রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
গ্রামের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পরই কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ
যমেক হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন মেরামত
ফয়সল ইসলাম :
Published : Tuesday, 18 June, 2019 at 6:56 AM

যমেক হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন মেরামতযশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিগড়ে যাওয়া ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন মেরামত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার গ্রামের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পরপরই কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগে বিকেলে ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে মেশিন মেরামত শুরু করেন। রাতেই মেরামত সম্পন্ন করে নতুন মেশিনেই আজ সকাল থেকে এক্স-রে করানো যাবে বলে নিশ্চিত করেন ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা।
তবে এক্স-রে মেশিনটি নিরাপদে চালানোর জন্যে অতি প্রয়োজনীয় অটো ভোল্টেজ স্টাবলাইজার স্থাপন করা হয়নি। ফলে বিদ্যুতের ভোল্টেজ আপ-ডাউন করলে মেশিনটি পুড়ে স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন টেকনোলজিস্টরা।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংযোজিত নতুন এক্স-রে মেশিনটি প্রায় অর্ধকোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে। মেশিনটির প্রকৃত বাজার মূল্য ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার মধ্যে। এছাড়াও (কম্পুটেড রেডিওগ্রাফি) সিআর মেশিন ও প্রিন্টার কেনা হয়েছে ৩৫ লাখ দিয়ে। এটির বাজার মূল্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে। সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপো (সিএমএসডি) ডিটিআইএল নামে একটি কোম্পানির মাধ্যমে মেশিন ক্রয় করে হাসপাতালে সরবরাহ করেছে। এক্স-রে মেশিনটি ইতালির তৈরি বলে দাবি করা হচ্ছে। তা প্রমাণ করতেই ইতালির জেনারেল মেডিকেল মিরেট এসপিএ কোম্পানির স্টিকার এক্স-রে মেশিনের বডিতে লাগানো হয়েছে। সিআর মেশিন ও প্রিন্টার জাপানের ফুজি কোম্পানির তৈরি বলে দাবি করা হচ্ছে। টেকনোলজিস্টসহ অভিজ্ঞদের মতামত চায়না কোম্পানি থেকে নি¤œমানের মেশিন সংগ্রহ করে ইতালি ও জাপানের তৈরি বলে প্রচার করা হচ্ছে। এ কারণেই পরীক্ষামূলকভাবে চালুর কয়েকদিনের মধ্যেই মেশিন নষ্ট হয়েছে।
নষ্ট মেশিন মেরামত করতে আসা ডিটিআইএল কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা জানিয়েছেন, চেস্ট স্টান্ডের লক, এক্স-রে মেশিনের গ্রিড ফাংশনের ট্রে লক ও সিআর মেশিনের প্রিন্টারের ট্রে লক ঠিক করা হয়েছে। একই সাথে এক্স-রে মেশিনের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংযোগ ঠিক করে দেয়া হয়েছে। নতুন মেশিন দিয়ে এক্সপোস (ছবি তুলে) দিয়ে সিআর মেশিনের মাধ্যমে প্রয়োজনানুযায়ী ছোট-বড় সব প্রকারের ফ্লিম প্রিন্ট দেয়া যাবে।
অটো ভোল্টেজ স্টাবলাইজার স্থাপন করা হলো না কেন জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, সম্ভবত মেশিনের সাথে সেটি সরবরাহের কোনো চুক্তি ছিল না। বিদ্যুতের ভোল্টেজ আপ-ডাউন করলে এক্স-রে মেশিনের কোনো ক্ষতি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হতেই পারে।  মেশিনে পরিমাণের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হলে তা পুড়ে স্থায়ীভাবে অকেজো হতে পারে। আবার লো ভোল্টেজ হলে মেশিন চলবে না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু জানিয়েছেন, নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানতে পেরে সিএমএসডিসহ সরবরাহকারী কোম্পানির সাথে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করা হয়। গতকালই ইঞ্জিনিয়ার এসে মেশিন মেরামতের কাজে হাত দেন। আজ থেকেই নতুন মেশিনে পুরোদমে ডিজিটাল এক্স-রে করানো সম্ভব হবে। মেশিনটি সু-রক্ষিত রেখে ও নিরাপদে কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে অতি প্রয়োজনীয় অটো ভোল্টেজ স্টাবলাইজার সিএমএসডি থেকে পাওয়া যায়নি। তাই বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগের কাছে চাহিদা দিয়ে অতিদ্রুত অটো ভোল্টেজ স্টাবলাইজার সংগ্রহ করে স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft