বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯
জাতীয়
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি চাপে আছে : সিপিডি
কাগজ ডেস্ক :
Published : Tuesday, 11 June, 2019 at 8:00 PM
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি চাপে আছে : সিপিডিপূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
মঙ্গলবার (১১ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিমত তুলে ধরনের সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্থনীতির একটি শক্তি ছিল। সেই শক্তিতে চিড় ধরেছে, দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। এর অনুসঙ্গ কর আহরণে অপারগতা এখন বাংলাদেশের উন্নয়নের একটা অমোচনীয় প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে। এটা যদি অতিক্রম না করা যায়, তাহলে আমাদের উন্নয়নের যে অভিলাষ রয়েছে তার জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সুযোগ কম হবে এবং অন্য উৎস থেকে যদি আমরা বিনিয়োগের চেষ্টা করি তাহলে সামষ্টিক অর্থনীতির দুর্বল পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
বৈদেশিক মুদ্রার মজুত পরিস্থিতিকে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ার আরও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করে দেবপ্রিয় বলেন, রেমিট্যান্সপ্রবাহ ভালো, রফতানিও ভালো, তারপরও বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি বাড়ছে। বর্তমানে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত মাত্র পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান, যা কয়েক মাস আগেও ছিল ৮ মাসের সমান। সরকার ডলার বিক্রি করে টাকাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। টাকাকে স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই। প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে চালু রাখতে হলে টাকাকে এখন নিচে নামিয়ে নিয়ে আনতে হবে। এটা সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সরকার যেটা মনে করছে টাকা সস্তা করলে আমদানি ব্যয় বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর একটা প্রভাব পড়বে। আমরা মনে করি মূল্যস্ফীতি এখন যে অবস্থানে আছে, তাতে এ হার যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে আছে। সে কারণে টাকাকে কিছুটা অবমূল্যায়ন করলে তা সহ্য করার শক্তি অর্থনীতির আছে। কিন্তু অন্য সময় মূল্যস্ফীতি যদি বেড়ে যায়, তাহলে এটা করা জটিল হয়ে পড়বে। সুতরাং টাকার মান পুনঃনির্ধারণ অবশ্যই প্রয়োজনীয়।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যে কয়টা পদক্ষেপ নিয়েছে, সবগুলো ব্যাংক খাতের জন্য আরও ক্ষতিকর হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এসময় তিনি কার্ডধারী প্রত্যেক কৃষককে ৫ হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেয়ারও দাবি জানান।
ব্রিফিংয়ে সিপিডির পক্ষ থেকে ১০টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- রাজস্ব আহরণের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, সরকারি ব্যয় সুশৃঙ্খলভাবে করা, কর ছাড়ের হিসাব সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার সমন্বয় করা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে, প্রত্যেক কৃষককে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে, ব্যাংক কমিশন গঠন ও সুদের হার বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর ছেড়ে দিতে হবে, পুঁজিবাজারের সংস্কারের ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিতে হবে, সরকারি প্রতিষ্ঠান অডিট করে সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে, সামাজিক খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং টাকার অবমূল্যায়ন করতে হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft