রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
জাতীয়
নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম সুফিয়া কামালের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ
মিনা বিশ্বাস :
Published : Thursday, 20 June, 2019 at 6:47 AM
নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম সুফিয়া কামালের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ  নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম সুফিয়া কামালের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ। কবি বেগম সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক রক্ষণশীল অভিজাত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ আবদুল বারি পেশায় ছিলেন আইনজীবী। সুফিয়ার বাল্যকালে তার পিতা গৃহত্যাগ করেন। নিরুদ্দেশ পিতার অনুপস্থিতিতে তিনি মা সৈয়দা সাবেরা খাতুনের স্নেহ পরিচর্যায় লালিত হতে থাকেন। তিনি তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেননি। তারপরও তখনকার রক্ষণশীল পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে বাস করে নিজ চেষ্টায় হয়ে ওঠেন স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত।  
যে সময়ে মুসলিম মেয়েরা শিক্ষা দীক্ষায় ছিল একেবারেই পশ্চাৎপদ, সে সময়ে সুফিয়া কামালের মতো স্বশিক্ষিত ও সমাজ সচেতন নারীর আবির্ভাব ছিল এক অসাধারণ ব্যাপার। কঠিন সে সময়ে পশ্চাৎপদ নারীদের চরম দুঃসময়ে সুফিয়া কামালের আর্বিভাব ছিল এক আশীর্বাদ।   
১৯১৮ সালে সুফিয়া মায়ের সঙ্গে কলকাতা যান। সেখানে তার সাক্ষাৎ হয় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাথে। তার শিশুমনে রোকেয়া দর্শনের সেই স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকে। বেগম রোকেয়ার আদর্শ সুফিয়াকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার উপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তার নামে মৃত্তিকার ঘ্রাণ (১৯৭০) শীর্ষক একটি সঙ্কলন উৎসর্গ করেন। ১৯৪৮ সালে সুফিয়া ব্যাপকভাবে সমাজসেবা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৪৯ সালে তার যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘সুলতানা’ পত্রিকা। যার নামকরণ করা হয় বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গ্রন্থের প্রধান চরিত্রের নামানুসারে। ১৯২৩ সালে তিনি রচনা করেন তার প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। ১৯২৫ সালে বরিশালে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে সুফিয়ার সাক্ষাৎ হয়। এরপূর্বে গান্ধীর স্বাধীনতা সংগ্রামের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি কিছুদিন চরকায় সুতা কাটেন। সুফিয়া তার স্বামীর সঙ্গে কলকাতায় গেলে সেখানে বিশিষ্ট বাঙালী ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ হয় তার। তাদের একজন হলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সুফিয়ার কবিতা পড়ে মুগ্ধ হন এবং সেগুলি পত্রিকায় প্রকাশের জন্যে তাকে উদ্বুদ্ধ করেন। ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন ১৯২৬ সালে তার প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন। ১৯২৯ সালে সুফিয়া কামাল বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত মুসলিম মহিলা সংগঠন ‘আঞ্জুমান-ই-খাওয়াতিন-ই-ইসলাম’-এ যোগ দেন। এখানে নারী শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারসহ নারীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।
সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে সুফিয়া কামাল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তঘমা-ই-ইমতিয়াজ’ নামে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু ১৯৬৯ সালে বাঙালীদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি তা বর্জন করেন। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় মহিয়সী এ নারীর জীবনাবসান ঘটে।   



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft