মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
দুর্ভোগের আরেক নাম মণিহার-মুড়লী সড়ক
মিনা বিশ্বাস :
Published : Wednesday, 10 July, 2019 at 1:46 AM
দুর্ভোগের আরেক নাম 
মণিহার-মুড়লী সড়কভাঙাচোরা পথ, ধুলাবালি, জায়গায় জায়গায় বিশালাকৃতির গর্ত, বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় নিচু অংশ। পানি নিষ্কাশনে নেই ড্রেন। সুনির্দিষ্ট ডাস্টবিন থাকলেও নেই তার ব্যবহার। পথের পাশের খোলা জায়গায় ফেলা ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায়। প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া যেন যাত্রী, পথচারী, সাধারণ মানুষ ও বহিরাগতদের জন্যে এক চরম অভিজ্ঞতা। রোজকার এ দৃশ্য যশোর শহরের মণিহার থেকে মুড়লী সড়কের।   
শহরের অপরিহার্য এক সড়ক মণিহার-মুড়লী। যে পথ দিয়ে চলাচল হাজারো মানুষের। ব্যবসা বাণিজ্য, অফিস আদালত, চিকিৎসা, বেড়ানো, স্কুল কলেজে আসা যাওয়াসহ নিত্য দিনের প্রয়োজনীয় নানান কাজ। কিন্তু সে পথেই ভাঙাচোরা ইট, বিভিন্ন স্থানে বিশালাকৃতির গর্ত, খোয়া বেরিয়ে শ্রীহীন দশা। বৃষ্টি হলে তলিয়ে যায় পথের নিচু অংশ। আটকে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কাঁদা পানিতে এলাকার। কোনো এককালে ড্রেন থাকলেও বর্তমানে তার অস্তিত্ব নেই। শুষ্ক মৌসুমে সারাদিনের গাড়ি চলাচলে গোটা পথ যেন ধুলার রাজ্য। এমনি এক পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল। ডাস্টবিন থাকলেও তার ব্যবহার নেই। সচেতনতার অভাবে খোলা জায়গাতেই ময়লা ফেলছেন এলাকাবাসী। পৌর কর্তৃপক্ষের দেয়া বক্স ডাস্টবিন ব্যবহার করেন না তারা। তাই পরিবেশ দূষণ এখানকার নিত্যদিনের সঙ্গী। 
বকচরের স্টেশনারি দোকানি সজল বলেন, এ রাস্তা অনেকবার মেরামত হয়েছে ঠিকই, তবে সরঞ্জাম ভালো মানের না হওয়ায় তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাফেরা করেন, যানবাহন চলে। অনেক সময় ছোটখাট দুর্ঘটনাও ঘটে। মণিহার এলাকার ফল ব্যবসায়ী মারছিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙাচোরা তাই এ পথে সবারই চলতে কষ্ট হয়। বৃষ্টি হলেই পানি আটকে থাকে। এক সময় ড্রেন ছিল এখন তাও নেই। শুকনা মৌসুমে ধুলা অনেক বড় সমস্যা। ধুলার কারণে অনেক সময় কিছু চোখে দেখা যায় না। চাকরিজীবী কামাল হোসেন বলেন, আমরা যারা সুস্থ মানুষ তারাইতো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। আর যারা অসুস্থ তারা এ পথে কতটা দুর্ভোগের শিকার হন তা বলে বোঝানো যাবে না। ভাঙাচোরা রাস্তা সাথে ধুলাবালি আর ময়লার কারণে চলাচল কিংবা শ্বাস নেয়া কষ্টকর। কাজের সূত্রে বাধ্য হয়েই এ পথ দিয়ে চলতে হয় তাই চলাচল করি। মণিহার এলাকার ওষুধের দোকানি আমিনুর রহমান বলেন, প্রায় দু’ বছর ধরে এ রাস্তা নষ্ট। মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। রোডের আটকে থাকা পানি নিষ্কাশনে দেড় বছর আগে এখানে ড্রেন খননের কাজ হয়েছিল। তবে ড্রেন পাকা করা কিংবা কোনো রিং বসানো হয়নি, কাঁচাই রাখা হয়েছিল। বর্তমানে সেই ড্রেনের কোনো অস্তিত্ব নেই। মাটির নিচে চলে গেছে। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই এখানে পানি জমে থাকে। রতন নামে এক রিকশাচালক বলেন, সারা শহরে রিকশা চালাই কিন্তু এ পথে আসতে গেলে কষ্টের শেষ নেই। ভাঙাচোরা রাস্তা, জায়গায় জায়গায় গর্ত। কেউ দেখে না আমাদের কষ্ট। পথচারী রেবেকা সুলতানা বলেন, আমার বাসা হুশতলা এলাকায়। এ পথে প্রতিদিন বাচ্চাকে স্কুল থেকে আনা নেয়া করি। ধুলাবালি আর ডাস্টবিনের ময়লার গন্ধে নাভিশ্বাস উঠে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষ প্লাস্টিক ডাস্টবিন দিয়েছে। তবু মানুষ বাইরে ময়লা ফেলে। 
এ বিষয়ে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের অধীনে বর্তমানে যশোর-বেনাপোল, যশোর-খুলনা এবং চুড়ামনকাটি-চৌগাছা এ তিনটি সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। সামনে আরো নতুন নতুন কাজ নিয়ে আমরা এগোব। মণিহার-মুড়লী পথে জনদুর্ভোগের বিষয়ে জানি। আমরাও এ সড়কটি মেরামতের জন্যে চেষ্টা করছি। এ মাসের ১৮ তারিখে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে আমাদের একটি মিটিং আছে। মিটিং শেষে একনেকে অনুমোদন হলেই চলতি বছরেই মণিহার থেকে মুড়লী রোডটি পুননির্মাণ করা হবে। রোডটি সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে একশ’ ১৫কোটি টাকা। আমরা খুব চেষ্টা করছি যাতে নতুন অর্থবছরের দু’ মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত হয় এবং চলতি বছরেই কাজটি শুরু হয়।      







সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft