শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
অর্থকড়ি
যশোর রেজিস্ট্রি অফিসে ১৫ দিন সার্টিফায়েড কপি প্রদান বন্ধ
সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ৯ লক্ষাধিক টাকা
জাহিদ আহমেদ লিটন :
Published : Thursday, 20 June, 2019 at 6:47 AM

সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ৯ লক্ষাধিক টাকাযশোর রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের সার্টিফায়েড (নকল) কপি তুলতে এসে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। আর এ খাত থেকে প্রতিদিন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে অর্ধলক্ষাধিক টাকা। রেকর্ড কিপার না থাকা ও অফিসের অনিয়মের কারণে গত ১৫ দিন যাবৎ এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর গত ১৫ দিনে এ খাত থেকে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে ৯ লক্ষাধিক টাকা ও হয়রানির শিকার হয়েছে দেড় সহ¯্রাধিক মানুষ।
অনিয়ম আর দুর্নীতি দেশের রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে নিত্যদিনের ঘটনা। যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের চিত্রও এর বাইরে নয়। এখানে দলিল লেখক থেকে শুরু করে অফিসের প্রতিটি পরতে রয়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা ঘটনা। অথচ এসব ঘটনার সমাধানে নেই কোন প্রশাসনিক কার্যকরি পদক্ষেপ। ফলে এ অফিসের দুর্নীতিবাজদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনায় চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে জরুরী প্রয়োজনে এ অফিসে আসা মানুষ।
সূত্র জানায়, যশোর রেজিস্ট্রি অফিসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রেকর্ড শাখা। এখানে জরুরী প্রয়োজনে আসা মানুষের ভিড় সবসময় লেগেই থাকে। অথচ গত ৯ জুন এ শাখার রেকর্ড কিপার শেখর চন্দ্র দে’কে কোন কারণ ছাড়াই বদলি ও রিলিজ দিয়ে মণিরামপুরে পাঠানো হয়েছে। আর গত ৩ জুন থেকে তিনি ছুটিতে ছিলেন। বর্তমানে তিনি মণিরামপুর রেজিস্ট্রি অফিসের পেশকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর সহকারী রেকর্ড কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রবিউল ইসলাম। যদিও তিনি এ কাজের কোন দায়িত্ব পালন করেন না। তিনি তৃতীয়তলায় ক্ললাপসিবল গেট আটকে রেখে দলিলপত্র সংক্ষণ করার কাজ নিয়ে থাকেন। অভিযোগ উঠেছে রেকর্ড কিপার শেখর চন্দ্র বদলির কাজে যশোরে হাত বদল হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। নিয়ম হচ্ছে, রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড কিপারকে বদলির পর রিলিজপত্র দেবার আগে এ পদে নতুন লোক এসে যোগদান করবেন। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অন্যত্র যেতে পারবেন। কিন্তু অবৈধ লেনদেনের কারণে এ ক্ষেত্রে এ জাতীয় কোন নিয়মই মানা হয়নি। গত ৯ জুন অফিসের হেডক্লার্ক ইব্রাহিম রেকর্ড কিপার শেখর চন্দ্রের মণিরামপুরের রিলিজের আবেদন জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে নিয়ে যান। এসময় জেলা রেজিস্ট্রার তাতে স্বাক্ষর করে অনুমোদন দিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর রেজিস্ট্রার ইব্রাহিমকে ডেকে জানতে চান কাকে রিলিজ দেয়া হলো, এসময় রেকর্ড কিপারের কথা শুনে তিনি শেখরের রিলিজ স্থগিত করার জন্য তাকে ডেকে পাঠান। কিন্তু ততক্ষণে শেখর চন্দ্র তার মটরসাইকেল চালিয়ে মণিরামপুরে গিয়ে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে এ ঘটনায় পেছন থেকে কলকাটি নেড়েছেন হেডক্লার্ক  ইব্রাহিম। তার হাতেই লেনদেন হয়েছে টাকা।
এদিকে, ৯ জুন রেকর্ড কিপার শেখরকে যশোর রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রিলিজ স্লিপ দেয়া হলেও ৩ জুন থেকে তিনি ছুটিতে ছিলেন। এরপর তিনি ৯ জুন অফিসে হাজিরা দিয়ে স্লিপ নিয়ে মণিরামপুরে যোগদান করেন। আর ৩ জুন থেকে রেকর্ড কিপারের অনুপস্থিতিতে যশোর রেজিস্ট্রি অফিসে জটিলতার সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন শ’ শ’ মানুষ এখানে দলিলের সার্টিফায়েড কপি তুলতে এসে ব্যর্থ মনোরথে ফিরে যাচ্ছেন। জরুরী প্রয়োজনেও তারা এ কাজটি করতে পারছেন না। ফলে দিনের পর দিন তারা দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন যশোরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলিলের সার্টিফায়েড (নকল) কপি তুলতে ১শ’ থেকে ১২০ জন মানুষ ভিড় জমায়। কিন্তু রেকর্ড কিপারের অনুপস্থিতিতে তারা তাদের কাঙ্খিত কাজ করতে না পেরে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এ হিসেবে গত ১৫ দিনে অফিসে এ কাজে এসে হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৫শ’ থেকে ১৮শ’ মানুষ। আর একই সময়ে এ খাত থেকে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।
সূত্র জানায়, প্রতিটি দলিলের সার্টিফায়েড কপি তুলতে মানুষকে ৫শ’ টাকা হারে রাজস্ব ফি সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। এ হিসেবে প্রতিদিন ১শ’ থেকে ১২০ জন মানুষ তাদের কাঙ্খিত সার্টিফায়েড কপি তুলতে পারলে সরকার এ খাত থেকে রাজস্ব পেত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। গত ১৫ দিনে এ রাজস্ব আদায় হতো ৯ লক্ষাধিক টাকা। যা অফিসিয়াল অনিয়মের কারণে সরকার বিপুল পরিমান এ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হলো।
এসব ব্যাপারে যশোর থেকে সদ্য বদলি হওয়া রেকর্ড কিপার শেখর চন্দ্র দে বলেন, তার বাড়ি মণিরামপুরে হওয়ায় তিনি বাড়ি ফিরে গেছেন। আর এখানকার পেশকার অবসরে যাওয়ায় সে সুযোগটি তিনি কাজে লাগিয়েছেন। এ কাজে তিনি কোন টাকার লেনদেন করেননি। বরঞ্চ সুপারিশ কাজে লাগিয়েছেন। 
এ ব্যাপারে যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের হেডক্লার্ক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, তিনি কোন দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত নন। নিয়মানুযায়ী রেকর্ড কিপার শেখর চন্দ্র দে বদলি হয়েছেন। আর এ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিনি নন, তিনি শুধুই বাহক মাত্র। অফিসে তিনি কাজ করেন বলেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। আর যারা চুপচাপ বসে থেকে বেতন নেন, তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জেলা রেজিস্ট্রার শাহজাহান সর্দারের সাথে। তিনি বলেন, উপরি মহলের সুপারিশ থাকায় রেকর্ড কিপার শেখর চন্দ্র দে’কে মণিরামপুরে জরুরীভাবে রিলিজ দেয়া হয়েছে। সেখানেও পেশকারের পদটি শুন্য ছিল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে মঙ্গলবার অফিসে জরুরি বৈঠক হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে এ সংক্রান্ত জটিলতা কেটে যাবে। এ পদে নতুন লোক যোগদান করবেন।    




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft