শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
খুনিরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাধর
বরগুনা সংবাদদাতা :
Published : Friday, 28 June, 2019 at 3:11 PM
খুনিরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাধরবরগুনা শহরের কলেজ রোড এলাকায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যাকারী দুই যুবক অনেক আগে থেকেই অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকারী দু’জনের একজন রিফাত ফরাজী, আরেকজন নয়ন বন্ড।
জানা গেছে, রাজনৈতিকভাবে এরা দুইজনই ক্ষমতাধর। রিফাত ফারাজীর আপন খালু বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া রিফাতের চাচাতো দাদা মরহুম লতিফ ফারাজী ২০ বছর আগে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আর বর্তমান এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের ক্যাডার হিসেবেই পরিচিত নয়ন। এছাড়া বরগুনা পৌরসভার কাউন্সিলর রইসুল ইসলাম রিপনের ছেলে জনির ডান হাত হিসেবেও পরিচিত নয়ন। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার বিপুল অর্থ তো আছেই।
বরগুনা সরকারি কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিমে বরগুনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে নয়ন বন্ডের (২৫) বাসা। নয়নের বাবা মৃত ছিদ্দিকুর রহমান। দুই ভাইয়ের মধ্যে নয়ন ছোট। নয়নের বড় ভাই মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে শ্রমিকের কাজ করেন। মাকে নিয়েই ওই বাসায় বসবাস করছিল নয়ন। নয়ন নিজেও ছাত্রলীগের সমর্থক; কিন্তু সক্রিয় কর্মী নয়। তার পদও নেই। তবে তার গডফাদার এমপি শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথ।
২০১৭ সালের ৫ মার্চ রাতে নয়নের বাসায় অভিযান চালায় বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, দুইটি দেশিয় অস্ত্র ও এক সহযোগীসহ নয়নকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বাসা থেকে উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে ছিল ৩০০ পিস ইয়াবা, ১২ বোতল ফেনসিডিল ও ১০০ গ্রাম হেরোইন।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, নয়ন বন্ডের মাদক বাণিজ্যের কথা আমরা জানি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে নয়ন ও তার সহযোগীরা গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছে; কিন্তু বারবারই তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।
আরেক খুনি রিফাত ফারাজী বরগুনা সদর উপজেলার রায়েরতবক গ্রামের দুলাল ফারাজীর ছেলে। দুলাল ফারাজী সাবেক জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মরহুম লতিফ ফারাজীর ভাতিজা। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দুলাল ফারাজীর ভায়রা।
স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে যুক্ত ছিলেন রিফাত ফারাজী। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে স্থানীয়দের কাছে একটি আতঙ্কের নাম রিফাত ফারাজী। রিফাতের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের ওপর হামলা, মারধর রিফাতের কাছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব কারণে কয়েকবার গ্রেফতার হলেও রহস্যজনক কারণে খুব স্বল্প সময়েই মুক্তি পান তিনি।
২০১৭ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম (২১) নামে এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে মারাত্মক যখম করেন রিফাত ফারাজী।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে একদল দুর্বৃত্ত হামলা করে রিফাতের ওপর। আশেপাশে অনেক মানুষ ছিল। এর মধ্যেই দা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয় রিফাতকে। এই ঘটনায় ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, মিন্নি অস্ত্রধারীদের হাত টেনে ধরার চেষ্টা করছেন। রিফাতকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ ঘটনার ভিডিও ধারণ করছেন, ছবি তুলছেন। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে কথা বলছেন, কেউ বা চেয়ে চেয়ে দেখছেন। আর হামলাকারীরা মনের আক্রোশ মিটিয়ে চলে গেছে, কিন্তু কেউ কিছু বলেনি।
এই ঘটনাটি হাইকোর্টের নজরে আনার পর উচ্চ আদালত মর্মাহত হয়েছে। কেউ এগিয়ে আসল না-এটা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দুই বিচারপতি।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft