রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
আটক নয় পুরস্কৃত করা উচিৎ, ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে : ওসি মোয়াজ্জেমের মা
অভিজিৎ ব্যানার্জী :
Published : Thursday, 13 June, 2019 at 6:13 AM
আটক নয় পুরস্কৃত করা উচিৎ, ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে : ওসি মোয়াজ্জেমের মাযশোরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার বাড়িতে অবস্থান করা ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের মা মনোয়ারা বেগম দাবি করেছেন, তার ছেলেকে আটক নয়, বরং পুরস্কৃত করা উচিৎ। তার ছেলের জন্যই নুসরাতের হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে। অথচ তাকেই ফাঁসানো হচ্ছে, সে জীবনে কোনো অন্যায় কাজ করেনি। তিনি চান ছেলে নিরাপদে ফিরে আসুক, নুসরাত হত্যারও বিচার হোক। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানের জবানবন্দি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো মামলার মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতক আসামি সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের যশোরের পৈত্রিক বাড়িতে খোঁজ-খবর নিতে গেলে এ ধরনের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন মা মনোয়ারা বেগম।  
১২ জুন বাড়িতে গেলে তথ্য মেলে, বাবা খন্দকার আনসার আলীর চাকরির সুবাদে তারা দীর্ঘদিন যশোর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করেছেন। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। তার এক ভাই সৌদি আরবে ও আরেক ভাই আমেরিকা প্রবাসী। তাদের আদি বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রামে। ১৯৯৭ সালে উপ-পরিদর্শক পদে পুলিশে যোগদান করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০১০ সালের দিকে পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। প্রায় দেড় বছর সোনাগাজী থানায় ওসির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের পৈত্রিক এই দোতলা বাড়িতে তার ছোট দুই ভাই ও একমাত্র বিবাহিত বোন ও মা থাকেন।
স্বজনদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে পরিবারের সাথে যোগাযোগ নেই তার। কোথায় আছেন, কেমন আছেন, সেটিও তাদের জানা নেই। ওসি মোয়াজ্জেমের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, তার ছেলে জীবনে কোনো অন্যায় কাজ করেনি। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমার ছেলে নিরাপদে ফিরে আসুক, এটাই আমার দাবি।
অভিযোগ ওঠে, নুসরাত যখন চিকিৎসাধীন ছিলেন তখন আসামিদের আটক না করে মামলা দায়ের বিলম্বিত করেছেন ওসি মোয়াজ্জেম। ৮ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঘটনায় কোনও আসামি ছাড় পাবে না ঘোষণা দিলে ওসি মোয়াজ্জেমের ভিডিও ছড়ানোর বিষয়টি সামনে চলে আসে।
এরপর গত ১৫ এপ্রিল সুপ্রিম কোটের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।
একপর্যায়ে ফেনীর সোনাগাজী থানা থেকে তাকে প্রত্যাহার করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। রংপুর রেঞ্জে যোগ দিলেও ঈদের পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।
এদিকে গত ২৬ মে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামস জগলুল হোসেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ১৭ জুন পরোয়ানা তামিল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়।
যশোরের বাড়িতে অবস্থান করা ওসি মোয়াজ্জেমের ভাই আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, ওয়ারেন্ট জারির (২৬ মে) পর আর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেননি ভাই। আগে নিয়মিত কথা হত। এখন কোথায় আছেন, কেমন আছেন জানি না। নুসরাত হত্যার মূল মামলা বাদ দিয়ে ভাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার ক্রাইম মামলা নিয়ে বেশি তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নুসরাত হত্যার মূল আসামিদের অনেকে এখনো আটক হয়নি।
তিনি বলেন, নুসরাতের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি তার ভাই প্রকাশ করেননি। অন্য একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। এই অপরাধে সাইবার ক্রাইমের মামলা দেয়া হয়েছে। অথচ ওই ভিডিওটি নুসরাতের দেয়া বড় ডকুমেন্ট। যার ভিত্তিতে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাহ আটক হয়েছিল। যার জন্য ভাইকে পুরস্কৃত করা উচিত ছিল। সেটি না করে উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের কাছে খোঁজ নেন, আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। কর্মজীবনে কোনো অপরাধের তথ্য নেই তার। সাধারণ জীবনযাপন করেন। এ ঘটনার পর নানা রকম কথা শুনতে হচ্ছে তাদের।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft