রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
অর্থকড়ি
বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ১৪১৫ কোটি টাকা
মুসলিম উদ্দিন পাপ্পু, স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল থেকে :
Published : Tuesday, 11 June, 2019 at 6:29 AM
বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ১৪১৫ কোটি টাকাবেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলেও বেড়েছে রাজস্ব ঘাটতি। চলতি অর্থ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার চারশ’ ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, স্থানীয় কাস্টমস হাউসের উদ্যোগের কারণে দ্রুত পণ্য খালাস হচ্ছে। এতে আমদানি বেড়েছে। তবে ঈদের লম্বা ছুটির কারণে রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে। রাজস্ব ঘাটতি দূর করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছেন তিনি।
মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরীর জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দিনের রাজস্ব দিনে আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের ইচ্ছাকৃত হয়রানি করলে তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হবে বলে ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি জুন মাসব্যাপী প্রতিটি কাস্টমস অফিসারকে পর্যায়ক্রমে  সকাল ৭টা থেকে  রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করতে হবে। একইসাথে ভারত থেকে যেসব কর্মকর্তা দিনে বেশি ট্রাক দেশের ভেতরে প্রবেশ করাতে পারবেন তাদের পুরস্কারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য দ্রুত পরীক্ষার পর খালাসের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
কাস্টমস কমিশনারের নির্দেশনার পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে আমাদনি-রফতানি বাণিজ্য  দ্রুত করতে তদারকি কাজ শুরু হয়েছে। উচ্চ শুল্কের পণ্য দ্রুত পরীক্ষণ ও এসেসমেন্ট কার্যক্রম দ্রুত করতে লোকবল বাড়ানো হয়েছে।
দ্রুত রাজস্ব আদায়ের জন্য এ ধরণের  কার্যক্রম গ্রহণ করায় গত দু’দিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে বেড়েছে আমদানি বাণিজ্য। রোববার আমদানি হয়ে ৪৮৭ ট্রাক পণ্য বন্দরে এসেছে। যার বিপরীতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১০ কোটি  টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে রাজস্ব ফাকি রোধে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করায় রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, চলতি অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস-এর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। বছর শেষ হতে চললেও লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও পৌঁছানো যায়নি। এ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। ১ হাজার ৪১৫ কোটি টাকার রাজস্ব কম আদায় হয়ছে।
মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন জুন মাসের মধ্যে ঘাটতি পুষিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করা যাবে। এজন্য সম্ভব সব ধরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সকাল আটটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আমদানি বাণিজ্য শুরু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে বেনাপোলের পার্শ্ববর্তী ভোমরা বন্দরে সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ওই বন্দরে  চলে গেছে বলে বেনাপোলস্থ ব্যবসায়ী সংগঠন গুলো অভিযোগ করেছেন।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বেনাপোল কাস্টম হাউজ’র রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরণের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ব্যাপক আইনি পরিবর্তন এনেছে। বন্দর থেকে উচ্চ শুল্কের পণ্য দ্রুত খালাস করতে ব্যবসায়ীদের অহবান জানানো হয়েছে। সে লক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা কাজ করে যাচ্ছেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft