সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
অভয়নগরে মানব চক্রের দুই নারী সদস্য আটক
চাকরির লোভ দেখিয়ে পাচার করা হচ্ছে অসহায় পরিবারের নারী-শিশুকে
নওয়াপাড়া পৌর (যশোর) প্রতিনিধি :
Published : Tuesday, 9 July, 2019 at 1:24 AM
ডাক্তার দেখানোর নামে ভারতের মুম্বাইয়ে বিক্রি করে দেয়া অভিযোগে অভয়নগরে কেয়া বেগম ও রহিমা বেগম নামে দুই পাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার ভোর রাতে উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের বাগদহ গ্রাম থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় পাচার চক্রেরে মুল হোতা মঈনুল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটক কেয়া উপজেলার সরখোলা গ্রামের মঈনুল ইসলামের স্ত্রী এবং রহিমা বাগদহ গ্রামের পশ্চিমপাড়ার ওমর আলীর স্ত্রী। 
অভয়নগরের পল্লী থেকে পাচারের শিকার ওই নারীর স্বামী জানান, প্রায় এক বছর আগে তার স্ত্রী নিখোঁজ হন। ৭ জুলাই রাতে তিনি আকস্মিকভাবে ভারত থেকে মোবাইলে ফোন করে জানান মুম্বাইয়ে তিনি খুব কষ্টে আছেন। তিনি স্বামীকে জানান, সরখোলা গ্রামের মঈনুল, তার স্ত্রী কেয়া ও তাদের প্রতিবেশি রহিমা তাকে ডাক্তার দেখানোর নাম করে যশোরে নিয়ে আসে। এখান থেকে কৌশলে তাকে ভারতের মুম্বাই নিয়ে যায়। এখানে তাকে অনৈতিক কাজ করতে চাপ দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি তার স্বামীকে জানান। তিনিসহ আরো বেশ কিছু বাংলাদেশি নারী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। ওই নারী তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার জন্য তার স্বামীকে অনুরোধ করেন।
পাচারের শিকার ওই নারীর স্বামী তার স্ত্রীর কথা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে অভয়নগর থানার ওসিকে শোনান। পুলিশ সোমবার ভোর রাতে মঈনুলের স্ত্রী কেয়া ও রহিমাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় মঈনুল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনার পর মঈনুল ও তার মানব পাচারকারী চক্র সম্পর্কে আরো তথ্য পাওয়া গেছে। তারই এলাকার এক বিধবা অভিযোগ করেন বিদেশে ভালো চাকরি দেয়ার নামে তার ১৭ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে গেছে মঈনুল ও তার স্ত্রী। এ ঘটনার ছয় মাস অতিবাহিত হলেও তার মেয়ের কোন সন্ধ্যান তারা পাননি। এ বিষয়ে মঈনুলকে জিজ্ঞাসা করলেও তারা টালবাহানা করে। ওই নারী বলেন, ‘এখনতো মনে হচ্ছে তার মেয়েকে ভারতেই পাচার করা হয়েছে’। 
একই গ্রামের আরো এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার ১৩ বছর বয়সী শিশু কন্যাকে মঈনুল ও তার স্ত্রী একটি বাড়িতে ভালো চাকরি দেয়ার কথা বলে গত ১৫ দিন আগে নিয়ে যায়। এখন জানতে পেরেছেন তার মেয়েকে ভারতে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি এই চক্রের বিচার দাবি করেন। 
সরেজমিনে বাগদাহ গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ভালো বেতনে কাজ দেয়ার নাম করে মঈনুল ইসলাম দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ও শিশুদের ভারতে পাচার করে আসছে। এলাকাবাসী কয়েকবার মঈনুলকে আটকের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। চতুর মঈনুল কখন গ্রামে আসে আর কখন কিভাবে গ্রাম থেকে পালিয়ে যায় তা কেউ বলতে পারেননি। গ্রামবাসী মঈনুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন এবং থানায় আটক কেয়া বেগম ও রহিমা বেগমের নিকট জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত পাচারের ঘটনা রেরিয়ে আসবে বলেও দাবি করেন। 
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রোববার মধ্যরাতে মোবাইল ফোনের কথোপকথন শুনে অভিযুক্ত দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। মূল হোতা মঈনুলকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলছে, অভিযুক্তরা দোষী হলে মামলা দায়ের করা হবে। 




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft