শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
জাতীয়
‘বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা নেই জঙ্গিদের’
কাগজ ডেস্ক :
Published : Sunday, 30 June, 2019 at 8:20 PM
‘বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা নেই জঙ্গিদের’হলি আর্টিজান হামলার পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে গেছে। তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সকল নেতাই ধারাবাহিক অভিযানে নিহত হয়েছেন বা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এ পর্যায়ে সকলের সমর্থিত বা মনোনীত অবিভক্ত কোন নেতা নেই। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে তাদের চেষ্টা থাকলেও বড় ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই। এ পর্যায়ে জঙ্গি হামলার ঝুঁকির মাত্রা খুব বেশি না হলেও সকলকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সবাই আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকলে জঙ্গিরা কখনোই সফল হবেন না।
রোববার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান কাউন্টার টোররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সমস্যা। যে কোন আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক বা জাতিগত ঘটনার প্রভাব পড়ে জঙ্গিদের উপর। নিউজিল্যান্ডে হামলার পর বাংলাদেশে ঝিমিয়ে পড়া জঙ্গিদের ভেতরে একটা আলোড়ন দেখেছি। এর পরপরই শ্রীলঙ্কায় হামলাও তাদের বড় অনুপ্রেরণা ছিলো। তাদের ইনটেনশন থাকলেও ক্যাপাসিটি বিপর্যস্ত করে দেওয়ায় তারা কোন ধরনের নাশকতায় সক্ষম হয়নি।’
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঝুঁকির মাত্রা খুব বেশি না থাকলেও আমাদের সকলকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’ আতঙ্কিত না হয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সচেতন থাকলে জঙ্গিরা কখনই সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি গুলিস্তান ও মালীবাগে পুলিশকে টার্গেট করে হামলা চালনোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইএস কর্তৃক এ হামলা চালানো হয়েছে, এমন কোন তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। যদি তর্কের খাতিরে এটাকে জঙ্গি হামলা হিসেবে ধরেও নেই, তাহলে তাদের সক্ষমতা কোন পর্যায়েই নেই- এ বিষয়টি পরিস্কার। যেহেতু বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন তাই এ হামলাকে জঙ্গি হামলা বলার সময় আসেনি।’
উপমাহদেশীয় অঞ্চলে আইএস তাদের অধ্যুষিত এলাকা ঘোষণা করেছে, এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোন জঙ্গির যোগাযোগ রয়েছে কি না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইএস হিন্দ নামে তাদের যে প্রভিন্স ঘোষণা করেছে এটা কাশ্মির কেন্দ্রিক। এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোন সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলোর কাঠামো ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছি। সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব পর্যায়ের প্রায় সবাই হয়তো কোন অভিযানে নিহত হয়েছেন নয়তো গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছেন।’
এ পর্যায়ে তাদের সকলের মনোনীত কোন নেতা নেই। ছোট-ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কার্যক্রম চালনোর চেষ্টা করছে তারা। লোন ওলফ না হলেও ওই জাতীয় ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সক্রিয় রয়েছেন, এ ক্ষেত্রে তাদের সুনির্দিষ্ট নেতৃত্ব নেই।’
হলি আর্টিজান হামলার তিন বছর পূর্তিতে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ তদন্ত শেষে আমরা ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছিলাম। হামলায় জড়িত বাকি ১৩ জন বিভিন্ন সময় অভিযানে নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে দুইজন পলতক ছিলেন, যারা পরবর্তী সময়ে র্যা বের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখন সকলেই জেলে রয়েছেন।
আমরা বলেছিলাম, তদন্তে আরো কারো নাম বেরিয়ে আসলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিবো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাকি দুইজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি আমরা। কিন্তু কারো বক্তব্যে অভিযোগপত্রে সংযুক্ত করার মতো এখনো নতুন কারো নাম আসেনি, নতুন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
হলি আর্টিজান হামলায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিলো কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতা ওই অর্থে বলা ঠিক হবে না। আমাদের কাছে কিছু তথ্য ছিল তবে তা সুনির্দিষ্ট ছিল না। দূতাবাস এলাকায় একটা হামলা হতে পারে বলে ভাসা ভাসা তথ্য ছিল। সেজন্য আমরা নিরাপত্তাও জোরদার করেছিলাম। আমরা যেভাবে ইনটেলিজেন্স সংগ্রহ করি সেটাকে একটা প্রসেস করে একটা অ্যাসেসমেন্ট দাড় করাই। আবার কখনো কখনো জঙ্গিদের যোগাযোগে নজরদারি বাড়ানো হয়। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিলো, চেকপোস্ট ছিল।
তবে এই আদর্শের লোকদের ইনটেন্ট ও ক্যাটাবিলিটি বেশি থাকলে এই ধরণের হামলা আসলে প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে দাড়ায়। আসলে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় হামলাটি ঘটেছে। এটাকে ইনটেলিজেন্স ফেইলর বলা যাবে না। ওই ঘটনার পর সারাদেশে সমালোচনা হয়েছে। জঙ্গিবাদ বিরোধী ঘৃণা জন্মেছে। এর মধ্যেও শোলাকিয়ায় হামলা চালনো হয়েছে।’



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft