রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কে দেবে ট্রেড লাইসেন্স !
এম. আইউব :
Published : Sunday, 7 July, 2019 at 1:17 AM
দীর্ঘদিনের প্রথা আর থাকছে না। এতদিন ব্যবসা সংক্রান্ত কর্মকা- করতে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করতো সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ। এসব প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স দেয়ার কোনো এখতিয়ার নেই বলে জানিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালাচারাল মার্কেটিং-ড্যাম (কৃষি বিপণন অধিদপ্তর)। 
সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের দাবি, যেকোনো ধরনের লাইসেন্স একমাত্র সরকারি দপ্তর দেয়ার এখতিয়ার রাখে। কোনো কর্পোরেশন কিংবা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স দিতে পারে না। এতদিন যে ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে আসছে সেটি অবৈধ বলে দাবি ড্যামের। 
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ওয়্যারহাউজ অর্ডিনেন্স-১৯৫৯ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৬৪ সংশোধিত-১৯৮৫-এর মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা জোরদার করতে সর্বশেষ ২০১৮ সালে একটি আইন প্রণীত হয়েছে। যাতে যাবতীয় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরকে। এই আইন বলে ট্রেড লাইসেন্স দেয়ার একমাত্র এখতিয়ার এই দপ্তরের বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। 
তাদের দাবি, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালিত হচ্ছে ১৯৭৭ সালের প্রণীত আইন দিয়ে। যা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর পরিচালিত হওয়ার অনেক পরে হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, দি পৌরসভা মডেল ট্যাক্স সিডিউল অধ্যাদেশ-১৯৭৭ ও ইউনিয়ন পরিষদ মডেল ট্যাক্স সিডিউল অধ্যাদেশ-১৯৭৭ অনুযায়ী এই দু’ প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ‘ট্যাক্স অন প্রোফেশন, ট্রেড অ্যান্ড কলিংস’। যা দ্বারা পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ একমাত্র ট্যাক্স নিতে পারবে। কিন্তু কোনোভাবেই তারা লাইসেন্স প্রদান করতে পারবে না। তারপরও দীর্ঘদিন ধরে এই দু’প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করে আসছে। 
কৃষি বিপণন আইন-২০১৮ অনুযায়ী কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষি পণ্য, মৎস্য, মৎস্য খাদ্য, মৎস্যজাত পণ্য, উপকরণ, পশু বা পশুজাত পণ্য, পশুখাদ্য বা উপকরণ, চামড়া বা চামড়াজাত পণ্য, দুগ্ধ বা দুগ্ধজাত পণ্য, কাঠ, ফার্নিচার, পাট বা পাটজাত পণ্য, চা, চিনি, লবণ, ভোজ্যতেল, সুজি, সেমাই, ফলের রস বা জুস, তুলা, ফুল, ফলমূল, তামাকসহ যেকোনো প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, কৃষি উপকরণ এবং কৃষিকাজ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত মেশিনারিজ বা যন্ত্রপাতির ব্যবসায়ীকে লাইসেন্স প্রদান করবে। এই দপ্তর থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করা না হলে আইনের ৫,৬ ও ৭ ধারা লঙ্ঘন করা হবে বলে উল্লেখ করা 
কৃষি বিপণন আইন-২০১৮ এর ১৯(১) (চ) ধারায় কৃষিপণ্যের মোড়কে পণ্যের পুষ্টিমান ও উপাদানের শতকরা হার, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ বা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ না করলে বা মেয়াদ উত্তীর্ণের পর তা বিক্রি বা বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করলে তিনি অনধিক এক বছরের কারাদ- বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদ- অথবা উভয় দ-ে দন্ডিত হবেন। 
১৯ (১) (ছ) ধারায় জনস্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক বা অন্য কোনো দ্রব্য কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যে ব্যবহার করলে, ১৯ (১) (জ) ধারায় ওজনে কম দিলে, ১৯ (১) (ঝ) ধারায় জরুরি অবস্থা বা সংকট মোকাবিলার জন্যে সরকারের চাহিদা ও নির্দেশনা অনুযায়ী গুদাম বা হিমাগার মালিক এবং মজুতকারী গুদাম বা হিমাগারে মজুতকৃত পণ্য সরবরাহ না করলে,  ১৯ (১) (ঞ) ধারায় ক্রয়কৃত পণ্যের মূল রশিদ দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ না করলে, ১৯ (১) (ট) ধারায় সরকার কর্তৃক ইজারাকৃত বা অনুমোদিত হাটবাজারে কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য পাইকারি বা খুচরা হিসেবে ক্রয়-বিক্রয়ে বাধা প্রদান করলে, ১৯ (১) (ঠ) ধারায় কৃষি উপকরণ ও কৃষিপণ্যের সরবরাহে বাধা সৃষ্টি অথবা যে কোনোভাবে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে বা বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তার গুদাম বা হিমাগার হতে খুচরা বিক্রেতা বা ভোক্তার কাছে বিক্রি করতে অস্বীকার করলে এবং ১৯ (১) (ড) ধারায় কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, কৃষি উপকরণ ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারের অধিক মুনাফা গ্রহণ করলে তিনি অনধিক এক বছর কারাদ- বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদ- অথবা উভয় দ-ে দন্ডিত হবেন। 
দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন। চিরাচরিত সেই নিয়ম ভেঙে নতুন করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করা ব্যবসায়ীদের জন্যে বাড়তি চাপ বলে অধিকাংশের মন্তব্য। তারা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা চান। তাদের বক্তব্য, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে যদি ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয় তার আগে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেয়ার বিষয়টি বাতিল করতে হবে। তা না হলে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করা ব্যবসায়ীদের জন্যে রীতিমত বোঝা। কেবল বোঝা-ই না, ব্যবসায়ীরা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আহবানে সাড়া দিবে না।
এদিকে, বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার বিষয়ে আলাপ করলে তাদের অধিকাংশ তেমন কিছু জানেন না বলে জানান। তারা এ ধরনের দপ্তরের নাম শোনেননি বলেও উল্লেখ করেন। 
এ বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের যশোর জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান বলেন, যাদের কাজ তাদের করতে দেয়া উচিত। পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ কেবল ট্যাক্স নিতে পারে। তারা কোনোভাবেই লাইসেন্স দিতে পারে না। লাইসেন্স দিবে একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেই হিসেবে সকল ব্যবসার লাইসেন্স দেয়ার এখতিয়ার একমাত্র কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের। যার আইন প্রণয়ন হয়েছে। 
এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেন, ট্রেড লাইসেন্স দেয়ার এখতিয়ার পৌরসভার। এ সম্পর্কে আইন আছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যদি আইনগত কর্তৃপক্ষ হয়ে থাকে তাহলে এতদিন তারা বসে আছে কেন। তাদের দাবির আইনগত ভিত্তি আছে কিনা আমাদের জানা নেই। 
যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন-২০০৯ এর ধারা ২(৩) বলে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে। এটি ইউনিয়ন পরিষদের অনেকগুলো আয়ের একটি। 




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft