বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
সংবাদ সম্মেলনে গৃহবধূর দাবি
এক সময়ের ‘মৃতপূরী খ্যাত’ খিলিগাতী ডুমুরিয়া আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :
Published : Wednesday, 12 June, 2019 at 6:57 AM
এক সময়ের ‘মৃতপূরী খ্যাত’ খিলিগাতী ডুমুরিয়া আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছেসন্ত্রাসীদের তান্ডবে বাগেরহাটের চিতলমারীতে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে ২০টি পরিবারে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে। রাতে পুলিশ প্রহরায় নারী ও শিশুদের বসবাস করতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ওই পরিবারের শিক্ষাথীদের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে। তাদের প্রতিটি মুহুর্ত কাটছে আতংকে। এ সুযোগে ওই সন্ত্রাসী বাহিনী বাড়িতে হামলা-ভাংচুর, লুটপাট ও চিংড়ি ঘের লুট করছে। আর এ সবের প্রকাশ্যে মদদ দিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী শফিকুল ইসলাম ওরফে ওসমান হাওলাদার ও তার ভাইপো ইব্রাহীম হাওলাদার। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় এ সকল অভিযোগ তুলে ধরে ও প্রতিকার চেয়ে চিতলমারী উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সদর ইউনিয়নের খিলিগাতী গ্রামের শওকাত ফকিরের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করে তিনি জানান,  তার স্বামীর সাথে দেড় মাস আগে পাওনা টাকা নিয়ে একই গ্রামের ইব্রাহীম হাওলাদার-রবিউল হাওলাদারদের সাথে মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ ঘটনার পরে রুবেল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি মারা গেলে ভয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ ২০ টি পরিবার পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়ে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার প্রভাবশালী ও সদর ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ওরফে ওসমান হাওলাদারের নের্তৃত্বে ইব্রাহীম হাওলাদার, পরশ হাওলাদার, হৃদয় হাওলাদার, রবিউল হাওলাদার, ইমরান, সিরাজ হাওলাদার, আলম শেখ, রিপন খাঁসহ ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী তাদের বসত বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও পরিবারে মহিলা সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। এ ছাড়াও সন্ত্রাসীরা তার স্বামী, দেবর, ভাসুরের প্রায় ২০ টি চিংড়ি ঘের থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ লুট করেছে। সন্ত্রাসীদের তা-বের ভয়ে তাদের বংশের ছেলে-মেয়েরা দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজেও যেতে পারছেনা। এ হামলাকারীরা দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় অবাধে সন্ত্রালী কর্মকা- পরিচালনা করা ও চরমপন্থী দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় কেউই তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না।
ইয়াসমিন বেগম আরও বলেন ‘সন্ত্রাসী কর্মকা-ের জন্য ২০০৫ সালে জনতার গণপিটুনিতে ইমরান ও সিরাজ হাওলাদারের ভাই টাইগার হাওলাদার নিহত হয়। টাইগার নিহত হওয়ার পরে রায়গ্রাম, খিলিগাতী, খড়িয়া-আড়–লিয়া, চিতলমারী সদর ও বাগেরহাট সদর উপজেলার সিংগা এলাকায় এই সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রায় ১৫ জন সদস্য বিভিন্ন সময় জনতার গণপিটুনিতে মারা যায়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীরা সাময়িক সময়ের জন্য গা ঢাকা দিলেও বর্তমানে তারা লুৎফর হাওলাদারের নেতৃত্ব এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’
এ ব্যাপারে সব অভিযোগ অস্বীকার করে চিতলমারী সদর ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ওসমান হাওলাদার মুঠোফোনে জানান, সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। রুবেল হাওলাদার হত্যা মামলা হতে মুক্তি পেতে ওরা নানা তালবাহানা করছে।
তবে ডুমুরিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (টুআইসি) প্রভাষ সরকার জানান, যে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে বর্তমানে খিলিগাতী ও ডুমুরিয়া বাজারে পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft