বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯
আন্তর্জাতিক সংবাদ
আসামে বাঙালি মুসলিম বিনাশের ছক?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
Published : Tuesday, 2 July, 2019 at 8:08 PM
আসামে বাঙালি মুসলিম বিনাশের ছক?ভারতের আসামের নাগরিক তালিকা সংশোধনের কাজ আরও এক মাস বাড়িয়ে দেওয়া হলো৷ কিন্তু আদৌ কি তার পিছনে কোনো সদিচ্ছা কাজ করছে? নাকি এ আদতে বাঙালি খেদানোর ছক?‌‌
আসামের বৈধ বাসিন্দা কারা, আর কারাই বা বেআইনি বহিরাগত, তা শনাক্ত করার জন্য যে নাগরিক তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে, তা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ জুন৷ তার আগের দিন ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানালেন, যেহেতু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করা যায়নি, এর মেয়াদ আরও একমাস বাড়িয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত করা হলো৷
প্রথম দফায় তৈরি খসড়া নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল আসামের ৪০ লক্ষ বাসিন্দার নাম, যাদের এক বড় অংশ কয়েক পুরুষ ধরে আসামের বাসিন্দা৷ সেই নিয়ে বিস্তর বিতর্কের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ পাবে প্রত্যেকেই৷ সম্প্রতি জানানো হয়েছে, সেই আবেদনের মধ্যে ১ লক্ষ ২ হাজার চিরতরে বাতিল হয়ে গেছে৷ নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্ব এরা প্রমাণ করতে পারেননি৷
এই বেনাগরিক হয়ে যাওয়া মানুষগুলোর জন্য খালি করা হয়েছে সবকটি জেলা কারাগার৷ বিরাট এলাকা জুড়ে তৈরি হচ্ছে বন্দি শিবির৷ এখানে কার্যত বিনা বিচারে আটক রাখার ব্যবস্থা হচ্ছে হঠাৎ নাগরিকত্ব হারিয়ে ফেলা আসামবাসীদের৷ ভোটার তালিকার মধ্যেও সন্দেহজনক'দের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গেছে পুরোদমে৷ খবর জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের।
তথাকথিত ওই ‘‌ডাউটফুল’‌, বা ‌ডি ভোটার‌রাও নিজেদের প্রকৃত নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারলে, তাদের ঠিকানা হবে ওই বন্দিশিবির৷ আসাম রাজ্য জুড়ে এই যে ঝাড়াই-বাছাই চলছে, তার অন্তরালে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডাও সমান সক্রিয়৷ প্রকাশ্যেই বিজেপির নেতারা বলছেন, অবৈধ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের আসাম থেকে এবং ভারত থেকে তাড়ানো হবে৷
মুসলিম অনুপ্রবেশকারী বলে এক্ষেত্রে প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে রুটি-রুজির খোঁজে আসা খেটে খাওয়া মানুষজন, যাদের অনেকেই বংশ পরম্পরায় আসামের লোক৷ বিজেপি নেতারা খোলাখুলিই বলছেন, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার হাবেভাবে বোঝাচ্ছে যে, বিতাড়িত হবে মুসলিমরা, আশ্রয় দেওয়া হবে হিন্দুদের৷
কিন্তু পুরো ব্যাপারটাই আদতে বাঙালিকে কোণঠাসা করার চক্রান্ত৷ হিন্দু বা মুসলিম নয়, বাঙালিদের তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে আসাম থেকে, যা আদৌ নতুন কিছু নয়৷
আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এই বাঙালিবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব৷ তিনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই আসামে এই বাঙালি বিরোধী মানসিকতা সক্রিয়, যাতে ধারাবাহিকভাবে ইন্ধন জুগিয়ে গেছে প্রথমে কংগ্রেস এবং পরে বিজেপি সরকার৷
নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে আসাম গণ পরিষদের মতো আঞ্চলিক দলকে, যাদের ঘোষিত কর্মসূচি ছিল ‘‌বাঙালি খেদা’৷ আজকে বিজেপি ঠিক সেই বিদ্বেষই কাজে লাগাচ্ছে, যার প্রাথমিক সাফল্যের তাগিদে হিন্দু বাঙালির সেন্টিমেন্টকে খুঁচিয়ে তোলা হচ্ছে৷ বোঝানো হচ্ছে, আসল প্রতিরোধ মুসলিমদের বিরুদ্ধে৷ এই বলেই ‘‌বিজেপি সমস্ত বাঙালি হিন্দুদের মগজধোলাই করতে সমর্থ হয়েছে’-‌ মন্তব্য করেন তপোধীর ভট্টাচার্য৷
আশঙ্কা, নতুন যে বিল আনা হয়েছে, তাতেও ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার কোনো আশাই নেই৷ বলা হচ্ছে, নিজেকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে পারলে এবং ভারতে ছ’বছর থাকার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যাবে৷ কিন্তু সেটা আসলে আরও বড় এক ফাঁদ, যাতে বহিরাগতদের চিহ্নিত করতে সুবিধে হয়৷



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft