সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৯
সারাদেশ
ভারতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল নয়ন বন্ড
কাগজ ডেস্ক :
Published : Tuesday, 2 July, 2019 at 4:28 PM
ভারতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল নয়ন বন্ডস্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে রিফাত হত্যার সেই ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিও চিত্রটি এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের টাইমলাইনে। অনুসন্ধান সুত্রে বেরিয়ে এসেছে রিফাত হত্যার পরবর্তী অদ্ভুত সব তথ্য। সেই অনুসন্ধান সুত্রে জানা গেছে কিভাবে গড়ে উঠেছে সেই ০০৭ গ্রুপ।
হত্যাকাণ্ড শেষে কোথা থেকে কোথায় গিয়েছিলো রিফাতের হত্যাকারীরা। সারাদেশে এমনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুধু একটাই আলোচনা, স্ত্রীর সামনে স্বামীকে হত্যা এবং সেই দৃশ্য তাকিয়ে দেখেছে অনেক মানুষ। কিন্তু কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেন?
রিফাতের এই মৃত্যুতে বরগুনা জেলাবাসীর চলছে শোকের মাতম। ফেসবুক মেসেঞ্জারে ০০৭ গ্রুপের সদস্যদের চ্যাটিং এর কিছু স্ক্রিনশট থেকে জানা গেছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে ০০৭ গ্রুপের সবাই ঘটনার দিন সকাল ৯টা থেকেই বরগুনা কলেজের রোডে অবস্থান নেয়। খুনীরা পৃথক পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রিফাত শরীফের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। ১০টা ২০ মিনিট থেকে শুরু হয় তাদের মূল মিশন। কলেজ গেইট পার হ‌ওয়ার পর ০০৭ গ্রুপের সদস্যরা ঘিরে ধরে রিফাতকে।
একের পর এক কিল ঘুষি লাথি মারতে থাকে নয়ন বন্ড। এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরায়েজীর কাছে নিয়ে যায়। শুরুটা করে রিফাত‌ই। নয়নের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে কোপাতে থাকে রিফাত শরীফকে। তাদের সাথে ধস্তাধস্তি করে রিফাত শরীফকে বাঁচাতে চেষ্টা করে তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি। হত্যাকাণ্ডের শেষে কলেজের রোড বেয়ে পশ্চিমে চলে যায় খুনীরা। উপজেলা পরিষদের পুকুর পাড়ের সড়কে অবস্থান নেয় নয়ন বন্ড ও রিফাত। ০০৭ গ্রুপের অন্য সদস্যরা নিজের মত করে সরে যায়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক নয়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের দিন বেলা ১১টায় নয়ন তার মাকে ফোন করে। ফোন তুলেই নয়নের মা নয়নকে প্রশ্ন করে ‘এই নয়ন তুমি নাকি কারে কোপাইছো? আহারে কার মায়ের কোল খালি করছো’।
উত্তরে নয়ন বলে, ‘কোপাইছি ঠিক করছি, তুমি আমার জামা কাপড় আর টাকা পয়সা ব্যবস্থা করো’ এ কথা বলেই নয়ন বন্ড বাসার কাছে একটি দোকানের পিছনে আসে। সেখান থেকে একটি ছেলেকে তার বাসায় পাঠিয়ে দেয়। নয়ন বন্ডের মা ওই ছেলের কাছে একটি শার্ট এবং প্যান্ট পাঠিয়ে দেয়। পরে আবারও তাকে টাকা পাঠাতে বলে। এবার নয়ন বন্ডের মা নিজে এসে তার ছেলের হাতে ২০,০০০ টাকা দিয়ে আসেন।’
এরপরে নয়ন বন্ড ও রিফাত টাকা নিয়ে কেজি স্কুল রোডে এক বন্ধুর বাড়িতে যায়। সেই জায়গায় তারা তিনজন বন্ধুর সাথে কথা বলে। ওই সময় নয়ন তার মোবাইল ভেঙে ফেলতে চাইলে একজন ফোনটি রেখে টাকা দিয়ে দেয়। এরপর নয়ন ও রিফাত তাদের আরেক ক্রোক হাওলাদার বাড়ির রিফাতের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করে। সেখান থেকে তারা পৃথক হয়ে যায়। নয়ন পুরাকাটা ফেরি পার হয়ে আমতলী গলাচিপা হয়ে পৌঁছে যায় দশমিনায়। সেখানে বুধবার রাত কাটায় সে। এরপর নৌ ও সড়ক পথে ভেঙে ভেঙে চলে যায় উত্তরবঙ্গের জেলা শহর দিনাজপুর।
বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার দিনের প্রথমভাগ পর্যন্ত চেষ্টা চালায় হিলি বর্ডারের চোরাপথ ধরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু এরই মধ্যে সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি হওয়ায় পালাতে ব্যর্থ হয় সে। আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল নয়ন বন্ডের। নিরাপত্তার স্বার্থে এরপর সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে।
নয়ন বন্ড র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাতে বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। নয়ন বন্ডের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft