সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
শিক্ষা বার্তা
টিফিনে ৪৫ হাজার শিশু পাবে খিচুড়ি!
কাগজ সংবাদ :
Published : Wednesday, 26 June, 2019 at 6:07 AM
টিফিনে ৪৫ হাজার শিশু পাবে খিচুড়ি!যশোর ও খুলনার ২৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রায় ৪৫ হাজার শিশু টিফিনে খাবার হিসেবে পাবে খিচুড়ি। শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও ঝরেপড়া রোধ করতে জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালা অনুযায়ী গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে যশোরের ঝিকরগাছা ও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় প্রকল্পটি শুরু হবে।
ঝিকরগাছা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উক্ত প্রকল্পে ঝিকরগাছা উপজেলার ১৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার ১১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। সেখানে শিক্ষার্থী রয়েছে মোট ৪৪ হাজার ৫৭৩ জন।
ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, খুব সকালে স্কুলে আসার কারণে অধিকাংশ দিন না খেয়েই বাড়ি থেকে চলে আসতে হয়। খালি পেটে তখন আর কিছু ভাল লাগে না। ক্ষিদে নিয়ে ক্লাস করতে কষ্ট হয়। স্কুল থেকে টিফিন হিসেবে বিস্কুট দেওয়া হয় জানিয়ে ওই শিশুরা বলে, ‘স্যারদের কাছে শুনেছি এবার আমাদের খিচুড়ি দেওয়া হবে। এটা হলে আর বাড়ি যেয়ে খেয়ে আসতে হবে না। তখন খেলার সময় বেশি পাওয়া যাবে। পড়ালেখাও ভাল হবে’।
নজরুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে খুবই ভাল হবে। সেই ভোরে মেয়েটা খেয়ে বের হয়। দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে থাকে। টিফিনে বিস্কুট দিলেও তা পেট ভরার জন্য যথেষ্ট না। বাধ্য হয়েই মেয়েটা টিফিনে বাড়ি চলে আসে। এতে অনেক সময় ক্লাসও মিস করে।
এখন থেকে দুপুরে খিচুড়ি দিলে ওরা পড়ার প্রতি মনোযোগী হতে পারবে বলে মনে করেন ওই অভিভাবক।
মাশকুরা আহমেদ নামে আরো এক অভিভাবক বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ক্লাস চলে। সকালে বাচ্চাকে খাইয়ে দিয়ে স্কুলে পাঠাই। আর স্কুল চলাকালে প্রায় প্রতিদিন দুপুরে বাসা থেকে খাবার এনে বাচ্চাকে খাইয়ে দিয়ে যাই। শুনেছি সরকার বেশ উন্নতমানের খাবার দেবে শিশুদের টিফিনে। সেটি হলে আমরা বেশ নিশ্চিন্ত। আমাদের কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি স্বস্তিও থাকবে।
কৃষ্ণনগর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম আকিফুজ্জামান বলেন, নিঃসন্দেহে এটি সরকারের একটি ভাল উদ্যোগ। আমরা শিশুদের রান্নাকরা খাবার দেওয়ার বিষয়ে অবগত আছি। এই স্কুলে রান্নাঘর ও বাবুর্চি নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচি চালু হলে স্কুলে শিশুদের অনুপস্থিতির হার অনেক কমবে। শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় তাদের পুষ্টিহীনতার বিষয়টি লোপ পাবে। এরফলে শিক্ষার গুণগতমানও বাড়বে। প্রকল্পটি সারাদেশে চালুর সুপারিশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অর্থায়নে স্কুল ফিডিংয়ের এ কর্মসূচি ঝিকরগাছায় বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ। এই সংস্থার মনিটরিং ও রিপোর্টিং অফিসার মো. নিজামুল ইসলাম বলেন, ১ জুলাই থেকে প্রকল্পটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে। শিশুদের একদিন খিঁচুড়ি, পরদিন বিস্কুট এভাবে সপ্তাহে তিনদিন খিঁচুড়ি দেওয়া হবে। খিঁচুড়ির চাল ও ডাল বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে খনিজ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ করে প্যাকেটজাত করে দেওয়া হবে। প্রতিটি স্কুলে আলাদাভাবে রান্না করার স্থান এবং একজন শিক্ষিত বাবুর্চি নিয়োগ দেওয়া হবে। যিনি নিজেই বাজার থেকে টাটকা শাক ও সবজি ক্রয় করবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী প্রতি চাল, ডাল, তেল, শাক, সবজি, আলু মিলিয়ে প্রায় ১৮০ গ্রাম এবং সপ্তাহে একটি করে ডিম বরাদ্দ রয়েছে।
ঝিকরগাছা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা পারভীন বলেন, অনেকের বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার আসে, কেউ কেবলমাত্র বিস্কুট আর পানি খেয়েই বাকি ক্লাসগুলো করে। শিশুদের ক্ষুধা নিবারণ, পুষ্টির অভাব পূরণ, শিশুদের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত আর প্রাথমিকে ঝরেপড়া রোধে সরকার পাইলট হিসেবে এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে। খুলনা বিভাগের দুটি উপজেলায় এই প্রকল্প চলবে। এরমধ্যে ঝিকরগাছা আর খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা রয়েছে।
তিনি জানান, কর্মসূচির স্বচ্ছতার জন্যে শিক্ষার্থীদের মায়েদের নিয়ে একটি করে কমিটি গঠন করা হবে।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. হাবিবুর রহমান জানান, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের আওতায় বটিয়াঘাটা উপজেলার ১১৫টি স্কুলের ১৫ হাজার ৮৮৩ শিশু রয়েছে।
 



আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft