রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
৫০ হাজার টাকা জরিমানা ॥ যমেক হাসপাতালে ৪ দালালের কারাদন্ড
কাগজ সংবাদ :
Published : Tuesday, 9 July, 2019 at 1:22 AM

৫০ হাজার টাকা জরিমানা ॥ যমেক 
হাসপাতালে ৪ দালালের কারাদন্ডযশোরের বহুল বিতর্কিত লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে এনে গলাকাটা ব্যবসা করাসহ নানা অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পেয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল ইসলাম। রোগীদের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা ৮ হাজার টাকা ও যৌনকর্মে ব্যবহৃত ১০টি লুব্রিকেন্ট টিউব জব্দ করা হয়েছে অভিযানকালে। অভিযানের সময় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালীর অভিযোগে ৪ যুবককে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। 
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের গা লাগোয়া ভবনে প্রতিষ্ঠিত লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি পুরোপুরি দালালনির্ভর। এ প্রতিষ্ঠানের ডজনখানেক দালাল প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সরকারি হাসপাতাল থেকে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিতর্কিত তাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, উন্নতমানের মেশিনারিজ না থাকা সত্বেও তারা অব্যাহতভাবে প্রতারণা করছে। 
গত ৪ জুলাই জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিংয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার মঈনুল হক ও সিভিল সার্জন ডাক্তার দিলীপ কুমার রায়ের কাছে লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়। ওই দিনই প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।  
গতকাল দুপুর ২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দেখতে পান সরকারি হাসপাতালের টিকিট নিয়ে রোগীরা ডাক্তারের অপেক্ষা করছেন। প্যাথলজি ল্যাবে তল্লাশকালে হতভম্ব হয়ে যান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনকারী কর্মকর্তারা। সেখান থেকে উদ্ধার হয় যৌনকর্মে ব্যবহৃত ১০টি লুব্রিকেন্ট টিউব। 
বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, টেকনোলজিস্ট, প্রয়োজনীয় উন্নতমানের যন্ত্রপাতি  না থাকা ও দালালের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক লাইলী ইয়াসমিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও তা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 
এছাড়া, আদালতের নির্দেশে দালালদের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে আনা রোগী যশোরের চৌগাছা উপজেলার সাজ্জাদপুর এলাকার আমির আলীর স্ত্রী ফরিদাকে ১১০০ টাকা, যশোর সদর উপজেলার উসমানপুরের ইদ্রিস আলীর স্ত্রী রেশমাকে ৭০০ টাকা, সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার খুবদিপুর গ্রামের দেদারুল আলমের মেয়ে মঞ্জুকে ১৩০০ টাকা, যশোর সদর উপজেলার উসমানপুরের নওশের আলীর ছেলে মনিরুল ইসলামকে ১৭০০ টাকা, চৌগাছা উপজেলার বলিদানপুর গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে আবীরকে ১৪০০ টাকা, জোহরা খাতুনকে ৭০০ টাকা, হালিমাকে ১৩০০ টাকা, তবিবর রহমানকে ৫০০ টাকাসহ মোট সাড়ে ৮ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়। 
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন, কোতোয়ালী মডেল থানায় ইন্সপেক্টর শিহাবুর রহমান শিহাব, ইন্সপেক্টর সামসুদ্দৌহা, এসআই মাহাবুবুর আলম, এএসআই আল মিরাজ খানসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। 
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে লাইফ কেয়ারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। ওই সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা দেখতে পান, বিভিন্ন মেডিকেল টেস্টের জন্যে নির্ধারিত মূল্যের প্রদর্শিত তালিকা নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ ফিস আদায় করা হয়। এই অভিযানে পাওয়া যায় একজন ডাক্তারের স্বাক্ষরিত মেডিকেল টেস্ট রিপোর্টের প্রায় ২শ’ খালি পাতা। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়ন ছাড়াই হসপিটাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো যা পরবর্তীতে রোগীদের রিপোর্ট দেওয়ার জন্যে ব্যবহার করেন। আর্থিক জরিমানার পরও লাইফ কেয়ারের প্রতারণা থামেনি। বর্তমানে আরো জোরদার হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছেন, যশোর  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রথম গেটের গা ঘেঁষেই অবস্থিত লাইফ কেয়ার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। গত বছর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন যমেক হাসপাতালের সাবেক আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার মনির হাসান। এর আগে মালিক ছিলেন জাহিদ হোসেন। এটি একটি নাম সর্বস্ব স্বাস্থ্যসেবা   কেন্দ্র। এখানে নেই বিশেষ ডাক্তার, মেশিনারিজ, প্যাথলজিস্ট, ল্যাব টেকনিশিয়ান। সরকারি হাসপাতালের গা ঘেঁষে নামমাত্র এই হসপিটালটি গড়ে তোলায় দালালরাও রোগীর সাথে প্রতারণা করার সুযোগ পাচ্ছেন খুব সহজেই। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে শুরু করে লাইফ কেয়ারের গেট পর্যন্ত দালালের বিচরণ। এক দালাল আরেক দালালের হাতে রোগীদের তুলে দেয়। দালালরা রোগী ও স্বজনদের বলে থাকে সেটি হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগের একটি অংশ। হাসপাতালের ২, ৩, ৪, ৬ ও ৭ নম্বর কক্ষ ওই ভবনে। সেখানে ডাক্তার রোগী দেখছেন। আর রোগীরা বিশ্বাস করে সেখানে চলে যাচ্ছেন। এরপর শুরু হয় গলাকাটা বাণিজ্য। 
যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে লাইফ কেয়ারের অনুমোদন দেয়া হয়। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৩৮৩।  ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্স মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাও নবায়ন করা হয়নি।
এদিকে, গতকাল দুপুর ১২টার দেিক যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালীর দায়ে ৪ যুবক ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল ইসলাম।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার শেখ জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত দুপুর ১২টার দিকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাট এলাকার হায়দার আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান মনির, শেখহাটি পূর্বপাড়ার জোবায়ের হোসেনের ছেলে জাফর হোসেন, ঘোপ এলাকার শরিফুজ্জামানের ছেলে রকিবুজ্জামান সাচ্চু ও শংকরপুর এলাকার রুবেল শেখ নামে ৪ যুবককে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাদের কারাদন্ডাদেশ দেন। 
তবে রুবেলের দাবি, তিনি কোনো দালাল নন। তার স্ত্রী হাসপাতালে চাকরি করেন। তিনিও একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত স্ত্রীকে খাবার দিতে এসে তিনি ভুল বোঝাবুঝিতে আটক হয়েছেন। 




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft