রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদের
শামছউদ্দিন সায়েম, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি :
Published : Sunday, 16 June, 2019 at 3:24 PM
দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদেরসংস্কারের অভাব ও অযতœ আর অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতœতাত্বিক নিদর্শন প্রায় ৪ শত বছর পুরোনো ইসলামী স্থাপত্যে টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ। বর্তমানে মসজিদটির তিনটি দেওয়ালের একটি দেওয়ালের মাটির কারুকাজ করা মৌটিফ গুলোতে লোনা ধরে গেছে। শেওলা জমে নষ্ট হতে বসেছে এই সব কারুকাজ।বৃষ্টি হলে মসজিদে চুয়িয়ে চুয়িয়ে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে। এ ছাড়া আগের দিনে মসজিদের মুসুল্লিদের ওজুর জন্য সামনে একটি পুকুর খনন করা হয়েছিল। পুকুরটিতে বিভিন্ন ধরনের কচ্ছপ দেখা যেত। বর্তমানে মসজিদের এই পুকুরটিতে গৃহস্থালীর কাজ সহ কাপড় কাঁচা, গণহারে এলাকায় লোকজন গোছল করে। ফলে কচ্ছপ গুলো এখন বিলুপ্ত  হয়ে গেছে।বিভিন্ন গণমাধ্যমে  এই  সব সংবাদ প্রকাশিত হবার পরও সংশিষ্ট বিভাগ কোন ধরনের  সংস্কারের উদ্যেগ গ্রহন করেনি।  
চুন সুরকির দ্বারা নির্মিত ৪ কোণে ৪টি অষ্টকোণাকৃতির মিনার বিশিষ্ট এই মসজিদটি সুলতানি ও মোগল স্থাপত্য রীতির সুস্পষ্ট নিদর্শন। মসজিদটি আকারে বেশ ছোট, তবে এর মনোমুগ্ধকর কারুকার্য হার মানায় তার আয়তনকে। ৫টি প্রবেশদ্বার সম্বলিত মসজিদটির সামনের অংশে পোড়ামাটির বিভিন্ন নকশা আঁকা ৩টি দেওয়াল রয়েছে। মসজিদটির কার্নিশে শিল্পকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে তৎকালীণ বাংলার বেশকিছু রূপ। এছাড়া পোড়ামাটির তৈরি অসংখ্য ফুলের নকশা থাকার কারণে আতিয়া মসজিদটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। ষোড়শ শতাব্দিতে নির্মিত এই মসজিদটি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের পুরাতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের মতাদর্শের অনেকেই এখানে আসেন নিজের মনের বাসনা পূরনের জন্য মানত করতে।তবে মজার বিষয় হচ্ছে, রোগমুক্তির জন্য মসজিদের দেয়ালের পোড়ামাটি নিজের গায়ে মাখা ও সেগুলো খাওয়ার গল্পটি শোনা যায় অনেক দর্শনার্থীর মুখে। আর তাদের এসব কার্যকলাপে মসজিদটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার মুদ্রিত ১০ টাকার নোটে স্থান পায় ঐতিহাসিক এই মসজিদের ছবি।
 এক জন দর্শনাথীর্, ঢাকা উত্তরার জসিম উদ্দীন রোড় এর বাসিন্দা আবির আহমেদ  বলেন, আমি বেশ ক’বার এসেছি মসজিদটি দেখতে। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে জীর্ণ অবস্থা আতিয়া মসজিদের । দ্রুত এর সংস্কার করা প্রযোজন।
স্থানীয় আতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান  প্রকৌশলী সিরাজ মল্লিক বলেন,  যত দ্রুত সম্ভব এই মসজিদের সংস্কারের প্রয়োজন। কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছি।বরাদ্দ পেলেই সংস্কার করা হবে । সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবী আতিয়া মসজিদের ছবি সহ ১০ টাকার নোটটি পুরনায় চালু করা হোক।
এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সংস্কার প্রসঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক মারুফ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত জন গুরুত্বপূর্ন। এই মসজিদ রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করি, মসজিদটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে কতৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft