বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
নওগাঁর আত্রাইয়ে প্রভাব খাটিয়ে উন্মুক্ত জলাশয়ে বাঁধ নির্মাণ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :
Published : Saturday, 22 June, 2019 at 7:06 PM
নওগাঁর আত্রাইয়ে প্রভাব খাটিয়ে উন্মুক্ত জলাশয়ে বাঁধ নির্মাণনওগাঁর আত্রাইয়ে উন্মুক্ত জলাশয় বিলসুতিতে মাছ চাষে স্থায়ীভাবে বাঁধ নিমার্ণ করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে গত ১৯ জুন বাঁধ নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত দুইটি এক্সকাভেটর মেশিন জব্দ করা হয়। কিন্তু প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন করে আবারও এক্সকাভেটর নিয়ে এসে বাঁধ নিমার্ণ কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হলে কয়েক হাজার কৃষক ফসলি জমি নিয়ে বিপাকে পড়বেন। একই সঙ্গে মৎস্যজীবীরা জীবিকা নির্বাহে দুর্ভোগে পড়বেন। ভুক্তভোগীরা দ্রুত বাঁধটি ভেঙে সমান করে দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
জানা গেছে, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন ও রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে উন্মুক্ত জলাশয় ‘বিলসুতি’। বিগত প্রায় ৭ বছর আগে এ উপজেলার উন্মুক্ত জলাশয়ের অংশে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খাল খনন করা হয়েছে। ফলে এ বিলের পানি গজমতখালী খাল দিয়ে নেমে শুটকিগাছা হয়ে আত্রাই নদীতে গিয়ে নামে। এ জলাশয়ে আষাঢ় থেকে অগ্রহায়ণ (৬ মাস) পর্যন্ত পানি থাকে। এ পানি দিয়ে ওই ইউনিয়নের বড় শিমলা, চকশিমলাসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে বোরো ও আউশের আবাদ করেন। এছাড়া ওইসব গ্রামের প্রায় ৫শ মৎসীজীবী এ জলাশয় থেকে মাছ ধরে করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন।
গত দুই বছর ধরে ওই জলাশয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আমজাদ হোসেনসহ প্রায় শতাধিক প্রভাবশালী বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছেন। কিন্তু এ বছর তারা আত্রাই উপজেলার উন্মুক্ত জলাশয়ের অংশে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খালের মুখ বন্ধ করে ১৫/২০ দিন থেকে দুইটি এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের কাজ করছেন। এভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হলে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খাল খননের উপকার থেকে বঞ্চিত হবে জলাশয় বিলসুতি। এছাড়া বোরো মৌসুমে পানি বিল থেকে বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতার কারণে বোরো চাষ ব্যাহত হবে বলে মনে করেন কৃষকরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের জমির মাটি কেটে নিয়ে প্রভাবশালীরা ক্ষমতার জোরে বাঁধ নির্মাণ করছেন। বাঁধ নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে পানি জলাশয় দিয়ে নামতে পারবে না। এতে করে স্বল্প সময়ে বন্যার সৃষ্টি হবে। ফসল ডুবে ক্ষতি হবে। আবার জলাশয় ওই প্রভাবশালীদের দখলে থাকবে। মৎসজীবীরা মাছ শিকার করতে পারবে না।
বড়শিমলা গ্রামের কৃষক মোতাহার হোসেন বলেন, এই মাঠে আমার ৭ বিঘা ফসলি জমি আছে। ওই জমিতে আবাদ করে আমার সারা বছরের ভরণপোষণ হয়ে থাকে। একটি মহল প্রজেক্টের নাম করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য জোরপূর্বক জমি দখল করে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করছে।
একই গ্রামের কৃষক শাহজাহান, মোজাম্মেল আলী, আজিজুর রহমান, মোখলেছার রহমান, সত্যেন্দ্রনাথসহ কয়েকজন বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী থেকে যে খাল খনন করা হয়েছে তার মুখ বন্ধ করে দিয়ে মাছ চাষ করতে প্রভাবশালীরা বাঁধ তৈরি করছেন। বাঁধ তৈরী করা হলে নিচের জমিগুলো ডুবে যাবে। কোনো ফসল হবে না। এছাড়াও গরু-ছাগলকে ওই মাঠে তিন মাস ঘাস খাওয়ানো হয়। বাড়তি খড়ের দরকার হয় না। গত তিন বছর থেকে ওই জলাশয় থেকে পানি উঠানো যাচ্ছে না। আমার ঠিকমতো জমিতে পানিও দিতে পারছি না। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে ঘটনাস্থল থেকে এক্সকাভেটর জব্দ করা হয়। কিন্তু প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে আবারও নতুন করে এক্সকাভেটর নিয়ে এসে কাজ করা হচ্ছে।
হাটকালুপাড়া গ্রামের মৎসীজীবী বয়তুল্লাহ ও আব্দুল করিম বলেন, আমরা দীর্ঘ বছর এই জলাশয় থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। গত তিন বছর জলাশয় থেকে কোনো মাছ শিকার করতে পারছি না। কারণ প্রভাবশালীরা আমাদের জলাশয়ে নামতে দিচ্ছে না। আমরা জীবন-জীবিকা নিয়ে বিপাকে পড়েছি। আমরা জলাশয় উন্মুক্ত চাই।
বাঁধ নির্মাণ কাজের সাথে সম্পৃক্ত হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বিলসুতি বিলে গত কয়েক বছর যাবৎ মাছ চাষ করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করা হতো। এবারে সেটা কয়েকশ সদস্য মিলে মাছ চাষ করার লক্ষে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের কোনো ক্ষতি হবে না বরং তারা উপকৃত হবেন।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছানাউল ইসলাম বলেন, বিলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে- এমন সংবাদে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে এক্সকাভেটর মেশিন জব্দ করা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধে আইনগতভাবে যা করা দরকার, সেভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উন্মুক্ত জলাশয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে স্থানীয় কৃষক ও মৎসজীবীরা সমস্যায় পড়বে।
তিনি আরও বলেন, যারা এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft