বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
হামলার তিন বছর
হোলি আর্টিজান মামলার রায় এ বছরই হতে পারে
কাগজ ডেস্ক :
Published : Sunday, 30 June, 2019 at 8:41 PM
হোলি আর্টিজান মামলার রায় এ বছরই হতে পারে রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলা মামলার রায় হতে পারে এ বছরেই। মামলাটিতে এ পর্যন্ত ৬০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।
সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য প্রতিমাসেই তিন-চারটি তারিখ রাখা হচ্ছে। সাক্ষীদের উপস্থিতির হারও বেশ ভালো। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে যুক্তিতর্ক ও এরপরই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করবেন বিচারক।
মামলাটির পাবলিক প্রসিকিউটর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, মামলাটিতে সাক্ষীদের উপস্থিতির হার বেশ ভালো। মাত্র ২৯ ধার্য তারিখে ৬০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। চার্জশিটে সাক্ষীর সংখ্যা ২১১ জন হলেও মামলা প্রমাণে সব সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া জরুরি নয়। মামলা প্রমাণের জন্য যতজন সাক্ষী দরকার তা নেয়া হবে। এরপর যুক্তিতর্ক শোনার পর রায়ের জন্য দিন ধার্য করবেন বিচারক।
তিনি আশা করেন, সাক্ষ্যগ্রহণের গতি ঠিক থাকলে এ বছরই নথি রায়ের জন্য প্রস্তুত হবে।
তিনি বলেন, মামলাটির বিচার, বিচার প্রক্রিয়া ও রায়ের দিকে বিশ্বের নজর রয়েছে। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষেই বিচারক, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ কাজ করে যাচ্ছেন। মামলায় এ পর্যন্ত যা সাক্ষগ্রহণ করা হয়েছে তাতে আমি মনে করি আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। তবু আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, মামলাটির ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে আমরা সহযোগিতা করছি। মামলাটি যে গতিতে চলছে তাতে মনে হচ্ছে বিচারক এ বছরই রায় ঘোষণা করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এ পর্যন্ত নেওয়া সাক্ষ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি রাষ্ট্রপক্ষ। কোনো সাক্ষী আসামিদের নাম, কিংবা এ আসামিরাই ঘ্টনার সাথে জড়িত ছিল এমন সাক্ষ্য দেননি। আদালতে এখন পর্যন্ত সঠিক সাক্ষ্যপ্রমাণ উত্থাপিত হয়নি।
মামলার রায়ে তার আসামিরা খালাস পাবেন মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালত মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে (স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ) হামলা চালায় জঙ্গীরা। ওই হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে তারা।
নিহতের মধ্যে নয়জন ইতালি, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতীয় ছিলেন।
এর আগে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। গ্রেনেড হামলায় ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ নিহত হন।
পরদিন সকালে যৌথ বাহিনী কমান্ডো ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামক অভিযান চালায়। এতে পাঁচ হামলাকারী নিহত হন। অভিযানে রেস্তঁরার প্রধান শেফ সাইফুল ইসলাম মারা যান। গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রেস্তঁরাটির সহকারি শেফ জাকির হোসেন।
২০১৬ সালের ৪ জুলাই নিহত ৫ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বাকি ১৩ জন মামলা তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন সময় মারা যান।
মামলায় করাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন, রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ ও মামুনুর রশীদ ।
আসামি শরিফুল ইসলাম পলাতক আছেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft