মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কোনক্রমেই থামানো যাচ্ছেনা ভয়াবহ আর্সেনিক
২২ জনের মৃত্যুতে ভয় যেন গ্রাস করেছে চৌগাছার মাড়ুয়া গ্রাম
শাহানুর আলম উজ্জ্বল/শামীম রেজা, চৌগাছা (যশোর) থেকে :
Published : Wednesday, 12 June, 2019 at 6:57 AM
২২ জনের মৃত্যুতে ভয় যেন গ্রাস করেছে চৌগাছার মাড়ুয়া গ্রামচারপাশের ইটের প্রাচীর, লোহার গেট। বাড়ি দেখলেই বোঝা যায়, পরিবারটি সচ্ছল। কিন্তু গেটে তালা দেখে যে কারো প্রশ্নের জন্ম হয় বাড়িটি ঘিরে। যশোরের চৌগাছা উপজেলার মাড়ুয়া গ্রামের এই বাড়িতে এখন আর কেউ থাকে না। এই বাড়ির ৩ জন আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বেঁচে আছেন আয়ুবের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৬)। আর্সেনিকের ভয়ে তিনি মহেশপুরে বাবার বাড়িতে থাকেন। এমন এক ভয়াবহ গ্রামের নাম মাড়ুয়া। চার হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ৭০ শতাংশ নারী, পুরুষ বিভিন্ন মাত্রায় আর্সেনিকে আক্রান্ত। ভয়াবহ আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত এ গ্রামেই মৃতের সংখ্যা ২২ জন। সহনীয় মাত্রা প্রতিলিটারে ০.৫ মিলিগ্রাম হলেও এ গ্রামের গড় মাত্রা ৮৫ মিলিগ্রাম। গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় মাত্রা রয়েছে ১০০ মিলিগ্রাম। বলা চলে এক ভয়াবহ অবস্থা। হতাশা, ভয় আর আশংকার মধ্যে গ্রামের মানুষ চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন সংগ্রাম।
সরজমিন মাড়ুয়া গ্রামে গেলে, আর্সেনিকের ভয়াবহতা লক্ষ্য করা যায়। অধিকাংশ মানুষই এ রোগের শিকার। সকলের মধ্যে চরম হতাশা আর অজানা আতংক। জগদীশপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর ইমতিয়াজ আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আর্সেনিকের গ্রাম বললে সকলে মাড়ুয়া গ্রামকে বোঝেন। এ গ্রামের অল্পসংখ্যক লোকজন বাদে সকলে আর্সেনিকের রোগী। আমি নিজেও এ রোগের শিকার। তিনি বলেন আর্সেনিক রোগের কারনে দুটি পরিবারের দুইজন মহিলা ছাড়া ১০ জন মারা গেছেন। জাপানি সংস্থা জাইকার সহযোগিতায় এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক ২০০৩ সালে বিভিন্ন গ্রাবেল সেন্ড ফিল্টার, আর্সেনিক আয়রণ রিমুভাল প্ল্যান্ট ও ডাগ ওয়েল তৈরি করলেও সেগুলোর অধিকাংশ নষ্ট। গ্রামের মানুষ আগে থেকে সচেতন। তবে যেসব পাড়ায় প্ল্যান্টগুলো নষ্ট, সেখানের মানুষজন নিরাপদ পানি না পেয়ে বাধ্য হয়ে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আর্সেনিক রোধে পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, মাড়ুয়াসহ জগদীশপুর ইউনিয়নে আমরা পাতকুয়ার ব্যবস্থা করেছি। তবে মাড়ুয়া গ্রামকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি বেশী। কিন্তু দেখা গেছে, পানির স্থর নীচে নেমে যাওয়ার কারনে ওই সকল পাতকুয়া থেকে মানুষ নিরাপদ পানি আর পায়না। তারপরও আমরা বারবার জনগনকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।
এ গ্রামের বাসিন্দা ও এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের সংগঠক লুৎফর রহমান (৫১) এর কাছে আর্সেনিকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে সর্ব্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০১ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার পানিতে। কিন্তু দেশে ০.৫ মিলিগ্রাম সহনীয় মাত্রা ধরা হয়। তিনি বলেন, উপজেলার মাড়–য়া গ্রামে গড়ে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, ৮৫ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে। তবে মাড়ুয়া দক্ষিন পাড়ায় ১০০ মিলিগ্রাম উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভয়াবহ মাত্রার চেয়েও বেশী। বর্তমানে এ গ্রামে ২৫’শ থেকে ৩ হাজার রোগী রয়েছে। যা প্রমানিত। আমি নিজেই আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত। আর্সেনিকের কারনে আমার ফুসফুস ক্যান্সার দেখা দেয়। সেকারনে ঢাকা থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ করে অপারেশন করি। আমার ফুসফুসের বামপাশের অংশটি কেটে ফেলা। কোনমতে এখন বেঁচে আছি। তিনি এ গ্রামের আর্সেনিক বিষয়ে গবেষণার নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০১ সালে এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক মাড়ুয়া গ্রামে বিশেষ গবেষণা শুরু করেন। মাটি, পানি, মানুষের রক্ত, মলমূত্রসহ নানান বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান। তারা আর্সেনিকযুক্ত পানির উৎস বন্ধ করার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে নিরাপদ পানির জন্য গ্রাবেল সেন্ড ফিল্টার (জি এস এফ), পন্ড সেন্ড ফিল্টার (এ এস এফ), আর্সেনিক আয়রণ রিমুভাল প্ল্যান্ট ও ডাগ ওয়েল নির্মাণ করেন। ২০০৮ সালে তাদের প্রজেক্ট শেষ হয়। পানির স্তর নিচে নেমে যাবার কারনে উল্লেখিত প্ল্যান্ট থেকে মানুষ পানি সংগ্রহ করতে পারেনা। প্রজেক্ট শেষ হলেও তারা এ গ্রামকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফলোআপে রাখেন। পরবর্তীতে মানবিক বিবেচনায় উন্নত প্রযুক্তি ও মেশিনের মাধ্যমে তারা পুরো গ্রামে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেন। যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৫ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুর জেলায় জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যাকান্ডের শিকার হলে ওই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। তিনি আরো জানান, আমরা শুনেছি, উন্নতমানের কিছু যন্ত্রপাতি জাপান থেকে এসেছিল, কিন্তু হত্যাকান্ডটির পর তা ফেরত চলে যায়। তিনি বলেন আমি এই নেটওয়ার্কের সংগঠক হিসাবে তাদের সাথে কাজ করেছি। তাদের শেখানো প্রাথমিক কাজ এখনো আমি অসুস্থ থেকেও চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের তথ্য মতে, বিভিন্ন মাত্রায় এই গ্রামের ৭০ শতাংশ মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত। তথ্যটি আগের হলেও বর্তমানেও একই অবস্থা রয়েছে বলে আমি মনে করি। হয়তো নতুন করে যে সব শিশুরা জন্ম নিচ্ছে, কষ্ট হলেও তাদের আমরা নিরাপদ পানি পান করাতে চেষ্টা করছি। কিন্তু অন্যরা যারা আছেন তাদের অধিকাংশই আর্সেনিকে আক্রান্ত। তিনি বলেন, ৫০ শতাংশ মানুষ অতিমাত্রায় আক্রান্ত, ২৫ শতাংশ মধ্যম মাত্রা আর ২৫ শতাংশ মানুষ ভালো আছেন। তিনি তথ্য নিশ্চিত করেন, এ গ্রামে ২২ জনের বেশী লোকজন আর্সেনিকে মারা গেছেন।
ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে জানা গেছে, এ গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৪ হাজার। ভোটার রয়েছে ২১’শ ১৬ জন। গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম (৫২) জানান, আমার ”পুরি সব শেষ হয়ে গেছে বাবা”। আমার ডান হাতের দুটি আঙ্গুল কেটে ফেলতে হয়েছে। ২০০০ সালের ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় আমার অপারেশন হয়। আমি এখনো সুস্থ না। বর্তমানে আমি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ জি এম ফারুকের কাছে চিকিৎসাধীন রয়েছি। আমার সারা শরীরে আর্সেনিকের দাগ। আর্সেনিকের কারনে আমাদের পরিবারে ৭ জন মৃত্যুবরণ করে। তিনি জানান, ১৯৯০ সালে প্রথম মৃত্যুবরণ করে আমার দেবর আনিছুর রহমান (২০), তারপর ১৯৯১ সালে আমার শ্বশুর গ্রাম্য ডাক্তার ইয়াকুব আলী (৭০), ২০০৪ সালের ২৯ জানুয়ারি স্বামী মুক্তিযোদ্ধা আলতাপ হোসেন (৫৫), ২০০৬ সালে শাশুড়ী নূরজাহান (৬৫) মারা যান, ২০০৮ সালে আমার স্বামীর ভাই সাবেক কৃষি অফিসার আব্দুল আজিজ (৫২), ২০০৯ সালে ইউছুপ আলী (৩৫), ২০১৩ সালে ইউছুপের স্ত্রী সালমা খাতুন (৩০) মারা যান। সকলে আর্সেনিকোসিস রোগে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত ছিল। জাপানি সংস্থা জাইকা তাদের নিশ্চিত করে, তারা সকলে আর্সেনিকের কারনে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া আরো একটি পরিবারে ৩ জন আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। গ্রামের লোকজন জানান, এই পরিবারে ২০০৭ সালে কাশেম আলী (৬০) মৃত্যুবরণ করেন, ২০১৩ সালে তার স্ত্রী পদ্মা খাতুন (৫৩) এবং ২০১৬ সালে ছেলে আয়ুব হোসেন (৩৮) মারা যান। এই পরিবারে মৃত্যুবরণকারী আয়ুব হোসেনের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৬) বেঁচে আছেন। পরিবারের তিনজনকে হারিয়ে আর্সেনিকের ভয়ে তিনি মহেশপুরে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। বিশাল বাড়িটি প্রায় দুই বছর শুনশান নিরবতা। তালাবদ্ধ অবস্থায় বাড়িটি পড়ে আছে। জমি জায়গা যা আছে তা বর্গালিজ দেয়া। বছরের ২বার এসে তিনি টাকা পয়সা নিয়ে চলে যান। খোঁজখবর নেবার জন্য তার বাড়ির সামনে গেলে মেইন গেটে তালাবদ্ধ দেখা যায়। এ সময় গ্রামের শিউলি খাতুন জানান, আর্সেনিকের ভয়ে জাহানারা বাড়ি ঘর ফেলে বাবার বাড়িতে থাকেন। তার সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নাম্বার পাওয়া যায়নি। সে কারনে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এছাড়া আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন আকরাম হোসেন (৪০)। তিনি আর্সেনিকে আক্রান্ত হবার পর বাম হাতের দুটি আঙ্গুল কেটে ফেলতে হয় অপারেশনের মাধ্যমে। তারপরও দারিদ্রতা ও অভাবের কারনে চিকিৎসা নিতে না পারায় ভুগেভুগে অবশেষে মারা যান। ভয়াবহ আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে ২০১৫ একই গ্রামের নূর ইসলাম (৫৫), ২০০৬ সালে হোসেন আলী (৫০), ২০০৫ সালে স্ত্রী ময়না বিবি (৪০),  ২০০২ সালে মুকতার আলী (৪৫), ২০১২ সালে আতিয়ার রহমান (৪৮), ২০০৩ সালে আক্কাচ আলী (৪৪), ২০০২ সালে মনসের আলী (৪২), ১৯৯৮ সালে ইলাহুড়ি (৬৭), ২০১৩ সালে ইউনুচ আলী (৫৫) মৃত্যুবরণ করেন। সকলের মৃত্যু আর্সেনিকোসিস রোগের কারনে হয়েছে বলে জাইকার পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে।
আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত মাড়ুয়া বাজার মসজিদের মুয়াজ্জেন আনছার আলী (৬৫) জানান, তিনি ২০ বছর ধরে এ রোগে ভূগছেন। এখন তার শ্বাসকষ্ট আর হার্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। অসুস্থতার কারনে ঠিকমত মসজিদে যেতে পারেননা। তিনি বলেন মাঠান ১০ কাঠা জমিও তিনি বিক্রি করেছেন। তারপরও সুস্থ হননি। অনেক কষ্ট ও অভাবের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন বলে তিনি জানান। একই গ্রামের আর্সেনিক রোগী জাহানারা বেগম (৬৫), মমতাজ বেগম (৪৪), মিজানুর রহমান (৫৭), রফিউদ্দীন (৫৫), জহুরা বেগম (৪৮), রাজুবালা (৫৬), মাজেদা বেগম (৩২), হাকিম দর্জি (৪০), তাবারক আলী (৫০), মাইরুন বেগম (৩৫), রকিবউদ্দীন (৩২)সহ অনেকের সাথে কথা হয়। রোগীরা জানান, আর্সেনিক রোগ হবার পর তাদের শরীর বিবর্ণ হয়ে গেছে। কারো পা ফুলে গেছে। পায়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। শরীর দুর্বল হয়ে শক্তি-ক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলছেন। পরিশ্রমের কাজ তেমন করতে পারেননা। অনেকে জানান, দু’একটি ছাড়া অধিকাংশ পানির প্ল্যান্ট নষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি পানির স্থর নীচে নেমে যাবার কারনে তারা নিরাপদ পানি পান করতে হিমশিম খান। আর্সেনিকের ভয়াবহতার ফলে এ এলাকায় দেখা দিয়েছে সামাজিক সমস্যা। বাইরের এলাকার সচেতন লোকজন জেনে বুঝে মাড়ুয়া এলাকায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে অনিহা প্রকাশ করেন। সকলের মধ্যে পানিই যেন অভিশাপের মত। আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষ তাদের জায়গা জমি বিক্রি করে নিস্ব হয়েছেন। গ্রামের শিশুরাও সব সময় অপুষ্টিতে ভোগেন। যারা একটু স্বচ্ছল তারা অনেকে উপজেলা শহর বা অন্যত্র বসবাস করছেন সন্তানদের মানুষ করার জন্য। তবে গ্রামে নারীদের ক্ষেত্রে দু’ধরনের পরিবর্তণ লক্ষনীয়। সেটা হলো গ্রাম অন্যত্র যাদের বিয়ে হয় তারা হাফ ছেড়ে বেঁচে যান। আর সেসব নারীদের মাড়ুয়া গ্রামে বিয়ে হয় তারা নেমে পড়েন পানি সংগ্রহের যুদ্ধে। কিংবা ধীরেধীরে আর্সেনিকের বিষে আক্রান্ত হন। এলাকার জনশক্তি দিনদিন ক্ষীণ হচ্ছে। শারীরিক কাঠামোতেও ধীর গতিতে পরিবর্তন আসছে বলে গ্রামবাসীর অনেকে জানান। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ফিল্ড এ্যাসিসট্যান্ট ফারুক হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সহনীয় মাত্রা প্রতিলিটারে ০.৫ মিলিগ্রাম হলেও এই মাত্রার চেয়ে উপজেলায় আর্সেনিকের আধিক্য বেশী। উপজেলায় গড়ে ২০ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে আর্সেনিকের উপস্থিতি আছে। কিন্তু মাড়–য়া গ্রামে ৮৫ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে পাওয়া গেছে। এ গ্রামের কোন কোন স্থানে এর চেয়ে বেশীও আর্সেনিকের উপস্থিতি পরীক্ষার মাধ্যমে লক্ষ্যনীয়।
আর্সেনিকের ভয়াবহতা নিয়ে কথা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাসুদ রানা জানান, যে সমস্ত লোক আর্সেনিক আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের তালিকা তৈরি করে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। প্রাথমিকভাবে এই রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার পাশাপাশি আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করলে রোগ ভাল হওয়া সম্ভব। তিনি আরো বলেন, জনগন সচেতন হলে, নিরাপদ খাবার পানির জন্য টিউবওয়েলের উপর ভরসা করার দরকার নেই। সে ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে পান করতে পারি। এছাড়া অনেক পুকুর বা জলাশয় আছে। সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করে ফুটিয়ে খেতে পারি। আর্সেনিক মারাত্মক বিষ। যা মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুল আলম জানান, আর্সেনিক সমস্যা এ অঞ্চলে অনেক দিনের। সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা রয়েছে, মাড়ুয়া গ্রামে। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ আর্সেনিকজনিত রোগের শিকার। তিনি বলেন আমরা যে টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করছি, তার অধিকাংশই এখন নিরাপদ নয়। সামান্য মাটির গভীরে টিউবওয়েল বসানোর এই সিস্টেম পরিবর্তন করা দরকার। তার পরিবর্তে আমরা পাতকুয়া ব্যবহার করতে পারি। আর্সেনিকযুক্ত এরিয়ায় সরকার সেদিকে নজর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ভূক্তভোগীদের মধ্যে পাতকুয়া দেয়া হচ্ছে। তাই সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি জনগনকেও সচেতন হতে হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft