বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
ডিমলায় অবাধে চলছে জুয়া ও মাদকের আসর
নীলফামারী প্রতিনিধি :
Published : Sunday, 9 June, 2019 at 8:48 PM
ডিমলায় অবাধে চলছে জুয়া ও মাদকের আসরঈদকে পূঁজি করে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে চলছে জমজমাট জুয়া ও মাদকের ব্যবসা। পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের আগের দিন বুধবার ভোর রাতে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ মাদক সেবন করার সময় সঙ্গাহীন অবস্থায় আব্দুল করিম নামে এক পাথর ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল করিম জানায়, টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতল ভবনের চেয়ারম্যানের কক্ষে রাহিত, হাবিব, শফিকুল ইসলাম ও উক্ত ইউপির তথ্য কেন্দ্রের মিজানুর রহমানসহ ৫জন সারারাত মাদক সেবন করে এ সময় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়লে মাথায় পানি দেয়ার পর তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলেও আব্দুল করিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পরিষদের চাবী তথ্য কেন্দ্রের মিজানুর রহমানের মিজানের নিকট থাকার কারনে দীর্ঘদিন থেকে তিনি সেখানে অর্থের বিনিময়ে গভীর রাতে মাদক সেবন ও জুয়ার আসর চালিয়ে আসছিলেন। মিজানুর রহমান প্রতিনিয়ত ইউপি চেয়ারম্যানের রুমে এসব আসর বসালেও কেহউ তার প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। ঈদের দিন ঘটনাটি ফাস হয়ে পড়লে এলাকার তোলপাড় শুরু হয়ে পড়ে।ওই ঘটনার পর একটি প্রভাবশালীমহল ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিতর জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।তথ্য কেন্দ্রের মিজানুর রহমানসহ মাদক কারবারীরা ও জুয়ারুরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চাবী চেয়ারম্যানদের কাছে থাকার নিয়ম না থাকায় তথ্য কেন্দ্রের মিজানুরের নিকট ছিল। ঘটনাটি জানার পর নতুন তালা ইউনিয়ন পরিষদে লাগানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে তিনি ঈদের ছুটি থেকে আসলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
অভিযুক্ত উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ তথ্য কেন্দ্রের মিজানুর রহমান বলেন,জুয়া ও মাদকের আড্ডার বিষয়টি সত্য নয়, রাতে আব্দুল করিম ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতল ভবনের উপরে পান খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন আনুমানিক রাত বারটা হবে। তারপর মাথায় পানি দেয়ি সুস্থ করার পর সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।আগে পরিষদের চাবী আমার কাছে থাকলেও ওই ঘটনার পরে চাবী আমার কাছ থেকে চেয়ারম্যান নিয়ে নিয়েছেন?
অপরদিকে একই ওই ইউনিয়নের তেলির বাজার সংলগ্ন বাঁশঝাড় এলাকায় মমিনুর রহমান ও সুরুজের নেতৃত্বে চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। সেখানে ডাব্বু বসিয়ে লাখ লাখ টাকার জুয়া চলছে। ঈদেরদিন ডিমলা থানার এ এসআই আব্দুর রাজ্জাক সেখানে গিয়ে জুয়া খেলার দৃশ্য দেখতে পেলে সে সময়ে জুয়ারীদের ভাগিয়ে দেন ডিমলা থানার কথিত সোর্স হামিদুল ইসলাম। এলাকার একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, হামিদুল ইসলাম জুয়া খেলার ছবি অন্যর কাছে দেখে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেন পুলিশকে ম্যানেজ করার জন্য। এ ব্যাপারে একাধিকবার হামিদুল ইসলামের ব্যবহৃত (০১৭২৯৯১৫৬৫৫) নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। জুযারু মমিনুর রহমান বলেন, আপনার কোন জানার থাকলে হামিদুলের সাথে যোগাযোগ করেন।
ডিমলা থানার  ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন,হামিদুল নামে আমাদের কোনো সোর্স নেই। টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তেলিবাজারে জুয়া চলছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি।
একই ইউনিয়ন পরিষদের মাদক ও জুয়ার আসরের বিষয়ে কেই কোনো লিখিত অভিযোগ না করলেও আমি তা জেনেছি। তবে পরিষদের চাবী কার কাছে থাকবার কথা কার কাছে ছিলো,কার কাছে রয়েছে সম্পুর্ন বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উর্ধŸতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft