শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯
জাতীয়
নবাব সিরাজুদ্দৌলার ‘কোহিতুরের’ সন্ধান
ফখরে আলম :
Published : Monday, 10 June, 2019 at 6:20 AM
নবাব সিরাজুদ্দৌলার ‘কোহিতুরের’ সন্ধান নবাব সিরাজুউদ্দৌলার সেই কোহিতুর আমের সন্ধান পাওয়া গেছে। হারিয়ে যাওয়া এই আমটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের ইয়াসিন বিশ্বাস ও জাহাঙ্গীর হোসেন বাপ্পী। দশ গ্রামের মধ্যে এই দু’জনের কোহিতুর আমের দু’টি গাছ রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে টিকে থাকা কোহিতুর নবাব পরিবারের আভিজাত্য ছড়াচ্ছে। কোহিতুর কাঁচাও মিষ্টি, পাকাও মিষ্টি। রসে ভরপুর স্বাদে অতুলনীয়।
নবাব সিরাজুদ্দৌলার কোহিতুর আমটি এতই পছন্দ ছিল যে, গ্রীষ্মকালের এই ফলটি তিনি শীতকালেও খেতেন। অভিনব কায়দায় বাংলার নবাব কোহিতুর সংরক্ষণ করে কনকনে শীতে সেই আম খেয়ে অন্তর জুড়াতেন। রাজকীয় মেহমানদেরও পাতে তুলে দিতেন কোহিতুর। পাকা আমের বোঁটায় মোম লাগিয়ে সেই আম মধু কিম্বা ঘিয়ের পাত্রে ডুবিয়ে রাখা হত। শীতের সময় এই আম মধুর ভেতর থেকে বের করে পানিতে ধুয়ে বাঁশের এক ধরণের ছুরি দিয়ে কেটে নবাব সিরাজুদ্দৌলা তাঁর মন্ত্রী, উজির, নাজির সভাসদদের সঙ্গে বসে উৎসব করে ভক্ষণ করতেন।
মোঘল স¤্রাট শাহাজাহানের কোহিনুর সিংহাসন থেকে কোহিতুর আমের নামকরণ হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। কোহিতুর মাঝারি আকারের আম। প্রতিটির ওজন ২/৩শ’ গ্রাম। পাকা আমের ভেতরের রং হলুদ। আম খুব মিষ্টি। আঁশবিহীন মোলায়েম। আঁটি ছোট। খোসা একেবারে পাতলা। এই আম কাঁচাও মিষ্টি। মুর্শিদাবাদের নবাবদের বাগানেও কয়েকটি কোহিতুর আমের গাছ ছিল। এই জাতটি আসলে নবাব ও মোঘল সম্রাটদের হাত ধরেই এদেশে এসেছে। তবে খুব বেশি কোহিতুর আমের গাছ দেখা যায় না। এখনও অনেক প্রবীণ ব্যক্তি গ্রীষ্ম মৌসুমে কোহিতুর আম খুঁজে বেড়ান।
যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন ও ইয়াসিন বিশ্বাসের বাড়িতে দু’টি কোহিতুর আম গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। দু’টি গাছেই ফল ধরেছে। ইয়াসিন বিশ্বাস বললেন, ১২/১৪ বছর আগে আমি সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে একটি আমের চারা কিনে আনি। কয়েক বছর ধরে গাছটিতে ফল ধরছে। কাঁচা খুবই মিষ্টি। এ জন্যে পাকার আগেই আম শেষ হয়ে যায়।
এই উপমহাদেশে (১৫৫৬-১৬০৫) শাসন আমলে মোঘল স¤্রাট আকবর ভারতের লাখবাগের দাঁড়ভাঙায় প্রথম এক লাখ চারা রোপন করে উন্নত জাতের একটি আম বাগান গড়ে তোলেন। তাঁর বাগান থেকেই দাঁড়ভাঙা ল্যাংড়া বাংলাদেশে এসেছে। আকবরের এই আম প্রিতীর কারণেই রাজা বাদশা নবাবদের মধ্যে আম প্রেম জেগে ওঠে। নবাবরা আমের বিয়ে দিয়ে নতুন জাতের আম উদ্ভাবন করেছেন। আম দারোগা নিয়োগ দিয়ে দূর দূরান্ত থেকে উন্নত জাতের আম গাছ ‘আটক’ করে নিয়ে এসেছেন। নবাব সুজাউদ্দৌলা বাংলা বিহার উড়িষ্যার রাজধানী মুরশিদাবাদে ‘আমখানা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। উন্নত আমের জাত খুঁজে বাগান করার জন্য আম দারোগা নিয়োগ দেন। পরবর্তিতে মীর জাফরের ছেলে মিরন নতুন আম চন্দনখোসা, লজ্জতবক্স, হুজুরপ্রসন্দ, মোলায়েমসহ প্রায় ১০০টি উন্নত জাতের আম আবিস্কার করেছিলেন। ট্রাজেডি হচ্ছে এই আম প্রেমের কারণে নবাবজাদা মিরন বজ্রপাতে আম বাগানেই মারা যান। মুরশিদাবাদের লালবাগে আজও নবাবদের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি কোহিতুর আম গাছ।
নবাব সিরাজউদ্দৌলাহর নবম বংশধর সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব বলেন, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা ফুল ফলের বাগান খুব ভালবাসতেন। তিনি বিদেশ থেকে অনেক ফুলের চারা এনে বাগান সৃষ্টির পাশাপাশি আমের উৎকর্ষ সাধনে কাজ করেছেন। উন্নত জাতের আম বাগান গড়ে তুলেছেন। নবাবের পছন্দের কোহিতুর আম আমাদের আবেগ তাড়িত করে। আমরা পলাশীর আ¤্রকাননে ফিরে যাই। বাংলার শেষ নবাবের স্মৃতি হাতড়ে বেড়াই।’




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft