বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
চাঁচড়ার জবর দখলে চলা নির্মাণ কাজে আদালতের স্থগিতাদেশ
অভিজিৎ ব্যানার্জী :
Published : Wednesday, 12 June, 2019 at 6:57 AM
চাঁচড়ার জবর দখলে চলা নির্মাণ কাজে আদালতের স্থগিতাদেশ চাঁচড়ায় জমি জবর দখলে লিপ্ত চক্রের পক্ষে দেয়া পুলিশ প্রতিবেদনে আদালতে নারাজি ও দৈনিক গ্রামের কাগজের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের পর নির্মাণে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা যশোর কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে গেলে গত ৩ জুন পুলিশ ১৪৪ ধারা ও ১৪৫ (৬) ধারা মোতাবেক অভিযুক্ত আব্দুল আলিম ও বাদী কোহিনুর বেগমকে নেটিশ করেছেন।
এদিকে, জমি জবরদখল ও পৌর কোড অবমাননা করে নির্মাণ কাজ চালানোর সংবাদ প্রকাশ করায় গ্রামের কাগজ প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে। একজন সাবেক এমপি ফোন করে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
আদালত ও থানা সূত্র জানিয়েছে, ৭৭নং চাঁচড়া মৌজার একই এলাকার ১৩৪৭ হাল দাগে আলী আমজাদ ও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম  ২৩৩৩ শতক জমি ১৯৯১ সালে কিনে ভোগদখল করে আসছেন। এই জমিতে পরবর্তীতে বাড়ি তৈরি করে প্রায় ১০/১২ বছর বসবাস করে আসছেন। এরপর ঝিকরগাছা যাদবপুরের মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে আব্দুল আলিম ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর আমজাদের জমির পশ্চিম পাশের সীমানায় ১২৯৮৪ নং দলিল মূলে জমি কেনেন। বাস্তবের ৩.৮২ শতক জমির স্থলে ০.৩০৫ শতক জমি কাগজ কলমে বেশি ক্রয় করেন। আর ওই জমি দেখিয়ে প্লান তৈরী করে আব্দুল আলিম বহুতল ভবন নির্মান শুরু করলে জটিলতার সৃষ্টি হয়।
আব্দুল আলিম জমির পরিমান, নকশা ও অবস্থান পর্যালোচনা না করে কোনো কিছুতেই ভ্রুক্ষেপ না করে ওই পাশের সীমানা বরাবর ১ফুট ৬ ইঞ্চি বাদ না দিয়ে উভয় পাশের ৬০ ফুট পর্যন্ত প্রস্থে ৩০ ফুট ক্রয় দেখিয়েছেন। আলিমের দক্ষিণ পাশের প্রস্থে হারুন অর রশিদের যেখানে উত্তর পাশের প্রস্থ শেষ, আলিমের সেখানেই একই প্রস্থ, দক্ষিণ পাশের প্রস্থ শুরু। আব্দুল আলিমের দক্ষিণ পাশের প্রস্থে ৩০ ফুট ক্রয় দেখানোর জন্য আলী আমজাদের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে ৯ ইঞ্চি চলে গেছে। তেমনি উত্তর পাশের প্রস্থে ৩০ ফুট ক্রয় দেখিয়েছেন। আলিমের ক্রয়কৃত জমির সমগ্র নকশা ও অবস্থান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তিনি দক্ষিণ পাশে প্রস্থে ২ফুট ৩ ইঞ্চি বেশি, উত্তর প্রস্থে ১ ফুট ৬ ইঞ্চি বেশি এবং দৈর্ঘ্য ২ পাশে ১ ফুট বেশি ক্রয় দেখিয়ে জমি কিনেছেন।
অন্যদিকে জমির দক্ষিণ প্রান্তে পূর্ব পাশে দৈর্ঘ্য বরাবর মাত্র ৯ ইঞ্চি জায়গা রয়েছে এবং আলী আমজাদের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে ৯ ইঞ্চি জমি ক্রয় দেখিয়েছেন। এমতাবস্থায় ত্রুটিপূর্ণ ক্রয়কৃত জমির উপর পৌর কোড লংঘন করে প্লান করা হয়েছে। পৌর কোড লংঘন করে প্লান তৈরী করে আব্দুল আলিম বাড়ি নির্মাণ করায় আলী আমজাদ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর এসব জেনে শুনেও তদন্তের নামে প্রহসন করে এস আই মানিক আদালতে ১৪৪ ধারার বিপরীতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। যা দখলবাজ চক্রের পক্ষে গেছে। মনগড়া ওই অসংগতিপূর্ণ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ২৯ মে আদালতে নারাজি দেন আলী আমজাদ। যশোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়ের করা পিটিশন নাম্বার ৯৯/১৯। কার্যবিধি ১৪৪ ধারার নথিটি তলবের নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সাথে তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম নির্মাণে স্থগিতাদেশ চান ১৪৫ (৬) ধারায়। ওই নারাজির আলোকে ও আদালতে নতুন করে ১৪৫ ধারার আলোকে ওসিকে নির্দেশনা দেয়া ওই জমিতে শান্তি-শৃংখলা বাজায় রাখতে কাজে স্থগিতাদেশ দিতে। ওসি ৩ জুন থানার এএসআই শফিকুজ্জমানকে দিয়ে চাঁচড়া ৭৭ নাম্বার মৌজার এসএ খতিয়ান ৭২৪ এর এসএ দাগ ১৩৪৭ এর  নালিশী ০.৮৯ শতক জমিতে স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। যার স্বারক নাম্বার ৫৬৭/১৯।
ওই জমিতে চলমান নির্মাণ বন্ধ করে দিয়ে এসেছেন। বিরোধীয় জমিতে ইট বালি চুন সুড়কির কোনো কাজ করা যাবে না বলেও জানিয়ে আসেন। আর নির্মাণ কাজ চালালেই আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্তকে আটক করা হবে।
এদিকে, গ্রামের কাগজের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সাবেক এমপি মঈনুদ্দীন মিঁয়াজী। তিনি গ্রামের কাগজের এ প্রতিবেদককে ফোন করে জানিয়েছেন, দখলবাজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদটি যুক্তিযুক্ত হয়েছে। মুখোশ খুলে দেয়া হয়েছে। এ ধরণের আরও সংবাদ গ্রামের কাগজে হওয়া দরকার।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft