বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
হুবহু গাইডের প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ
নূতন খয়েরতলা স্কুলকে শিক্ষাবোর্ডের শোকজ
এম. জিহাদ :
Published : Thursday, 4 July, 2019 at 12:27 AM

শিক্ষাবোর্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন প্রধান শিক্ষক, হুবহু গাইডের প্রশ্নে পরীক্ষা’ শীর্ষক দৈনিক গ্রামের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে যশোর শিক্ষাবোর্ড। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত যশোর নূতন খয়েরতলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বুধবার শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র স্বাক্ষরিত এ নোটিশে অভিযুক্ত নূতন খয়েরতলা মাধ্যামক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ এহসানুর রহমানকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যাসহ কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ দর্শানো নোটিশে বলা হয়েছে, যশোর শিক্ষাবোর্ডের অনলাইন প্রশ্নব্যাংকের প্রশ্নেপত্রে পরীক্ষা না নিয়ে হুবহু গাইড বইয়ের প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়েছেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষক। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিদের্শনা ও বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তির পরিপন্থ’ী। গ্রামের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও প্রশ্নব্যাংকের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ না করায় কেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে সৈয়দ এহসানুর রহমানের কাছে। 
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন থেকে যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিকী ও দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়। এ পরীক্ষায় প্রায়সব বিষয়ের প্রশ্ন সরবরাহ করছে যশোর শিক্ষাবোর্ড। কিন্তু বোর্ডের এ প্রশ্ন ব্যবহার না করে গাইডের প্রশ্নে পরীক্ষা নিচ্ছে নূতন খয়েরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। 
খয়েরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষার সৃজনশীল প্রশ্নের সাথে একটি কোম্পানির মাধ্যমিক সৃজনশীল বাংলা গাইড মিলিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষার ১১টি প্রশ্নের সাথে হুবহু মিল রয়েছে যথাক্রমে গাইডের ১৩ পৃষ্ঠার ৭নং প্রশ্ন, ৩৪ পৃষ্ঠার ৭নং, ৮৪ পৃষ্ঠার ৪নং, ১০৮ পৃষ্ঠার ২নং, ৩৩২ পৃষ্ঠার ৬নং, ৩৫৪ পৃষ্ঠার ৯নং, পরীক্ষার ৭নং ও ৩৮৭ পৃষ্ঠার ৩নং, ৬২৮ পৃষ্ঠার ৩নং, ৬৩৯ পৃষ্ঠার ২৪নং, ৬৮৬ পৃষ্ঠার ৫নং ও ৬৮৯ পৃষ্ঠার ১১নং প্রশ্নের। এছাড়া, বহুনির্বাচনীর সবকয়টি প্রশ্ন নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির গাইড থেকে এসেছে। এছাড়া নবম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞানের সৃজনশীল প্রশ্নের সাথে মিল পাওয়া গেছে ওই গাইডের ৪০ পৃষ্ঠার ১১নং, ৭৯ পৃষ্ঠার ৩১নং, ৬৭ পৃষ্ঠার ৮নং, ১২৯ পৃষ্ঠার ৭নং, ১৩৫ পৃষ্ঠার ১৮নং, ১৯৪ পৃষ্ঠার ৩নং, ২৮২ পৃষ্ঠার ৩০নং, ২৬৯ পৃষ্ঠার ৪নং প্রশ্নের। শুধু একটি বিষয় না, ৬ষ্ঠ, ৭ম ও নবম শ্রেণির সব বিষয়ের প্রতিটি সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন গাইড বই থেকে হুবহু তুলে দেয়া হয়েছে। তবে, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষাবোর্ডের অনলাইন প্রশ্নব্যাংকের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া শুরু করেছে। এ কারণে গ্রামের কাগজকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরা। একই সাথে গাইড বই কিনতে বাধ্য করানোর জন্যে স্কুলটির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft