শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
প্রতিমন্ত্রীর সদিচ্ছায় মিলবে এসি, কমবে রোগীদের দুর্ভোগ
ফয়সল ইসলাম :
Published : Friday, 5 July, 2019 at 6:55 AM
প্রতিমন্ত্রীর সদিচ্ছায় মিলবে এসি, কমবে রোগীদের দুর্ভোগসদিচ্ছা দিয়ে আর্ত মানবতার সেবার অনন্য নজির গড়লেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। কথা ও কাজে তিনি প্রমাণ করলেন মানব সেবাই বড় ধর্ম। কথাটি মনেপ্রাণে ধারণ করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে রোগীদের দুর্ভোগ-দুর্দশা লাঘবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিশেষ বরাদ্দ থেকে ছয় লাখ টাকা তাৎক্ষণিক থোক বরাদ্দ দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর এ বিশেষ সিদ্ধান্ত রোগী এবং তাদের স্বজনসহ সকলের প্রশংসা অর্জন করেছে।
বৃহষ্পতিবার দেশের মধ্যে প্রথম যশোর জেলা হাসপাতালে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার চালুসহ হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যান প্রতিমন্ত্রী। নির্ধারিত সময়ের আগে হাসপাতালে পৌছে তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিট পরিদর্শন করে রোগীদের দুর্ভোগসহ অন্যান্য অব্যবস্থাপনা উপলব্ধি করেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিরসনের জন্যে তাই অভিনব উদ্যোগ নিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,  করোনারি কেয়ার ইউনিটের দুরাবস্থার বিষয়ে গ্রামের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে ও খবরটি পড়ে বেশ ব্যাথিত হয়েছি। সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছিলাম। পেয়েও গেছি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান দেয় সরকার। জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর ওই বরাদ্দ থেকে কাটছাট করে ৬ লাখ টাকা আর্তমানবতার সেবার জন্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি থোক বরাদ্দ। হাসপাতালের উন্নয়নে ও রোগীদের সর্বোন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নিয়মিত থোক বরাদ্দ দেয়া হবে।’ ওই টাকা থেকে ৪টি এসি কিনে করোনারি কেয়ার ইউনিটে স্থাপনসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি ।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে গুরুত্ব দিয়েছে। ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনে বিশাল বিনিয়োগ করা হয়েছে। কারণ আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার স্বাস্থ্য খাতে এসডিজি অর্জন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস নিশ্চিত করা। চলতি বছরের ২৮ প্রতিমন্ত্রীর সদিচ্ছায় মিলবে এসি, কমবে রোগীদের দুর্ভোগফেব্রুয়ারি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার, ডিজিটাল এক্স-রে উদ্বোধন এবং ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের ভীড় কমাতে ভিজিটর পাস ব্যবস্থা করা। সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার ও ডিজিটাল এক্স-রে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হল। ভিজিটর পাস ব্যবস্থাও অচিরে চালু হয়ে যাবে।’
হৃদরোগের অত্যাধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র করোনারি কেয়ার ইউনিট চালানোর পূর্বশর্তই আছে সম্পূর্ন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়ার্ড এবং কেবিনের ব্যবস্থা করা। তা বাস্তবায়ন না করে কৃত্রিম দুর্বিসহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে। ইউনিটটির এসি গুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষকে সেগুলো মেরামত কিংবা নতুন এসি স্থাপনের ব্যাপারে কার্যকরি কোনো ভূমিকা নিতে পারেননি। চরম অব্যবস্থাপনায় করোনারি কেয়ার ইউনিটে চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম ও রোগীদের দুর্ভোগের সচিত্র প্রতিবেদন গত ১২ জুন গ্রামের কাগজে প্রকাশ হয়েছে। এ প্রতিবেদনটি নজর কেড়েছে প্রতিমন্ত্রী ও জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্বপন ভট্টাচার্য্যরে। প্রতিমন্ত্রী একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে সরকারি ভবনে এনজিও পরিচালিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধের ব্যবস্থা করতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেন। একই সাথে হাসপাতালে একটি ন্যায্যমূল্যের ফার্মেসি করার ব্যাপারেও তাগিদ দেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেন দালাল নির্মূলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রতিমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন আগামী সভার আগেই প্রশাসনের পক্ষে যা যা করা সম্ভব তা পুরোটাই করা হবে।   
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার মঈনুল হক, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দীন, সিভিল সার্জন ডাক্তার দিলীপ কুমার রায়, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টারের উদ্যোক্তা মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার ইয়াকুব আলী মোল্লা,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ডাক্তার ইমদাদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার গোলাম ফারুক, ডাক্তার রবিউল ইসলাম, ডাক্তার এএইচএম আব্দুর রউফ, যশোর পৌরসভার কাউন্সিলার শেখ মোকছিমুল বারী অপু, দৈনিক গ্রামের কাগজের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফয়সল ইসলাম, দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার বিল্লাল হোসেন, রোগী কল্যাণ সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন খোকন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন বিভিন্ন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসি দালালদের দৌরাত্ম পুরোপুরি নিরসন হয়নি। সরকারি হাসপাতাল ভবনেই একটি এনজিও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা করছে। এতে রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিত্যাক্ত ভবনগুলোতে অবৈধভাবে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও বহিরাগতরা বসবাস করছেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব সমস্যাগুলো জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের  নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) ডাক্তার মঞ্জুরুল মুর্শিদ, মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডাক্তার আখতারুজ্জামন, হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তার আব্দুর রহিম মোড়ল, ডাক্তার হিমাদ্রী শেখর সরকার, যশোর বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার এমএ বাশার, হাসপাতালের উপসেবা তত্বাবধায়ক ফেরদৌসী বেগম, মেডিসিন ব্যাংকের অর্থ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক জহিরুল আলম, জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম, সমাজসেবা অফিসার ইতি সেন প্রমুখ।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft