রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে দুই সপ্তায় ছুরিকাঘাতে পাঁচজন খুন
দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোর অপরাধীরা
ফের বাড়ছে ছুরি-চাকুর ব্যবহার
জাহিদ আহমেদ লিটন :
Published : Saturday, 22 June, 2019 at 6:17 AM
দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোর অপরাধীরা যশোরে দু’যুগ পর অপরাধীদের হাতে ফের ছুরি-চাকু ফিরে এসেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে একের পর এক যশোরাঞ্চলে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটছে। আর চলতি মাসে গত দু’সপ্তাহে ছুরিকাঘাতে পাঁচ যুবক খুন হয়েছে। এসব ঘটনার সাথে উঠতি বয়সী কিশোর গ্রুপের সদস্যরা জড়িত।
ধারালো অস্ত্রের বেপরোয়া ব্যবহারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা বলেছেন, উঠতি বয়সী কিশোর অপরাধীদের হাতেই ছুরি, চাকুর অপরাধমূলক ঘটনাগুলো ঘটছে। আর এসব ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন ২১টি টিম গঠন করেছে ও বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, যশোর এক সময়ে ব্যাপক অপরাধপ্রবণ জেলা হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিত ছিল। নব্বই দশক নাগাদ যশোরাঞ্চলের মানুষকে বোমার শব্দ শুনে রাতে ঘুমাতে হতো, আর সকালে ঘুম ভাংতো বোমার শব্দেই। শহরময় ধারালো অস্ত্রের ঝনঝনানি চলতো সকাল-সন্ধ্যা। সে সময়ে অপরাধীদের মাজায় গোজা থাকতো সেভেন গিয়ার ও টিপ ছুরি। অপরাধীদের কবলে পড়ে ছুরিকাঘাতেই মানুষ নিত্যদিন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতো বা খুনের শিকার হতো। এরপর ধীরে ধীরে সে অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। ধারালো অস্ত্রের পরিবর্তে অপরাধীদের হাতে আসতে থাকে আগ্নেয়াস্ত্র। এসব অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কালের আবর্তে হারিয়ে যায় ছুরি-চাকু, রাম দা। এরপর ১৯৯৯ সালে যশোরাঞ্চলে চরমপন্থী আত্মসমর্পন প্রক্রিয়ার পর অপরাধপ্রবণ জেলার দূর্নাম ঘুঁচতে থাকে যশোরের। ধীরে ধীরে শান্তিপূর্ণ শহরে রুপান্তরিত হতে থাকে যশোর। যদিও সে অবস্থা বেশিদিন স্থায়ীত্ব হয়নি। খুন, ছিনতাই, ডাকাতি এ অঞ্চলে ঘটতেই থাকে।
তবে বর্তমানে আশংকার বিষয় হচ্ছে, নব্বই দশকের সেই ছুরি-চাকু ফের অপরাধীদের হাতে ফিরে এসেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছর থেকেই এ অঞ্চলে ছুরি, চাকু ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসীরা নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। আর এসব অপরাধীদের বেশিরভাগই উঠতি বয়সী কিশোর সন্ত্রাসী। বাজারের দোকানগুলোতে অত্যাধুনিক ছুরি চাকুর সহজলভ্যতার কারণে কিশোর অপরাধীদের হাতে হাতে এসব ধারালো অস্ত্র উঠে এসেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
বর্তমানে যশোরে প্রায় প্রতিদিনই ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে একাধিক যুবক যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গত ১৮ জুন যশোর পলিটেকনিক কলেজের ধূমপানে বাধা দেয়ায় একসাথে ৪ ছাত্র আহত হয়েছে। আর জুন মাসেই ছুরিকাঘাতে পাঁচ যুবক নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সাজিদ হোসেন স¤্রাট (১৬) নামে দাখিল পরীক্ষার্থী এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়েছে। যশোর-মাগুরা সড়কের বাহাদুরপুর তিতাস গ্যাস প্লান্টের কাছে সাহাপুর মোড়ে পালসার সন্ত্রাসীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর সে মারা যায়। এরআগে ১৮ জুন সন্ধ্যায় শহরের শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গনপিটুনিতে সানি নামে এক যুবক খুন হয়। তার শরীরে পিটুনীর আঘাতের সাথে ছুরিকাঘাতের চিহৃ ছিল বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। গত ১৪ জুন শহরের নাজির শংকরপুর সন্নাসী দীঘিরপাড়ে ফেরদৌস নামে এক যুবককে প্রতিপক্ষরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। ঈদের পরের দিন ৬ জুন শহরের রেলগেট এলাকায় রেলস্টেশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র আব্দুল্লাহ খান সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে খুন হয়। এছাড়া, ২০ জুন সকালে শহরতলীর খোলাডাঙ্গা থেকে সিনবাদ নামে এক যুবকের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। এনিয়ে গত দু’সপ্তাহে শহর ও শহরতলীতে অপরাধীরা ৫ জনকে ছুরিকাঘাতে খুন করেছে।
এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ অপূর্ব হাসান বলেন, কিশোর অপরাধী নিয়ন্ত্রণে যশোর পুলিশ ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। থানা পুলিশের ২১টি টিম শহরময় কাজ শুরু করেছে। তারা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশী কার্যক্রমসহ নানা নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, শহরের বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের সাথে এ নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে বিভিন্ন মসজিদে কিশোর অপরাধী বিষয়ে ইমামরা আলোচনা করেছেন। এছাড়া, পুলিশ কর্মকর্তারা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠক করে তাদের সন্তানদের নিয়মানুবর্তিতার ব্যাপারে যতœবান হতে তাগিদ দিচ্ছেন।
বিষয়টি নিয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দীন বলেন, ইতিমধ্যে পুলিশ বিভাগের ফেসবুক পেজে অভিভাবকদের সচেতনতামূলক পোস্টসহ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। একইসাথে জেলার ও শহরের সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের কিশোর অপরাধীদের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে জানানো হয়েছে। তারা স্থানীয় অভিভাবকদের সাথে কথা বলে তাদেরকে সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া, শহরের বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন মটরসাইকেল চালকদের তল্লাশী করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।   



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft