বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
শিশুদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেবেন না : রাষ্ট্রপতি
কাগজ ডেস্ক :
Published : Wednesday, 12 June, 2019 at 9:38 PM
শিশুদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেবেন না : রাষ্ট্রপতিশিশুদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা-২০১৯’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিভা বিকাশের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেন, শিশুদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেবেন না। অসুস্থ প্রতিযোগিতা তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে।
রাষ্ট্রপ্রধান শুধুমাত্র জিপিএ-৫ এর পিছনে না ছুটে শিশুদের জন্য প্রকৃতি থেকে শিক্ষা লাভের এবং প্রয়োজনীয় মানবিক মূল্যবোধের সাথে বেড়ে উঠার সুযোগ সৃষ্টির জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
শিশুদেরকে সকল ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাহলেই শিশুরা দেশ ও জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে।
ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই শিশুদের মাঝে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ঘটানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, তোমাদের (শিশু) অবশ্যই দেশকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। কখনো অন্যায় ও অসত্যের সাথে আপোষ করবে না।
আব্দুল হামিদ বলেন, যদি তুমি সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের পথে চল, তবে জীবনে সফল হতে পারবে।
রাষ্ট্রপতি হামিদ ২০২১ সালে দেশের স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তি ও ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কথা উল্লেখ করে শিশুদের কাছে দেশের স্বাধীনতা ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে উৎসাহিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের কথা উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধু শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে জাতীয় শিশু আইন -১৯৭৪ প্রণয়ন করেছিলেন।
তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা শিশুদের অনেক ভালোবাসতেন। তিনি তাদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর শৈশবের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশুকাল থেকেই জাতির পিতা দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতেন ও তাদের সাহায্য করতেন। এমনকি তিনি একজন গরিব লোককে তাঁর পরনের শার্ট খুলে দিয়েছিলেন এবং শার্ট ছাড়াই বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন।
তিনি আরো বলেন, তোমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি অত্যন্ত সাহায্যকারী এবং অসামান্য নেতৃত্বগুণ সম্পন্ন মানুষ ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে জ্যেষ্ঠ নাগরিক, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করতে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সকলের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, পাঠ্যসূচির মাধ্যমে শিশুদের মাঝে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করুন, যাতে করে তারা কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামী থেকে মুক্ত থাকতে পারে।
রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, আজকের শিশু আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবে। তারা দেশশ্রেম, বাংলা ভাষা, মুক্তিচিন্তা ও মানবিক নৈতিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালী সংস্কৃতিকে তুলে ধরবে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি ২৩৭ জন বিজয়ীর ৩০ জনের মাঝে পুরস্কার ও পদক বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চেয়ারম্যান মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক আনজির লিটন উপস্থিত ছিলেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft