রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরের বাজারে নিষিদ্ধ ১০ পণ্য
অভিযান চালাবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
এম.আইউব :
Published : Wednesday, 12 June, 2019 at 6:57 AM
যশোরের বাজারে নিষিদ্ধ ১০ পণ্যহাইকোর্ট নিষিদ্ধ ৫২ পণ্যের মধ্যে ১০টি পণ্য এখনও পর্যন্ত যশোরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি মানহীন এসব পণ্য এখনও পর্যন্ত বাজারজাত করে যাচ্ছে। ঈদের মধ্যে এসব পণ্যের রমরমা বিকিকিনি হয়েছে বলে খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
গত এক সপ্তাহ যশোর শহর ও শহরতলির বিভিন্ন দোকানে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে এ তথ্য মিলেছে। কেবল যশোর শহর কিংবা শহরতলি না, জেলার বিভিন্ন বাজারেও নিষিদ্ধ এসব পণ্য বিক্রি হয়েছে বলে খবর মিলেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হয়েছে বাধাহীনভাবে। আর রমজানের মধ্যে গ্রামাঞ্চলের দোকানগুলোতে টেস্টি তানি তাসকিয়া ব্র্যান্ডের সফট ড্রিংক পাউডার বিক্রি হয়েছে প্রকাশ্যে। এটি শহরাঞ্চলে তেমন চলে না বলে সূত্র জানিয়েছে।
গত মে মাসে হাইকোর্ট ৫২ টি পণ্যকে মানহীন আখ্যায়িত করে বিক্রি নিষিদ্ধ করে। এসব পণ্যগুলো হচ্ছে, তীর ব্র্যান্ডের সরিষার তেল, জিবি ব্র্যান্ডের সরিষার তেল, পুষ্টির সরিষার তেল, রূপচান্দার সরিষার তেল, সান ব্র্যান্ডের চিপস, আরা ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফি ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজান ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ণ ডিউ ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকানের ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আর আর ডিউ ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, দীঘি ব্র্যান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি ব্র্যান্ডের নুডলস, টেস্টি তানি তাসকিয়া ব্র্যান্ডের সফট ড্রিংক পাউডার, প্রিয়া সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশ ব্র্যান্ডের হলুদের গুড়া, প্রাণের হলুদের গুড়া, ফ্রেস ব্র্যান্ডের হলুদের গুড়া, এসিআই পিওর ব্র্যান্ডের ধনিয়া গুড়া, প্রাণ ব্র্যান্ডের কারি পাউডার, ড্যানিস ব্র্যান্ডের কারি পাউডার, বনলতা ব্র্যান্ডের ঘি, পিওর হাটহাজারির মরিচের গুড়া, মিষ্টিমেলার লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাই এর লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইয়ের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মোল্লা সল্টের আয়োডিনযুক্ত লবণ, কিং ব্র্যান্ডের ময়দা, রূপসা ব্র্যান্ডের দই, মক্কা ব্র্যান্ডের চানাচুর, মেহেদি ব্র্যান্ডের বিস্কুট, বাঘাবাড়ী স্পেশালের ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মধুযুলের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিল ফুডের হুলুদের গুড়া, মধুমতি ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, সান ব্র্যান্ডের হলুদের গুড়া, গ্রীনলেনের মধু, কিরণ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিন ব্র্যান্ডের মরিচের গুড়া, ডলফিন ব্র্যান্ডের হলুদের গুড়া, সূর্য ব্র্যান্ডের মরিচের গুড়া, জেদ্দা ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, অমৃত ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিন যুক্ত লবণ, তিনতীরের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মদিনা, স্টারশিপের আয়োডিনযুক্ত লবণ, তাজ ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ ও নূর স্পেশালের আয়োডিন যুক্ত লবণ।
এসব পণ্যের মধ্যে যশোরাঞ্চলে ১০ টি পণ্য চলে। এ ১০টি পণ্য হচ্ছে, তীর ব্র্যান্ডের সরিষার তেল, পুষ্টির সরিষার তেল, রূপচান্দার সরিষার তেল, সান ব্র্যান্ডের চিপস, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, টেস্টি তানি তাসকিয়া ব্র্যান্ডের সফট ড্রিংক পাউডার, প্রাণের হলুদের গুড়া, এসিআই পিওর ব্র্যান্ডের ধনিয়া গুড়া, প্রাণ ব্র্যান্ডের কারি পাউডার ও ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কয়েকজন ডিলারের সাথে কথা বলে বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ১০ টি পণ্য যশোরাঞ্চলে বিক্রি হয়ে আসছে। বাকি পণ্যগুলো এ অঞ্চলে চলে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে, মোল্লা সল্টের লবণ যশোরে চলে বলে জানাগেছে।
খুচরা বিক্রেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ব্যবসায়ীরা এখন অনেক সচেতন। যখনই নিষিদ্ধের খবর বেরিয়েছে তখনই অনেকেই ঝামেলা এড়াতে এসব বিক্রি বন্ধ করে দেন। লোকমান হোসেন নামে এক দোকানি বলেন, যখনই নিষিদ্ধ হওয়ার খবর শুনেছি, তখনই বিক্রি বন্ধ করেছি। তবে, অনেক দোকানির বক্তব্য, কোম্পানির লোকেরা তাদের ভুল বুঝিয়ে নিষিদ্ধ সব পণ্য বিক্রি করাচ্ছে। তারা না কি বলছেন, এই পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে কোনো অসুবিধা হলে তার দায়দায়িত্ব্ তারা বহন করবেন।  
হাইকোর্ট মানহীন এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশনা দিলেও অতি মুনাফার আশায় তা বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। এসব নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি বন্ধ করতে ব্যবসায়ী সমিতির তেমন কোনো উদ্যোগ আছে বলে জানা যায়নি। যশোর জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তালিকাটা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। আমরা তালিকা অনুযায়ী দেখবো কারা এসব পণ্য বিক্রি করছে। পরে সেটি আপনাদের জানাবো।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাবিব বিন ওয়ালিদের কাছে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে তার দপ্তরে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি প্রশিক্ষণে ঢাকায় রয়েছেন। পরে মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ নিয়ে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এমনকী এসিআইয়ের ৭৫ কেজি লবণ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। অন্যান্য পণ্য পাওয়া যায়নি। তারপরও অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশিক্ষণ থেকে ফিরে নতুন করে অভিযান শুরু করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft