দেছে, ঠাকুরগাঁওয়ে নিউ কুলফি, লাবন্য কুলফি, মেট্রো কুলফি সহ আরো ১৫-২০ টি ফ্যাক্টরির অধিকাংশই নিম্নমানের সস্তা কুলফি আইসক্রিম তৈরি শুরু করেছে। এসব আইসক্রিম আবার ছোটদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। আর বিভিন্ন গ্রামগুলোতে রঙ-বেরঙ এর প্যাকেচে করে ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য বিক্রয় করা হচ্ছে।
এই কারখানাগুলোতে তিন থেকে দশ টাকা মূল্যের দুধ কুলফি, দই কুলফি, ঝালটক কুলফি, অরেঞ্জ কুলফি, লিচু কুলফি তৈরি হয়। সস্তা দামের এই আসক্রিম তৈরিতে নিম্নমানের ফুড কালার ও অত্যন্ত ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। আইসক্রিম তৈরির জন্য যে সকল উপকরণ ব্যবহার করা হয় তাও স্বাস্থ্যসম্মত না। ফ্রিজগুলোতে ময়লা পানি ব্যবহার করা হয়। কারখানার চারপাশে মাছি, মশা উপদ্রবতো স্বাভাবিক বিষয়।
সাধারণত আইসক্রিম তৈরিতে দুধ, চিনি, ঘনচিনি, কর্ন ফ্লাওয়ার, স্টাবিলাইজার, ফ্লেভার, ফুড কালার ও পানি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ১/২টাকা দামের আইসক্রিমে যে ফুড কালার ব্যবহার করা হয়-তা খাদ্য বা আইসক্রিমে ব্যবহারের অনুমোদন আছে কিনা জানেন না কেউ। এছাড়াও আইসক্রিম কারখানায় কোন হাইজিন নিয়ম পালন করা হয় না। দূষিত, নোংরা, অসাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হয় এসব আইসক্রিম।
সূত্র মতে, ভালো মানের চকবার আইসক্রিম তৈরিতে মিমি চকলেট ব্যবহার করতে হয়। এতে একটি চকবারের খরচ পড়বে অন্তত ১০টাকা, আর চকবার কুলফির অন্তত ৩ টাকা। কিন্তু তা না করে ক্ষতিকর ওই উপকরণ ব্যবহার করে ফ্যাক্টরি মালিকরা এই খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনেন। আর নিম্নমানের এই আইসক্রিমগুলোর অধিকাংশই তৈরি হয় রাতের আঁধারে। অনেকে সকাল হওয়ার আগেই তা ফ্যাক্টরির বাইরে বের করে দেন। যাতে কোনো ধরণের অভিযান হলেও তারা ধরা না পড়েন।
ঠাকুরগাঁও হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগির হোসেন জানান, আমার ছোট ছেলেটি এবার ক্লাস থ্রিতে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ছে। সে প্রতিদিন টিফিন এর কথা বলে ১০ টাকা নেয়। কয়েকদিন থেকে বাচ্চাটি আমার খুব অসুস্থ। জ্বর, গোলাব্যাথা, পেট ব্যাথা। পরে ডাক্তার দেখানো হলে জানতে পারি সে প্রতিদিন কুলফি আইক্রিম খেত তাই ফুট পয়জন হয়েছে ও ঠান্ডা লেগেছে। খুব চিন্তায় আছি কি করবো এখন।
ঠাকুরগাঁও শিশু ডাক্তার শাজাহান নেওয়াজ জানান, আইসক্রিম শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক। আইসক্রিম খেলে সাধারনত ঠান্ডা, গলা ব্যথা, এজমা, হাপানির মতো বড় বড় অসুখ হতে পারে। এছাড়াও এখন যেসকল কম দামি আইসক্রিম পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো বাচ্চাদের খাওয়ার উপযোগি না। এগুলো খেলে পেটের ব্যাথা, ফুট পয়জন হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। বাচ্চাদের আইসক্রিম পরিহার করা অতি জরুরি।
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা পারভিন জানান, গরমের সময় আইসক্রিম অনেক ভালো লাগে। স্কুল ছুটির পড়ে গেটের সামনে আইসক্রিম দেখলে না খেয়ে ভালো লাগে না। তাই প্রতিদিন একটা হলেও খাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আইসক্রিম খেলে সমস্যা হয় তাও লোভ সামলাতে পারি না।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও নিউ কুলফি আইসক্রিম কারখানার মালিক সাহজাহান ফুড কালার বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, কেউ কেউ ওইসব উপকরণ বা ফুড কালার ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু তিনি করেন না। এছাড়াও তার কারখানা হাইজিন নিয়ম মেনে চলে।
ড. জাহাঙ্গির আলম জানান, এ সকল রং, ময়লা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হওয়া আইসক্রিম খেলে বাচ্চাদের পেটের ব্যাথা, সর্দি, ফুট পয়জন হতে পারে। আর কুলফি আইসক্রিম কতটুকু স্বাস্থ্য সম্মত তা পরিক্ষা না করে বিক্রয় করা ঠিক না।
এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও সেনেটারি ইন্সপেক্টর আকতার ফারুক জানান, নিম্নমানের এই সস্তা আইসক্রিম আসলে নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে কাঁচা পামঅয়েল, ডালডা খুবই ক্ষতিকর। আর ফুড কালার ও কোকো পাউডারসহ রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহারের মাত্রা ও নির্দেশনা আছে। কিন্তু এগুলো মানা হয় না। ফলে সবমিলিয়ে এই খাবারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসিডিটি, ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া হতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হিসেবে আলসার এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান জানান, সস্তাদামের এই আইসক্রিমে ক্ষতিকর দ্রব্যাদি মিশ্রনের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। খুব শিগগির এটি বন্ধে অভিযান চালানো হবে। স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবারের সাথে কোনো ধরণের আপোষ করা হবে না।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft