বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
হাসপাতালে বসেই সরকারি সেবার অপপ্রচার !
রোগীর কথা শেষ না হতেই বেসরকারি ক্লিনিক থেকে টেস্টের ফর্দ
কাগজ সংবাদ :
Published : Wednesday, 19 June, 2019 at 6:40 AM
হাসপাতালে বসেই সরকারি সেবার অপপ্রচার !হাসপাতালে বসেই সরকারি সেবার অপপ্রচার !সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাবের পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট সঠিক হয় না! আল্ট্রাসনো রিপোর্টও ভুল করেন ডাক্তার! এমন নানা নেতিবাচক কথা বলে সাধারণ রোগীদের নিয়মিত বিভ্রান্ত করে চলেছেন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে কর্মরত ডাক্তার মাধবী রানী বিশ্বাস। তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সরকারি হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে শুধু বদনামই শুনতে থাকেন।
ডাক্তার মাধবী বিশ্বাস রোগীদের আনা সরকারি টিকিটে ওষুধের পরিবর্তে প্যাথলজিক্যাল টেস্টের নাম লিখে নির্দিষ্ট একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। প্রতিদিনই শতাধিক রোগী ডাক্তার মাধবীর কথায় ফেঁসে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খুয়াচ্ছেন। আর মাস শেষে ওই ক্লিনিক থেকে মোটা অংকের কমিশন পাচ্ছেন ডাক্তার মাধবী। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ সকল ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ডাক্তার মাধবীকে বেসরকারি ক্লিনিকের ইজারাদার এবং কমিশনখোর হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন। কর্তৃপক্ষ তাকে বারবার সতর্ক করলেও কোনো কাজ হয়নি। বরং কমিশনের টাকার নেশায় তিনি অনেকটা বেপরোয়া হয়ে গেছেন।
সরকারি হাসপাতালে বসে ডাক্তার মাধবীর বেসরকারি ক্লিনিক ব্যবসা জমজমাট করার অবৈধ কার্যক্রম হাতেনাতে প্রমাণ মিলেছে। সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের মৃত আলতাফ আলীর স্ত্রী রানু (৭০) দীর্ঘদিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। গতকাল সকাল ১০ টায় হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগের টিকিট কাউন্টার থেকে পাঁচ টাকায় টিকিট সংগ্রহ করেন। যার রেজিঃ নম্বর ১১২১২১/২০।  তারপর চিকিৎসা নিতে যান বর্হিঃবিভাগের ২ নম্বর কক্ষে। সেখানে চিকিৎসা দেন ডাক্তার মাধবী রানী বিশ্বাস। রোগীর কথা শুনে ফাঁকা টিকিটে দু’রকমের টেস্ট লিখে দেন। টেস্ট গুলো হাসপাতালের সামনের একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে করিয়ে আসতে বলেন। রোগীর সাথে থাকা স্বজন টেস্ট দু’টি সরকারি হাসপাতাল থেকে করার আগ্রহ দেখান। এতে ক্ষেপে ওঠেন ডাক্তার মাধবী। তিনি বলেন সরকারি হাসপাতালে টেস্ট করালে রিপোর্ট সঠিক হয় না। এবার আপনি যেখান থেকে মন চায় করেন। ডাক্তারের সহকারী আরও এক কদম এগিয়ে। তিনি বলেন, ডাক্তার যে ক্লিনিকে যেতে বলেছেন সেখানে যান। অন্য জায়গা থেকে টেস্ট করালে ডাক্তার রিপোর্ট দেখবেন না। এমনকি চিকিৎসাও দেবেন না।
সদর উপজেলার আবাদ কচুয়া গ্রামের অহেদ শেখ বলেন, তার স্ত্রী পদ্মাকে (৪২) টিকিট নিয়ে (রেজিঃ নম্বর ১০৩১৩৯/৩৯) ডাক্তার মাধবীর চেম্বারে যেতেই পাঁচ প্রকার টেস্ট লিখে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের নাম বলে দেন সেগুলো করিয়ে আসতে। টেস্ট গুলো হলো সিবিসি, আরবিএস, আরএ টেস্ট, সিআরপি, সিরাম ইউরিক অ্যাসিড।ডাক্তারের নির্দেশনা মতো ওই ক্লিনিক থেকে টেস্টগুলো করাতে ১২৮০টাকা খরচ হয়েছে। টেস্ট রিপোর্ট গুলো ডাক্তারকে দেখানে তিনি বলেন, ঘাবড়ানোর কিছু নেই। অহেদ শেখ প্রশ্ন করেন, কিছুই যখন হয়নি তাহলে এতোগুলো টেস্ট করালেন কেন। এভাবে মানুষকে হয়রানি করার মানে টা কি? গ্রামের কাগজের পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সরকারি হাসপাতালে টেস্ট গুলো করাতে খরচ হতো মাত্র ৫শ’ ২০ টাকা।
যশোর শহরতলীর আবরপুর রেল লাইন এলাকার মিরা খাতুন নামে এক রোগী  জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন তিনি পেটের পীড়ায় আক্রান্ত থাকায় বেলা ১১ টা ১০ মিনিটে ডাক্তার মাধবী রানী বিশ্বাসকে দেখান ( রেজি নংঃ ১০৩৯৯৮/৯৮)। ডাক্তার তার টিকিটে দু’টি  টেষ্ট লিখে (আল্ট্রসনো লোয়ার অ্যাবডোমেন ও ইউরিন আরএমই) বেসরকারি একটি ক্লিনিকের নাম বলে পাঠিয়ে দেন ৮শ’ টাকায় করিয়ে আনতে। তার কাছে ৮শ’ টাকা নেই জানিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে কম টাকায় করাতে পারবেন কিনা  রোগী জানতে চান। ওই ডাক্তারের সহকারী জানিয়ে দেন হাসপাতালের মেশিন নষ্ট। ক্লিনিক থেকে না করালে তার রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়। এ সময় অসহায়ত্ব দেখে স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটুর কাছে ওই রোগী নিয়ে অভিযোগ করতে যান। তত্ত্বাবধায়কের কাছে রোগী মিরা অভিযোগ করেন, ডাক্তার মাধবী টেস্ট দু’টি করাতে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বলেছেন। সরকারি হাসপাতালের টেস্ট ভালো হয় না বলে ভয় দিয়েছেন। অভিযোগ শুনে বেশ বিব্রত হন তত্ত্বাবধায়ক। তাৎক্ষণিক তিনি রোগীকে সরকারি হাসপাতাল থেকে মাত্র ১শ” ৩০ টাকায় টেস্ট দু’টি করানোর ব্যবস্থা করেন।
একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ডাক্তার মাধবী রানী বিশ্বাস নির্দিষ্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকের স্লিপে টিক মার্ক দিয়ে দেন কোন্ কোন্ টেস্ট করাতে হবে। রোগী নিজের পছন্দের অন্য কোনো ক্লিনিক থেকে টেস্ট করালে ক্ষেপে যান। রিপোর্ট গুলো রোগীর মুখে ছুড়ে দিয়ে কোনো চিকিৎসা না দিয়েই ফেরত পাঠান এবং তার চুক্তিকৃত ক্লিনিক থেকে একই টেস্ট পুনরায় করাতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ডাক্তার মাধবীর চেম্বারের সামনে বেশ কিছুদিন অবস্থান করে দেখা গেছে রোগ বর্ণনা শোনার আগেই নির্ধারিত কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা লিখে যাচ্ছেন রোগীদের ফাঁকা টিকিটে। সরকারি হাসপাতালের চেম্বারে বসে বেসরকারি ক্লিনিকে রোগীদের টেস্ট করাতে বাধ্য করার কারণ জানতে চাইলে ডাক্তার মাধবী রানী বিশ্বাস বলেন, যেটা ভালো মনে হয় আমি সেটাই করি। সরকারি চেম্বারে বসে রোগীকে ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া সঠিক সিদ্ধান্ত কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।  
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু জানিয়েছেন, ডাক্তার মাধবীর বিষয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ এসেছে, আসছে। তাকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো ভাবেই সংশোধন হচ্ছেন না। একজন রোগী সরাসরি এসে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের জন্যে চরম বিব্রতকর। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার মান উন্নত করার জন্যে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। সর্বোচ্চ উন্নতমানের মেশিনে অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্টদের দিয়ে প্যাথলজিক্যাল  টেস্ট সরকার নির্ধারিত স্বপ্ল মূল্যে করানো হয়। সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেগুলো চেক করে রিপোর্ট প্রদান করেন। কিন্তু সরকারি ডাক্তার যদি অপপ্রচার করে ক্লিনিক ব্যবসা জমাজমাট করতে থাকেন তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft