বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯
সম্পাদকীয়
বন্ধ হোক ঝুঁকিপূর্ণ অপ্রয়োজনীয় সিজার
Published : Thursday, 27 June, 2019 at 6:11 AM
গত ৩ বছরে (২০১৬-২০১৮) বাংলাদেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান ডেলিভারি ৫১ শতাংশ বেড়েছে বলে চারদিন আগে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধুমাত্র গত বছরেই ৮ লাখ ৬০ হাজার নারীর অপ্রয়োজনীয় সিজার হয়েছে। অথচ প্রয়োজন থাকার পরও টাকার অভাবে এই সময়ে ৩ লাখ নারী তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ওই বছরে এসব (৮ লাখ ৬০ হাজার) সিজারের জন্য খরচ হয়েছে ৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, প্রতিটি সিজারের পেছনে খরচ হয়েছে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা। এতে অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি মা ও শিশুকে ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে।
সেই প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি আদালতে বলেছেন, গত বছর দেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ৭৭ শতাংশ অপ্রয়োজনীয় সিজার করা হয়েছে, যা আশঙ্কাজনক।
রিটে ব্যারিস্টার সুমন আরো জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, কেবল আর্থিক সুবিধার জন্যই হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসূতি মায়েদের সিজার করাতে বাধ্য করেন। প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্লিনিক এই কাজ শুধু টাকার জন্য করে।
তার মতে, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশন যদি বন্ধ করা না যায়, তাহলে এটি সংকটজনক অবস্থায় মোড় নিবে। তাই সিজারিয়ান সেকশন কেনো বন্ধ ঘোষণা করা হবে না, সরকারের কাছে এর কারণ জানতে চেয়ে রুল জারির জন্য তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।
আমরা জানি, এখন কোনো নারীর সন্তান জন্মদান মানেই সিজার। হাতে গোনা খুব কম নারীই আছেন, যারা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় (নরমাল ডেলিভারি) সন্তানের জন্মদিতে পারেন। যারা এটা পারেন, নিশ্চিত করেই বলে যায় তারা, সৌভাগ্যবান। কিন্তু কেন নরমাল ডেলিভারি হচ্ছে না? ব্যারিস্টার সুমনের রিটের ভাষ্য এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনই তার উত্তর। সেখানে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, ডাক্তার, হাসপাতাল, ক্লিনিক আর এক শ্রেণির মুনাফালোভী মানুষের কারণেই আজ মা ও শিশুর পাশাপাশি পুরো জাতিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে।
এ নিয়ে গত কয়েক বছর অনেক আলোচনা হয়েছে। সিজার বন্ধে কিছু কিছু উদ্যোগের কথাও শোনা যায়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কাজের কাজ হয়নি। তাই সিজার থেমে নেই, চলছেই। এটা ঠিক কোনো কোনো ক্ষেত্রে মা ও শিশুর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কিন্তু আমরা সবাই জানি, তার সংখ্যা খুবই নগণ্য। তাহলে এত এত সিজার হচ্ছে কেন?
এর উত্তর আমাদের খুব দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। আমরা মনে করি, তা না হলে পুরো জাতিকেই এর মাশুল গুনতে হবে। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft