সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিক্ষাবোর্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন প্রধান শিক্ষক
নূতন খয়েরতলা স্কুলে হুবহু গাইডের প্রশ্নে পরীক্ষা!
এম. জিহাদ
Published : Monday, 1 July, 2019 at 12:56 AM
অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষায় বোর্ডের প্রশ্নকে তোয়াক্কা না করে হুবহু গাইডের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোরের নূতন খয়েরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। যশোর শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা না মেনে বাণিজ্যে লিপ্ত এ বিদ্যালয়টি-অভিযোগ অভিভাবকদের। একই অভিযোগ আব্দুল গফুর একাডেমীর বিরুদ্ধেও। অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, বই কোম্পানিগুলো যেন এ স্কুলগুলোর মালিক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২২ জুন থেকে যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিকী ও দশম শ্রেণির প্রাকনির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রায় সব বিষয়ের প্রশ্ন সরবরাহ করছে যশোর শিক্ষাবোর্ড। কিন্তু এ নির্দেশনা মানছে না নূতন খয়েরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আব্দুল গফুর একাডেমী। তারা শুধুমাত্র অষ্টম ও দশম শ্রেণীর পরীক্ষা শিক্ষাবোর্ডে প্রশ্নে নিচ্ছে। 

খয়েরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষার সৃজনশীল প্রশ্নের সাথে একটি বই কোম্পানির সৃজনশীল বাংলা গাইড মিলিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষার ১১টি প্রশ্নের সাথে হুবহু মিল রয়েছে যথাক্রমে গাইডের ১৩ পৃষ্ঠার ৭নং প্রশ্ন, ৩৪ পৃষ্ঠার ৭নং, ৮৪ পৃষ্ঠার ৪নং, ১০৮ পৃষ্ঠার ২নং, ৩৩২ পৃষ্ঠার ৬নং, ৩৫৪ পৃষ্ঠার ৯নং, পরীক্ষার ৭নং ও ৩৮৭ পৃষ্ঠার ৩নং, ৬২৮ পৃষ্ঠার ৩নং, ৬৩৯ পৃষ্ঠার ২৪নং, ৬৮৬ পৃষ্ঠার ৫নং ও ৬৮৯ পৃষ্ঠার ১১নং প্রশ্নের। এছাড়া বহুনির্বাচনীর সবকয়টি প্রশ্ন ওই গাইড থেকে এসেছে। 
এছাড়া, নবম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞানের সৃজনশীল প্রশ্নের সাথে মিল পাওয়া যায় যথাক্রমে ওই গাইডের ৪০ পৃষ্ঠার ১১নং, ৭৯ পৃষ্ঠার ৩১নং, ৬৭ পৃষ্ঠার ৮নং, ১২৯ পৃষ্ঠার ৭নং, ১৩৫ পৃষ্ঠার ১৮নং, ১৯৪ পৃষ্ঠার ৩নং, ২৮২ পৃষ্ঠার ৩০নং, ২৬৯ পৃষ্ঠার ৪নং প্রশ্নের। শুধু একটি বিষয় নয় ৬ষ্ঠ, ৭ম ও নবম শ্রেণীর সব বিষয়ের প্রতিটি সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন জননী গাইড থেকে হুবহু তুলে দেয়া হচ্ছে। 

শিক্ষার্থীরা বলেন, পরীক্ষার আগেই শিক্ষকরা বলে দেন গাইড থেকে প্রশ্ন পড়বে। এজন্যে তারা বোর্ড বই পড়ে না। এছাড়া অনেক শিক্ষক ক্লাসেও ওই কোম্পানির গাইড থেকে ক্লাস নেন বলে জানিয়েছেন কিছু শিক্ষার্থী। স্কুলের সিলেবাসেও ওই কোম্পানির প্রকাশনার নাম দেয়া আছে। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই গাইড কিনে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। 

এ বিষয়ে খয়েরতলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ এহসানুর রহমান বলেন, বোর্ডের প্রশ্ন তার স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্যে কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া সমিতিরও স্বার্থ আছে বলে জানান তিনি। নির্দিষ্ট একটি গাইড থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দেয়া হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হুবহু দেয়া হচ্ছে না। প্রমাণ দেখালে তিনি স্বীকার করে বলেন, উকুন বাঁচলে কারো চুল থাকবে না। সব প্রতিষ্ঠানই কোনো না কোনোভাবে নিজেদের স্বার্থে কাজ করে।  তার স্কুলে ধীরে ধীরে এসব সমস্যা সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি। 

যশোর জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল মজিদ বলেন, সমিতি ২০১৩ সালের পর থেকে কোনো প্রশ্ন করে না। বোর্ডের প্রশ্ন হলে অবশ্যই সে প্রশ্নেই পরীক্ষা নেয়া উচিত। যারা এটা মানছে না তারা অন্যায় করছে। 

যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। নিদের্শনা না মানলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার এএসএম আব্দুল খালেক বলেন, এ সপ্তাহেই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান শিক্ষকদের ডেকে কারণ জানা হবে। অন্যায় করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft