বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯
শিক্ষা বার্তা
বাড়ছে ছাত্রীদের উপবৃত্তি
মিনা বিশ্বাস
Published : Friday, 28 June, 2019 at 6:27 AM
বাড়ছে ছাত্রীদের উপবৃত্তিনতুন বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী চলতি অর্থবছর (২০১৯-২০২০) থেকেই বাড়ছে স্কুল ও কলেজের ছাত্রীদের উপবৃত্তির পরিমাণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি জেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে চিঠি পৌঁছানোর পরপরই নতুন এ উপবৃত্তি চালু হবে। আর উপবৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধিতে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবে বলে এ ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যশোরের বিভিন্ন বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে এবং শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ আরো বাড়াতে নতুন বাজেটে উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আর এ উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে শিক্ষার পথ আরো সুগম হচ্ছে। উপবৃত্তি বৃদ্ধিতে এখন থেকে দারিদ্র্যের কারণে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া বন্ধ হওয়া এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় আরো বেশি সুযোগ নিশ্চিত হবে। বর্তমানে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম ও কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩০ভাগ ছাত্রীকে উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। দরিদ্র এসব শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিতি, মেধা এসকল দিক বিবেচনা করে উপবৃত্তি দেয়া হয়। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে বর্তমান উপবৃত্তির পরিমাণ শিক্ষার্থী প্রতি ছয়শ’ টাকা, অষ্টম শ্রেণিতে সাতশ’ ২০টাকা, নবম ও দশম শ্রেণিতে এক হাজার টাকা এবং কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্যে জনপ্রতি এক হাজার পাঁচশ’ টাকা করে চালু রয়েছে। তবে, নতুন অর্থ বছর শুরু হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেশের প্রতিটি জেলা শিক্ষা অফিসে উপবৃত্তি বৃদ্ধির পরিমাণ ও এ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার এএসএম আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ছে। এটা খুবই আশার কথা। মন্ত্রণালয় (শিক্ষা) থেকে চিঠি আসলে আমরা বৃত্তির পরিমাণটা জানতে পারবো। প্রতিটি বিদ্যালয়ে তখন চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে। অন্যদিকে উপবৃত্তি বৃদ্ধিতে যশোরের বিভিন্ন বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এমএসটিপি স্কুলের শিক্ষার্থী হৃদিকা ও অনুষা রায় বলে, উপবৃত্তি বৃদ্ধিতে আমাদের মতো যারা দরিদ্র তাদের জন্যে খুব ভালো হলো। তবে, আমরা চাই যেন প্রতিটি স্কুলের সত্যিকারের দরিদ্র শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পায়। কারণ অনেক সময় উচ্চবিত্তের সন্তানদের উপবৃত্তি দেয়া হয়। যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমনা ইসলাম বীথি বলে, আমি একজন দরিদ্র শিক্ষার্থী। আমার বাবা মারা গেছেন, তাই আমার স্কুলের শিক্ষকরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। উপবৃত্তি বাড়লে আমার মতো শিক্ষার্থী যারা তারা উপকৃত হবে। আরেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলে, উপবৃত্তি বাড়ছে এটা আমাদের মতো দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্যে খুবই ভালো উদ্যোগ। এমএসটিপি স্কুলের দু’ শিক্ষার্থীর অভিভাবক আয়েশা খাতুন ও নাসিমা আক্তার বলেন, খরচের কারণে প্রতি বছর অনেক অভিভাবকই তাদের কন্যা সন্তানটির লেখাপড়া বন্ধ করে দেন। অনেক ছাত্রীর পড়াশোনা মাধ্যমিকে ওঠার পরই বন্ধ হয়ে যায়। তাই উপবৃত্তি বাড়লে ভালো হবে। তবে, আরো বেশি সংখ্যক ছাত্রী যেন উপবৃত্তি পায় এ বিষয়টিও দেখতে হবে। সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কথা হয় অভিভাবক নাজমা বেগমের সাথে। তিনি বলেন, আমার স্বামী একটি টেইলার্সের দর্জি। লেখাপড়ার খরচ অনেক জেনেও শুধুমাত্র ভালো ভবিষ্যতের জন্যে মেয়েকে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছি। বর্তমানে সে উপবৃত্তি পাওয়ায় খরচ কিছুটা কমেছে। তাই উপবৃত্তি বাড়লে সেটা দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্যে খুবই ভালো হবে।
এ বিষয়ে প্রগতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাধাকান্ত বিশ্বাস বলেন, নিঃসন্দেহে সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কারণ এ উদ্যোগের ফলে দরিদ্র মেধাবী ছাত্রীরা উপকৃত হবে। দারিদ্র্যের কারণে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়াও অনেকাংশে বন্ধ হবে। আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন মিটিংয়ে আলোচনায় আমি অনেকবারই এ বিষয়ে বলেছি। কারণ প্রাথমিক শিক্ষা শেষে আমাদের দেশের বেশিরভাগ বিদ্যালয়গুলোতে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা পারিবারিক সামাজিক নানান কারণে ঝরে পড়ে। তার মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা থাকে বেশি। তাই উপবৃত্তি বাড়লে দরিদ্র ছাত্রীরা তার সুফল পাবে। এ বিষয়ে কথা হয় এমএসটিপি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ খায়রুল আনামের সাথে। তিনি বলেন, খরচের কথা ভেবে অনেক দরিদ্র পরিবার মাধ্যমিক পর্যায়েই তাদের কন্যা সন্তানটির লেখাপড়া বন্ধ করে দেন। তাই উপবৃত্তি বাড়লে দরিদ্র ছাত্রীদের জন্যে খুবই ভালো হবে। বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রতি একশ’ জন ছাত্রীর মধ্যে ৩০ জন এ উপবৃত্তি পাচ্ছে। তাই আরো বেশি সংখ্যক ছাত্রীর যদি উপবৃত্তি দেয়া যায় তাহলে ছাত্রীদের ঝরে পড়া বন্ধ করা যাবে। প্রধান শিক্ষক লায়লা শিরীন সুলতানা বলেন, পারিবারিক, সামাজিকসহ নানান কারণে প্রতি বছর অসংখ্য শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হয়। আমাদের আরো নানান ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া বন্ধে। বিশেষ করে ছাত্রীদের। তাই উপবৃত্তি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। এ দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর লেখাপড়া নিশ্চিত হোক এটা চাই। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft