বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
হতাশায় জুয়েলার্স মালিক আনন্দ
আটক রিকশাচালক ও পাশের দোকানি কোনো তথ্য দেয়নি
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Sunday, 7 July, 2019 at 1:12 AM
যশোর শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্স থেকে ৪৭ ভরি সোনা চুরির ঘটনা তদন্তে যশোর ডিবি পুলিশ মাঠে নামলেও ভুক্তভোগী অমিত রায় আনন্দকে এখনও কোনো ভাল সংবাদ দিতে পারেনি। যে কারণে চরম হতাশা আর উৎকণ্ঠায় সময় কাটছে তার। এখন পর্যন্ত আটক রিকশাচালক ও পাশের দোকানির কাছ থেকে চুরি সংক্রান্ত কোনো তথ্য মেলেনি।
গোয়েন্দা পুলিশ পুরোনো দাগী সোনা চোরদের মাধ্যমে প্রিয়াঙ্গণের চুরিতে জড়িতদের পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। আটক রিকশাচালক আব্দুল হালিম ও প্রতিবেশি দোকানি প্রদীপ রক্ষিতের রিমান্ড মঞ্জুর হলে মামলার অগ্রগতিমূলক তথ্য আসতে পারে বলে দাবি ডিবি ওসি মারুফ আহমেদের। তিনি বলেন, স্থানীয় যোগসূত্রতার খোঁজ নেয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোনা উদ্ধার ও চোর চক্র সনাক্ত হবে বলেও দাবি তার। 
২৭ জুন বিকেল ৩টা ৫২ মিনিটে ত্রিপল টাঙিয়ে যশোর কোতোয়ালী থানা মোড়ের প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সে বড় ধরণের চুরি হয়। সংঘবদ্ধ চোর চক্র ৩টা ৫২ মিনিটে ঢুকে ৮ মিনিট পর বিকেল ৪টা ১ মিনিটে বেরিয়ে আসে। আর বিনা বাধায় ব্যাগে করে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যায়। চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি যশোরের নেতৃবৃন্দসহ সব জুয়েলারি দোকানিরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দ্রুত ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করে আটক দাবি করেন পুলিশ প্রশাসনের কাছে। একই সাথে ২৮ জুন থানায় এজাহার দাখিল করেন জুয়েলার্স মালিক অমিত রায় আনন্দ। অজ্ঞাত চোর চক্রের বিরুদ্ধে দেয়া মামলায় ৪৭ ভরি ১২ আনা সোনার গহনা ও নগদ আড়াই লাখ টাকা চুরির হিসেব দেয়া হয়। যার মূল্য প্রায় ২৪ লাখ ৭৯ হাজার দুশ’৫০ টাকা। 
এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে থানার সাড়ে ৯ গজ দূরে জনবহুল এলাকায় দুর্ধর্ষ এই চুরির ঘটনায় থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তোলায় ২৮ জুন রাতে মামলাটি হস্তান্তর করা হয় যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবিতে। মামলাটি নিয়ে জোরেসোরে কাজ শুরু করে ডিবি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনায় গোয়েন্দা শাখার একটি আইটি স্পেশালিস্ট টিমও মাঠে নামে। সিসি ক্যামেরা থেকে সংগৃহিত ভিডিও ফুটেজে চোরদের অস্পষ্ট ছবি নিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। চোর সনাক্ত করার কাজ এগিয়ে চলে। চুড়িপট্টির কয়েক ব্যবসায়ী ও থানার পাশে চুড়িপট্টিতে ঢোকার মুখে যে সব হকার বসে মালামাল বিক্রি করে তাদের উপর নজরদারি রাখা হয়। 
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় পাশের জয় স্টোরের মালিক প্রদীপ রক্ষিতকে। চুরির সময় সে দু’বার জুয়েলার্সের সামনে আসে। আবার চুরির পর জুয়েলার্সের সামনে আসে। রহস্যজনক আচরণ পরিলক্ষিত হওয়ায় তাকে ওই মামলায় আটক দেখিয়ে চালান করা হয়। একইসাথে তার ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। কিন্তু তার রিমান্ড শুনানি হয়নি। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো তথ্যও দেননি। এলোমেলো কথা বলেছেন। 
এছাড়া সিসি টিভি ফুটেজে চুরির সময় দেখা যাওয়া রিকশা চালক আব্দুল হালিম সরদারকে আটক করা হয়। তিনি যশোর শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার মকছেদ সরদারের ছেলে। ঘটনার দিন দুপুরে চুরির সময় ৮ মিনিট ওই রিকশা চালক দোকানের সামনে রিকশা নিয়ে অবস্থান করছিলেন, যা সিসি টিভিতে দেখা যায়। ৩ জুলাই আব্দুল হালিম তার রিকশা নিয়ে ওই দোকানের সামনে আবার আসলে তাকে আটক করা হয়। 
জেলা গোয়েন্দা শাখার কয়েকজন অফিসার চুরির ব্যাপারে হালিমকে নানামুখি প্রশ্ন করলেও তিনি তথ্য দেননি। শেষমেশ তাকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে চালান দেয়া হয়েছে। দু’জন আটক হলেও কার্যত কোনো তথ্য না পাওয়ায় স্থানীয় যোগসূত্রতা উদ্ধার করা যায়নি। কোনো আশার বাণী শুনতে না পাওয়ায় হাতাশা-উৎকণ্ঠায় সময় কাটছে জুয়েলার্স মালিক অমিত রায় আনন্দের। 
তিনি গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, তার দোকানে চুরির ঘটনায় আতংক বিরাজ করছে গোটা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে। দিন-দুপুরে ওই চুরির ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি দাবি করে তিনি এখনও নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছেন। মাথায় পাহাড় সমান দুঃশ্চিন্তা নিয়ে তিনি দিন পার করছেন। তার জীবন ও জীবিকার প্রশ্নে চুরি যাওয়া সোনা উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আটক দাবি করেছেন তিনি। 
এ ব্যাপারে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহমেদ গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, স্থানীয় যোগসূত্রতার খোঁজ খবর নেয়া চলছে। জুয়েলারি মালিকের পরিচিত কেউ বা এই ব্যবসার সাথে জড়িত কেউ নেপথ্যে আছে কিনা সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে আটক প্রদীপ ও হালিমের রিমান্ড মঞ্জুর হলে। তিনি আরও জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোনা উদ্ধার ও চোর আটক করা সম্ভব হতে পারে। 




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft