সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
গ্রামে বসেই মিলছে সঞ্চয়পত্র
কাগজ সংবাদ :
Published : Sunday, 7 July, 2019 at 1:13 AM
ঘরে বসেই কেনা যাবে সঞ্চয়পত্র। দুনীর্তি ও স্বজনপ্রীতি ঠেকানো আর তৃণমূল মানুষের হাতে সঞ্চয়পত্র পৌঁছে দিতেই সরকারের এ নান্দনিক উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 
প্রথম দিকে ঢাকা কেন্দ্রিক শুরু হলেও তা এখন গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্রামের ডিজিটাল পোষ্ট অফিস থেকেই অনলাইনে কেনা যাবে সঞ্চয়পত্র। তবে, সঞ্চয়পত্র কিনতে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে। গ্রাহকের মূল টাকাসহ মুনাফার অর্থও যাবে ব্যাংক হিসেবে। মূল টাকা ও মুনাফার অর্থ নগদ আকারে দেয়া হবে না। 
সূত্র জানায়, সঞ্চয়পত্র বেচাকেনার ক্ষেত্রে চালু করা হচ্ছে বেশ কিছু নতুন নিয়ম। এগুলোর বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যে সীমিত আকারে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। আগে সঞ্চয়পত্র নগদ অর্থে কেনা যেত। এ নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। এখন কোনো সঞ্চয়পত্র নগদ টাকায় কেনা যায় না। ব্যাংক চেকের মাধ্যমে টাকা দিতে হয়। পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পুরো টাকাই এখন ব্যাংক চেকের মাধ্যমে দিতে হয়। পেনশনের অর্থ থেকেই সঞ্চয়পত্র কেনা হচ্ছে এটা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। কেননা এটি শুধু সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই কিনতে পারেন।
ব্যাংক হিসাব একেবারে না থাকলে সেক্ষেত্রে নেয়া হচ্ছে নগদ টাকা। তবে, গ্রাহককে বাধ্য করা হচ্ছে ব্যাংক হিসাব খুলতে। কেননা সঞ্চয়পত্রের মূল টাকাসহ মুনাফার টাকা নগদ আকারে দেয়া হচ্ছে না। এসব টাকা দেয়া হচ্ছে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে। গ্রাহক ছাড়া অন্য কারও হিসাবেও দেয়া হয় না এসব টাকা।
চলতি বছরের জুলাই থেকে জেলা, উপজেলার পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়েও অনলাইনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। এদিকে এ বছরের মার্চে ঢাকায়, মে তে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং জুনে জেলা ও উপজেলায় এবং সর্বশেষ পহেলা জুলাই থেকে অনলাইনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি শুরু হয়েছে।
সঞ্চয়পত্রের চাহিদা বেশি। ফলে, এটি যাতে সঠিক ব্যক্তিরাই কিনতে পারেন, অন্য কোনো খাতে না যায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আর এ খাতের অর্থ সরকারি হিসেবে ফেলে না রেখে ভালোভাবে বিনিয়োগ করলে অর্জিত আয় থেকেই গ্রাহকদের মুনাফার অর্থ দেয়া সম্ভব হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। 
তবে, সব ধরনের ক্রেতার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দেয়ার সময় এর বিপরীতে পাঁচ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশ হারে উৎস কর কেটে রাখার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। তাছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগ বন্ধে সরকার অনলাইনে সঞ্চয়পত্র বিক্রির এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
শুধু তাই নয় দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয়পত্র নিয়ে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি চলছিল। তা বন্ধেই সরকারের সঞ্চয়পত্র বিক্রির এ নানন্দিক উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন যশোর ডাক বিভাগের ডেপুটি পোষ্ট মাস্টার খন্দকার মাহাবুব হোসেন। 
তিনি আরও জানান, সঞ্চয়পত্র পহেলা জুলাই থেকে অনলাইনে হয়েছে। অনেক ধরনের দুর্নীতি রোধে এ কাজ করা হয়েছে। একই সাথে তিনি বলেন, সরকার উৎস কর যে ১০ শতাংশ করেছে তার একটি চিঠি যশোর অফিসেও এসেছে, যার ফলে পহেলা জুলাই থেকে মুনাফাভোগীদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ হারে উৎস কর কাটা হচ্ছে। 
তিনি জানান, সঞ্চয়পত্র অনলাইন হওয়াতে যথেষ্ট সুবিধাও হয়েছে। কারণ এখন আর জেলা বা উপজেলা শহরে যাওয়া লাগবে না। গ্রামের একটি পোষ্ট অফিস থেকেও কেনা যাবে এটি। তবে, এখনও পর্যন্ত সব পোষ্ট অফিসে অনলাইন চালু করা সম্ভব হয়নি লোকবলের অভাবে। খুব শীঘ্রই লোকবল সংকট কেটে গেলে শতভাগ সার্ভিস চালু করা হবে। তিনি জানান, এ সর্ভিসটি এখন থেকে সারা দেশেই চালু হয়েছে।   





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft