বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
সম্পাদকীয়
বছরব্যাপী চলুক ভেজালবিরোধী অভিযান
Published : Thursday, 13 June, 2019 at 6:13 AM
দেশে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভেজালবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন করে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে
ভেজাল পণ্যে নাকাল পুরো দেশ। বর্তমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা শিশুদের খাদ্যে চলছে ভেজাল দেওয়ার প্রতিযোগিতা। রূপচর্চার জন্য কসমেটিক্স, মানুষের শরীরের শারীরিক বৃদ্ধি কিংবা শক্তিবর্ধক ভিটামিন ওষুধ, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রধানতম মাধ্যম পানিতেও দেওয়া হচ্ছে ভেজাল, যা খেয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জীবন আজ হুমকির মুখে। আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান, তাই এদেশের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীই কৃষিকে নিয়ে তাদের জীবন সাজাচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধে চলছে ভেজাল দেওয়ার রমরমা ব্যবসা। ভেজালযুক্ত পণ্য দিয়ে কোম্পানিগুলো তৈরি করছে নিম্নমানের পণ্য। সম্প্রতি বিএসটিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়, গেল পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে খোলা বাজার থেকে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা ক্রয় করে বিএসটিআইর ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩১৩টি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫২টি পণ্য পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, ভেজাল পণ্যগুলো হলো সিটি অয়েলের সরিষার তেল, গ্রিন বি চিংয়ের সরিষার তেল, শবনমের সরিষার তেল, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের সরিষার তেল, কাশেম ফুডের চিপস, আরা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজান ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকান ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, দীঘি ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি নুডলস, শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার, জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশের হলুদগুঁড়া, প্রাণের হলুদগুঁড়া, ফ্রেশের হলুদগুঁড়া, এসিআইর ধনিয়াগুঁড়া, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারি পাউডার, বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচগুঁড়া, মিষ্টিমেলা লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাইর লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইর আয়োডিনযুক্ত লবণ, মোল্লা সল্টের আয়োডিনযুক্ত লবণ, কিংয়ের ময়দা, রূপসার দই, মক্কার চানাচুর, মেহেদির বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মঞ্জিলের হলুদগুঁড়া, মধুমতির আয়োডিনযুক্ত লবণ, সান ফুডের হলুদগুঁড়া, গ্রিন লেনের মধু, কিরণের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিনের মরিচগুঁড়া, ডলফিনের হলুদগুঁড়া, সূর্যের মরিচগুঁড়া, জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মদিনার আয়োডিনযুক্ত লবণ, নুরের আয়োডিনযুক্ত লবণ। নামিদামি কোম্পানিগুলোর এমন ভেজালপণ্যের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মানুষের জীবন আজ হুমকির মুখে।
দেশে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভেজালবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন করে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ভেজাল প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে অতি মুনাফালোভী, অসাধু খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে পারলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার জনগণ ভেজালমুক্ত পণ্য পাবে। সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ। আগামী প্রজন্ম পাবে ভেজালমুক্ত বাংলাদেশ। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft