মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৯
সারাদেশ
জমিজমার বিরোধ নিয়ে কৃষক হত্যা
এস.এম.নুর আলম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
Published : Monday, 10 June, 2019 at 4:35 PM
চিরিরবন্দর উপজেলার সুকদেবপুর (মাছুয়াপাড়া) গ্রামে জমিজমার বিরোধ নিয়ে সংঘঠিত একটি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মুল অপরাধীদেরকে রক্ষা করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিতর্কিত ভূমিকায়। এ নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আদালতে দায়ের করা বাদীনির লিখিত অভিযোগে গেছে, চিরিরবন্দর থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষ আশু চন্দ্র রায় নামের এক ব্যক্তিকে  হত্যার  ঘটনায় থানায় মামলার অভিযোগ দাখিলের সময় ব্যাপক কারচুপির আশ্রয় নেয়। বাদীনি তার জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত আবু হায়দার লিটন ও মোঃ হাকিম এর নাম প্রকাশ করলেও থানা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কম্পিউটার কম্পোজকৃত অভিযোগপত্রে এ দু’জনের নাম লিপিবদ্ধ না করে। নিহত আশু চন্দ্র রায়ের স্ত্রী নন্দ রানী রায়ের কাছ থেকে টিপসহি আদায় করে তাকে ওই মামলার বাদী করেন। যার মামলা নং ২, জি,আর ২৩৮। অভিযোগ রয়েছে পুলিশ বাদিনির টিপসহি নেয়ার সময় তাকে এজাহারটি পড়েও শোনানো হয়নি।
বাদীনি আদালতে দায়েরকৃত নালিশী দরখাস্তে আরও উল্লেখ করেন, তার নিহত স্বামীর বড় ভাই বিশ^নাথ রায়ের কম্পোজকৃত প্রথম দরখাস্তে বাদ দেয়া ওই দুই অভিযুক্তের নামসহ মোট ২৫জন অভিযুক্তের নাম ছিল। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ পূনরায় কম্পোজ করার সময় তাদের নাম সুকৌশলে বাদ দিয়ে ২৩জনকে আসামী করে ওই অসম্পূর্ণ অভিযোগটিকেই এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে আদালতে প্রেরণ করেন। আসামীদের একজন প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ায় এবং তার সাথে পুলিশের বিশেষ সখ্যতা থাকায় তাদেরকেসহ মোট ১১জন আসামীকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক মামলাটির অসম্পূর্ন প্রতিবেদনও দাখিল করা হয় আদালতে। এই প্রতিবেদনের বিষয়েও নারাজি পিটিশন দাখিল করেন বাদীনি।
বর্তমানে মামলাটি দিনাজপুর সিআইডি বিভাগে তদন্তাধীন রয়েছে। আসামীদের হুমকী ধামকীর কারনে স্বাক্ষীদের অনেকেই সিআইডি কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দি প্রদান করতে ভয় পাচ্ছেন। বাদীনি জানায়, আদালত থেকে জামিন না নেয়া আসামী লেবু চন্দ্র, মধু চন্দ্র রায়, হরেন চন্দ্র রায়, উজ্জল চন্দ্র ও সাধু চন্দ্রকে গ্রেফতার করা হলেই প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষীগন তদন্ত কর্মকর্তার নিকট নির্ভয়ে মুখ খুলবেন। অন্যথায় মামলাটি ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বাদিনী ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।
এ বিষয়ে চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ হারেসুল ইসলামের ভাষ্য নেয়া হলে তিনি জানান, বাদীনির জবানবন্দী মোতাবেক এজাহার কম্পোজ করে তাকে তার অন্যান্য স্বাক্ষীগনের সম্মুখে পড়ে শোনানো হয় অতপর তার টিপ সহি নেয়া হয়। কারচুপির আশ্রয় নিয়ে আবু হায়দায় লিটন ও মোঃ হাকিম এর নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ সত্য নয়।
তিনি আরও বলেন, বাদীনির নাশিলী দরখাস্তের ভিত্তিতে মামলাটি বর্তমানে সিআইডি কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্তাধীন রয়েছে। গত শনিবার বাদীনি ওই মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। তিনি হুমকীদাতাসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েছেন। পলাতক থাকায় গ্রেফতার সম্ভব হয়
সিআইডি বিভাগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ জবিরুল ইসলাম বলেন, বাদিনীর ৩৬০সি/১৮  নালিশী দরখাস্তের ভিত্তিতে আদালত কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে তিনি তদন্ত কাজ পরিচালনা করছেন। তদন্তে আবু হায়দায় লিটন ও মোঃ হাকিম এর জড়িত থাকার বিষয়ে এখনও নিরপেক্ষ কোন প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি পাইনি। তদন্তে প্রমানিত হলে তাদেরকে আসামী হিসেবে গন্য করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft