মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২০
অর্থকড়ি
গম সংগ্রহে চরম বিপাকে চুয়াডাঙ্গা খাদ্য বিভাগ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :
Published : Friday, 28 June, 2019 at 6:27 AM
গম সংগ্রহে চরম বিপাকে চুয়াডাঙ্গা খাদ্য বিভাগসরকারিভাবে গম সংগ্রহ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা খাদ্য বিভাগ। চলতি বছরে গম সংগ্রহ অভিযানে জেলায় মাত্র ৭০ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও মিলছে না এক ছটাক গমও। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়েও পাচ্ছেন না গমের দেখা।
কারণ হিসেবে জানা যায়, নেক ব্লাস্টের ভয়াবহতার কারণে কয়েক বছর ধরেই জেলায় গম আবাদে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করেছে সরকার। তারপর থেকেই কৃষকরা গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এরই মধ্যে খাদ্য বিভাগ থেকে দেওয়া হয়েছে উৎপাদিত গমের সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে ১৪৯৪ টন ধান, ৬৪৯০ টন চাল ও ৭০ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। স্থানীয় খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান, চাল ও গম সংগ্রহের নির্দেশনা রয়েছে। ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এক ছটাক গমও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।
বিষয়টি স্বীকার করে চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম বলেন, ধান ও চালের পাশাপাশি গমের সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও আমরা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে গম সংগ্রহ করতে পারছি না। তবে আমার চেষ্টা করছি হয়তো সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারব।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলী হাসান জানান, ২০১৬ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলায় গমে ভয়াবহ বালাই নেক ব্লাস্টের আক্রমণের কারণে মাঠেই গম ক্ষেত পুড়িয়ে ফেলতে বাধ্য হয় কৃষকরা। পরবর্তীতে ওই জমিতে উৎপাদিত অন্য ফসলেও যাতে এ রোগ আক্রমণ করতে না পারে তার জন্য গম চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হয়। তারপর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে গম চাষ।
তাহলে সরকারি সংগ্রহের অভিযানে কেন গমের লক্ষ্যমাত্রা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যেহেতু সে সময় গমে আক্রমণের রোগটি ছিল নতুন। তাই ক্ষতির মাত্রা কমাতে সে সময় সরকার গম আবাদে নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল। কিন্তু এখন এ রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে। নতুন জাতও উদ্ভাবন করা হচ্ছে। অনেকে নতুন জাতের এসব আবাদও করছে। এ বিষয়টি ভেবেই হয়তো গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে কৃষি কর্মকর্তাদের এমন কথার সূত্র ধরে জেলার চারটি উপজেলায় অনেক খুঁজেও দেখা মেলেনি গম চাষির। মাঠেও দেখা মেলেনি কোনো গম ক্ষেতের।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলার বেলাগছি গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত কয়েক বছর ধরেই নেক ব্লাস্টের কারণে ক্ষতি এড়াতে গম চাষ করছেন না তারা। তাছাড়া এ জেলায় গম আবাদে সরকারের পক্ষ থেকেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সে নিষেধ মেনে তারা গম আবাদ করছেন না।
আলমডাঙ্গা উপজেলার নতিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কফিল উদ্দীন জানান, তারা বছর পাঁচেক আগেও প্রচুর পরিমাণে গম আবাদ করত। নেক ব্লাস্টের আক্রমণের পর থেকে গম চাষ না করার জন্য বলা হয় তাদের। তারপর থেকেই ওই গ্রামে আর গমের আবাদ হয়নি।
কৃষিবিদ তালহা জুবাইর মাশরুরের মতে, ব্লাস্ট প্রতিরোধ ব্যবস্থা না করে উল্টো গম চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার মাশুল গুণতে হচ্ছে চাষি ও খাদ্য বিভাগকে। জেলায় গমের স্বর্ণযুগ ফেরাতে হলে খুব দ্রুত ব্লাস্ট সহনশীল ভিন্ন জাতের গম বীজ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft