রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯
সারাদেশ
চলছে ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময়
কুয়াকাটায় জাল তুনে সময় কাটছে জেলেদের
এইচ,এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :
Published : Monday, 10 June, 2019 at 4:36 PM

কুয়াকাটায় জাল তুনে সময় কাটছে জেলেদের প্রজনন মওসুমে বন্ধ রয়েছে ইলিশ ধরা ও বিক্রির কাজ। তাই জাল তুনে সময় পার করছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার নিবন্ধন জেলের ১৮ হাজার। সকল মাঝি ও জেলেরা এখন বেকার সময় পার করছেন। যারা দিন এনে দিন খাওয়া এই সব মানুষের জন্য নেই অন্য কোন পেশার সুযোগ। তবুও যাদের শক্তি সামর্থ আছে তারা মাটি কাটা কিংবা যোগ দিয়েছেন রাজমিস্ত্রির জোগালে হিসেবে আবার কেউ দিন মজুর হিসেবে কাজ করছে। আর যাদের এসব কাজের অভ্যাস নেই তারা মনোযোগী জাল মেরামতের কাজে। কারন মালিকের জাল আর নৌকা সবসময় মালিকের থাকে। মাছের দাম অনুপাতে মোরা টাহার ভাগ পাই,জাল নষ্ট হইয়া গেলে মালিকের ক্ষতি হইবে বেশি। তবু ও জালের সেবা করন লাগে। এই জাল মোগো রিজিক। নিষেধার্ঞ্জা ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন পর থেকে তাদের সুতোর জাল আবার ভরে উঠবে রুপালি ইলিশে এমন স্বপ্ন তাদের। সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর ঘোষিত মা ইলিশ না ধরার কারনে গত বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশ ধরার সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। উপজেলায় গত কয়েক বছর ইলিশ মাছের অনেকটা অকাল ছিল। কিন্তু গত দুই বছর দেশের সব উপকুলীয় এলাকায় জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে। এ দিকে সরকার মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় বঙ্গোপসাগরে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে সাগরের কোনো স্থানেই যান্ত্রিক এমনকি ডিঙি নৌকা দিয়েও মাছ আহরণ করা যাবে না।   
সরেজমিন জেলে পল্লীগুলোতে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার আলীপুর ,মহিপুর, লালুয়া , কুয়াকাটা , ধুলাসার , ধানখালী, বাবলাতলার ঢোস , নিজামপুর, গঙ্গমতিজেলে পল্লি ঘুরে জেলেদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা তাদের দুর্দশার কথা জানান।  উপকুলী এলাকায় ৪০টি জেলে পরিবারে ইলিশের ভরা মওসুমে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের মধ্য চরম হাহাকারের সৃষ্টি হয়েছে। পটুয়াখালীর উপকূলীয় কুয়াকাটা ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকার জেলেরা ট্রলার নিয়ে অবস্থা করছেন। ঈদের আগে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় জেলেরা অসন্তুষ্ট । জেলেরা বলছেন, অক্টোবর মাসে ২২ দিন ইলিশ সংরক্ষণ, নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৮ মাস জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি, মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাস জেলার বাউফল, দশমিনা, 
কুয়াকাটায় জাল তুনে সময় কাটছে জেলেদের রাঙ্গাবালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার ইলিশের অভয়ারণ্যে ইলিশ ধরা যায় না। এরপর এ বছর নতুন করে ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জেলেদের বিপদে ফেলে দিয়েছে। এখন সাধারণ জেলেরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মৎস্য বন্দর আলীপুর, মহিপুর ও কুয়াকাটায় জেলেসহ মৎস্যজীবীরা কয়েক দফায় মানববন্ধন, মিছিল করেছেন। পরে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। কোনো কিছুতেই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি জেলেরা।
সরকার ঘোষিত নিষিধাঞ্জা মেনে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন পর্যন্ত মা ইলিশ ধরা বন্ধ রেখেছে জেলেরা। অবসর সময়ে ছেঁড়া জাল তুনে ব্যস্ত সময় কাটছে। আলীপুর ,মহিপুর, লালুয়া , কুয়াকাটা , ধুলাসার , ধানখালী, বাবলাতলার ঢোস , নিজামপুর, গঙ্গমতিঘুরে দেখা যায় প্রায় সব ঘাটেই নেীকা সারিবদ্ধ ভাবে বেধেঁ রাখা হয়েছে উপকুলে। বোট ও ইঞ্চিন মেরামতের কাজ চলছে কোথাও কোথাও ।  
এদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মৎস্য বন্দর আলীপুর, মহিপুর ও কুয়াকাটায় জেলেসহ মৎস্যজীবীরা কয়েক দফায় মানববন্ধন, মিছিল করেছেন। পরে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। কোনো কিছুতেই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি জেলেরা।
এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছের মোকাম হিসেবে পরিচিত মহিপুর মৎস্য বন্দরের মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি মো. ফজলু গাজী বলেন, আগে কখনোই এ সময়টাতে ইলিশসহ কোনো ধরনের মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। এ বছরই প্রথম এ সময়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে করে মাছের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এ এলাকার অন্তত লক্ষাধিক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।
ফজলু গাজী আরও বলেন, এ সময়টাতে শুধু বাংলাদেশের ট্রলার, জেলে নৌকার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে হবে না, পাশের দেশ মিয়ানমার, ভারত, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার ট্রলার, বড় ধরনের মাছ ধরার জাহাজ যাতে অবাধে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে মাছ শিকার করতে না পারে, সে জন্যও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, আসলে নতুন করে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ হওয়ায় জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে নিষেধাজ্ঞার আগেই জেলেদের পুনর্বাসনের আওতায় আনতে পারলে জেলেরা উপকৃত হতেন।
গঙ্গমতি গ্রামের জেলে কাঞ্চনগাজী জানান, আমাদের এখানে প্রায় ১০০’শ জেলে পরিবার রয়েছে । তাদের মাছ ধরার জন্য ৫০টি বোট রয়েছে। সরকারি ঘোষনায় ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রাখায় সিধান্ধে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই প্রথম থেকে সব বোট উপকুলে নিয়ে এসে সারিবদ্ধ ভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। নিষিদ্ধ সময় শেষ হলে আবার সাগরে মাছ ধরা বন্ধের সময় জেলেদের কিছু সাহায্য সহযোগীতা করে থাকে Ñযদিও ঈদের আগে সরকারি ভাবে চাল বিতরন করা হয়েছে।
চাড়িপাড়া গ্রামের জেলে জুয়েল বলেন, এই এলাকার ৯০ শতাংশ মানুষ মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন তিন বেলা খাবার ঠিকমতো পরিবারের জোগাড় করতে কষ্ট হচ্ছে। ‘সাগরে ইলিশ শিকার বন্ধ। আমাদের আয়ের পথও বন্ধ রয়েছে। কিন্তু সাগরে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় টাকা আয় করব কীভাবে আর কীভাবেই ছেলেমেয়েকে দু মোঠো ভাত লেখাপড়ার খরচ চালাবো তা জানি না।’
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, শুধু ইলিশ নয়। বঙ্গোপসাগরে ৪৩৫ প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য সম্পদ রয়েছে, যা সংরক্ষণ ও নিষ্কণ্টক প্রজননের স্বার্থে এবং সমুদ্রনির্ভরশীল অর্থনীতির লাগসই উৎপাদন ও বাস্তবায়নের নিমিত্তে সরকার বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় নিরঙ্কুশ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬৫ দিনের জন্য সব ধরনের মৎস্য শিকার নিষিদ্ধ করেছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft