রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯
শিক্ষা বার্তা
বিনা ফির একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র সরবরাহ
হাতানো হলো ৩ কোটি টাকা
অর্থ নেয়া হয়েছে ১,৬৫,৬৮৮ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে
এম. আইউব :
Published : Thursday, 27 June, 2019 at 6:11 AM
হাতানো হলো ৩ কোটি টাকাএইচএসসি ভর্তিকে সামনে রেখে বিনা ফিতে সরবরাহ করা একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে তিন কোটি টাকা। খুলনা বিভাগের ২ হাজার ৫শ’ ১২টি স্কুল এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। আগামীকাল থেকে এইচএসসিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ স্কুল থেকে টাকার বিনিময়ে এই একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র নিতে বাধ্য করা হয়েছে। কারণ এইচএসসিতে ভর্তি হতে গেলে পাস করা এসএসসির একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও স্ব স্ব স্কুল থেকে প্রশংসাপত্র নিয়ে সুযোগ পাওয়া কলেজে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। ফলে, স্কুলের চাহিদা মতো টাকা দিয়ে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র নিতে বাধ্য হয়েছে শিক্ষার্থীরা।
২০১৯ সালে যশোর শিক্ষাবোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৮২ হাজার ৩শ’১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছিল ৪২ হাজার ৬শ’ ১৬ জন, মানবিক বিভাগে ১ লাখ ৬ হাজার ৩শ’ ৫৫ জন ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ৩৩ হাজার ৩শ’ ৩৯ জন। পাস করে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬শ’ ৮৮ জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২২ হাজার ৯শ’ ১৮ জন ছাত্র, ১৮ হাজার ৩শ’ ৪২ জন ছাত্রী, মানবিক বিভাগ থেকে ৪১ হাজার ৮৪ জন ছাত্র ও ৫২ হাজার ১শ’ ৮৯ জন ছাত্রী এবং ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ১৭ হাজার ৬শ’ ৩৫ জন ছাত্র ও ১৩ হাজার ৫শ’ ২০ জন ছাত্রী কৃতকার্য হয়। এ বছর জিপিএ-৫ পায় সর্বমোট ৯ হাজার ৯শ’ ৪৮জন। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে ৯ হাজার ১শ’ ৯৭ জন, মানবিক বিভাগে ৪শ’ ১৮ জন ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ৩শ’ ৩৩ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ছেলে ৪ হাজার ৭শ’ ৮৬ জন ও মেয়ে ৪ হাজার ৪শ’ ১১ জন, মানবিক বিভাগে ছেলে ৬৪ জন ও মেয়ে ৩শ’ ৫৪ জন এবং ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ছেলে ১শ’ ১৩ জন ও মেয়ে ২শ’ ২০জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
জিপিএ-৪ থেকে ৫ এর মধ্যে পেয়েছে ৪১ হাজার ৯শ’ ৪০ জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছেলে রয়েছে ১২ হাজার ১শ’ ও মেয়ে রয়েছে ১০ হাজার ৪শ’ ৩৩ জন, মানবিক বিভাগে ছেলে রয়েছে ৩ হাজার ১শ’ ৩২ ও মেয়ে ১০ হাজার ৪শ’ ৩৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছেলে ৩ হাজার ৫শ’ ১৮ জন ও মেয়ে ৪ হাজার ২শ’ ৯২ জন।
জিপিএ-৩.৫ থেকে ৪ পেয়েছে মোট ৪০ হাজার ১শ’ ১জন। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছেলে ৪ হাজার ৩শ’ ৭৯ জন ও মেয়ে ২ হাজার ৭শ’ ৫৮ জন, মানবিক বিভাগে ছেলে ৮ হাজার ৫শ’ ২৮ জন ও মেয়ে ১৪ হাজার ৮শ’ ৩৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছেলে ৫ হাজার ২শ’ ৫৯ জন এবং মেয়ে ৪ হাজার ৩শ’ ৪০ জন রয়েছে।
জিপিএ-৩ থেকে ৩.৫ পেয়েছে ৩৯ হাজার ৮শ’ ২০ জন। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছেলে ১ হাজার ৪শ’ ৪৯ জন ও মেয়ে ৬শ’ ৬৩ জন, মানবিক বিভাগে ছেলে ১৩ হাজার ৩শ’ ৬৮ জন ও মেয়ে ১৬ হাজার ৩শ’ ৯৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছেলে ৪ হাজার ৯শ’ ৪২ জন ও মেয়ে রয়েছে ৩ হাজার ২ জন।
জিপিএ-২ থেকে ৩ পেয়েছে মোট ৩৩ হাজার ২শ’ ৯৪ জন। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছেলে রয়েছে ২শ’ ৪ জন ও মেয়ে রয়েছে ৭৭ জন, মানবিক বিভাগে ছেলে রয়েছে ১৫ হাজার ৬শ’ ৩০ জন ও মেয়ে রয়েছে ১১ হাজার ৯শ’ ৬১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছেলে রয়েছে ১ হাজার ৬শ’ ৬২ জন ও মেয়ে রয়েছে ১৯ হাজার ৫শ’ ৯৪জন।
এবং জিপিএ-১ থেকে ২ এর মধ্যে পেয়েছে ৫শ’ ৮৫ জন। এরমধ্যে মানবিক বিভাগে ছেলে ৩শ’ ৬২ জন ও মেয়ে ১শ’ ৭৬ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছেলে ৪৩ জন ও মেয়ে ৪ জন রয়েছে।  
এসএসসিতে পাস করা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬শ’ ৮৮ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে ভর্তির জন্যে আবেদন করেছে। তারা কোনো না কোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে কিংবা সামনে পাবে। কারণ পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় কলেজে আসন সংখ্যা অনেক বেশি। কেবল তাই না, যশোর বোর্ডের বাইরে গিয়েও অনেকেই ভর্তি হবে। যেখানেই ভর্তি হোক না কেন এসএসসি পাসের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও পাস করা স্কুল থেকে প্রশংসাপত্র নিয়ে জমা দিতে হবে এইচএসসিতে ভর্তি হওয়ার সময়। যেটি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। আর এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে যশোর শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন ২ হাজার ৫শ’ ১২ টি স্কুল। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র দিতে প্রত্যেকটি স্কুল টাকা আদায় করেছে। সর্বনি¤œ একশ’ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচশ’ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। আবার সরকারি কোনো কোনো স্কুল এগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গড়ে ২শ’ টাকা করে আদায় করলে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬শ’ ৮৮ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৬শ’ টাকা। আবার সর্বনি¤œ ১শ’ টাকা করে নিলেও স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮শ’ টাকা গ্রহণ করেছে। যা অস্বাভাবিক আদায় বলে শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন। কারণ, যশোর শিক্ষাবোর্ড থেকে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বিনা ফিতে সরবরাহ করা হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের বিনা ফিতে দেয়ার কথা। আর একটি প্রশংসাপত্র ছাপতে মাত্র কয়েক টাকা লাগে। সেই প্রশংসাপত্র শ’ শ’ টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করা কেবল অনৈতিক না, বেআইনিও।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট কোনো রকম ফি ছাড়া সরবরাহ করা হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের বিনা ফিতে সরবরাহ করার কথা। আর প্রশংসাপত্র ছাপা এবং সংরক্ষণ করা কিছু খরচ হলেও ২০-৫০ টাকার বেশি নেয়া অস্বাভাবিক। অবশ্য, এ বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব শিক্ষাবোর্ডের না বলে তিনি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গ্রামের স্কুলের তুলনায় উপজেলা এবং জেলা শহরের স্কুলগুলো বেশি হারে টাকা আদায় করেছে। গ্রামের বেশিরভাগ স্কুল এক থেকে দুশ’ টাকার মধ্যে আদায় করেছে। আর শহরের স্কুলগুলো তিন থেকে পাঁচশ’ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
যশোর শহরের এমএসটিপি স্কুলের অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম জানান, তার স্কুলে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট দিতে কোনো টাকা নেননি। তবে, প্রশংসাপত্র দিতে একশ’ টাকা করে নিয়েছেন। যা একেবারেই সর্বনি¤œ বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থী কম তারা এ খাত থেকে বেশি টাকা আদায় করে থাকে।
কথা হয় যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সাথে। তিনি বলেন, তারা সম্পূর্ণ বিনা ফিতে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র সরবরাহ করেছেন। এ বিষয়ে জানতে ফোন দেয়া হয় যশোর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম আযমকে। তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে পরে কথা বলতে বলেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় তিনশ’ এবং কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র দেয়ার নামে দুশ’ টাকা করে আদায় করেছে। একই অবস্থা খুলনা বিভাগের ১০ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও।
এ বিষয়ে যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার এএসএম খালেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এবং প্রশংসাপত্র দিতে টাকা আদায় করার কোনো নির্দেশনা নেই। কেউ এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করেনি। বিষয়টি আমরা দেখবো।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft