সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯
অর্থকড়ি
কয়রায় বাগদা চিংড়ির ভয়াবহ মড়কে দিশেহারা চাষিরা
শেখ মনিরুজ্জামান মনু, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি :
Published : Monday, 10 June, 2019 at 6:20 AM
কয়রায় বাগদা চিংড়ির ভয়াবহ মড়কে দিশেহারা চাষিরাখুলনার উপকুলীয় অঞ্চল কয়রা উপজেলার বিভিন্ন ঘেরে মারা যাচ্ছে বাগদা চিংড়ি। কারণ হিসেবে চাষিরা ভাইরাস সংক্রমণের কথা বলছেন। তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, মরা চিংড়িতে তারা কোনো রোগবালাই খুঁজে পাচ্ছেন না। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম  আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘেরে চিংড়ি চাষের জন্য পর্যাপ্ত পানির অভাব রয়েছে। তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির প্রভাব ও প্রচন্ড দাবদাহে পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে গেছে। ফলে চিংড়ি মারা যাচ্ছে।
কয়রা সদর ইউনিয়নের চিংড়ি চাষি আবুল হোসেন সরদার বলেন, ২০০৩ সাল থেকে তিনি ঘের করছেন। এবারও ১৫ বিঘা জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করেছেন। কিন্তু বছরের প্রথম থেকেই চিংড়ির পোনায় মড়ক লেগেছে। পোনা ছাড়ার ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বেশির ভাগ পোনা মরে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তার ঘেরে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। তা ছাড়া নিয়মিত পরিচর্যা থেকে শুরু করে পর্যাপ্ত খাদ্যও দিয়ে থাকেন।কয়রা সদরের হরিদাশ বলেন, তিনি এবার ১০ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেছেন। বছরের প্রথমে অবমুক্ত করা বাগদা  মাছে মে মাসের শেষের দিকে মরে গেছে। এতে তাঁর  প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাঁর এলাকার ঘেরগুলোতে পর্যাপ্ত পানি নেই বলে জানান তিনি। কয়রার অদিকাংশ চিংড়িচাষিরা বলেন, উপজেলার বেশির ভাগ ঘেরেই কমবেশি বাগদা চিংড়ি মারা যাচ্ছে। যেসব চিংড়ি অস্বাভাবিকভাবে মারা যাচ্ছে, বরফে দিলেই সেগুলোর রং পাল্টে যাচ্ছে এবং অপেক্ষাকৃত নরম হয়ে পড়ছে। তাই এগুলো বিক্রিও করা  যাচ্ছে না।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,কয়রায় ছোট-বড় প্রায় চার হাজার মৎস্য ঘের রয়েছে। এর আয়তন প্রায় ৫ হাজার  হেক্টর। এ বছর  প্রায় ঘেরেই বাগদা চিংড়ি মাছই মারা যাচ্ছে। গত বছর চিংড়িতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছয় হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বাগদা চিংড়ি মরে  যাওয়ায় ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত  হয়নি। গত বারের মতো এবারও মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক হারে বাগদা চিংড়ি মারা যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাগদা চিংড়ির ঘের গুলোতে খাবারের সংকট রয়েছে বলে অনেক চাষি মন্তব্য করেন। এ ভাবেই বছরের শুরুতেই যে হারে বাগদা চিংড়িতে মড়ক লেগেছে তাতে কয়রার চাষিরা পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বৈদাশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হবে দেশ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আলাউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বাগদা চাষের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর লবণসহিষ্ণু মাত্রা হলো সর্বোচ্চ ২৫ পার্টস পার থাউস্যান্ড (পিপিটি)। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পরিবেশের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। পাশাপাশি চিংড়ি চাষের জন্য যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন তা ঘেরগুলোতে নেই। এ কারণে লবণাক্ততা বেড়ে গিয়ে গরমের কারনে বাগদা চিংড়ি মারা যাচ্ছে। তা ছাড়া হঠাৎ বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। তাপমাত্রার এ তাৎক্ষণিক পরিবর্তনেও চিংড়ির ক্ষতি হচ্ছে। এ সকল সমস্যা সমাধানে চাষিদের নিয়মিত কয়রা উপজেল মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft