সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
বিনা টাকায় চাকুরি পাওয়া ওদের কাছে চরম এক বিস্ময়
বিশেষ প্রতিনিধি :
Published : Wednesday, 10 July, 2019 at 1:52 AM
বিনা টাকায় চাকুরি পাওয়া ওদের কাছে চরম এক বিস্ময়বাবা কৃষক, দিনমজুর কিম্বা ভ্যান চালক। কারো বাবা নরসুন্দর। রাজ মিস্ত্রীর যোগালের কাজ করেও যাকে সংসারের ঘানি টানতে হতো দুদিন আগে, তাদের সবার কাছে এ এক চরম বিস্ময়। চাকুরি নামের সোনার হরিণ যে বিনা টাকায় ধরা দেয় তা কোনদিন ভাবতেও পারেনি তারা। তাইতো আবেগ উদ্বেলে চোখে আনন্দাশ্রুর রেখা। তাদের এ স্বপ্ন পূরণ করে দিয়েছেন যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক বিপিএম পিপিএম বার।
যশোর পুলিশে নিয়োগ সম্পর্কে অবহিত করতে গতকাল পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় চাকুরি পাওয়া যশোরের ১৯৩ জন যুবক যুবতীর মধ্যে ২৪ জন আবেগ আপ্লুত হয়ে তাদের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন। কান্না বিজড়িত কণ্ঠে জানান, টাকা ছাড়া চাকরি তাদের স্বপ্ন ছিল! কিন্তু সে স্বপ্ন শেষমেশ পূরণ হয়েছে। দেশ জাতির কল্যাণে তারা কাজ করতে চান।
শতভাগ আন্তরিকতা নিয়ে স্বচ্ছতার সাথে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে সভায় জানান যশোরের পুলিশ সুপার। তিনি বক্তব্যে বলেন, মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও প্রতিষ্ঠায় তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর আকাঙ্খা বাস্তবায়নে আইজিপির সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনেক ইতিবাচক কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে অতীতের সকল প্রশ্ন পেছনে ফেলে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ১৯৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর। 
অতীতে নিয়োগ নিয়ে কম বেশি প্রশ্ন থাকে, মিডিয়াতে নানা অনিয়মের তথ্যও আসে। সব প্রশ্নের উর্ধেŸ উঠে যোগ্য ও মেধাবীদের স্বচ্ছতার সাথে বাছাই করা হয়েছে। গত ২২ জুন ১ হাজার ৯শ’৫০ জন অংশ গ্রহণ করেন শারীরিক পরীক্ষায়। এতে  বাছাই করা হয় ১ হাজার ৬৯ জনকে। তারা ২৩ জুন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্য ৩শ’৫৪ জনকে রাখা হয়। আর ২৬ জুন মৌখিক পরীক্ষায় ওই ৩৫৪ জনের মধ্যে ২২৩ জন রাখা হয়। এদের মধ্যে ১৯৩ জনকে প্রাথমিক নিয়োগ দেয়া হয়। এদের মধ্যে সাধারণ পুরুষ ১১৬ জন, নারী ৫০ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২১ জন, পুলিশ পোষ্য কোটা ৪ জন, মুক্তিযোদ্ধা নারী কোটা ২ জন। এছাড়া সাধারণ নারী ১০ জন, সাধারণ পুরুষ ২০ জনকে অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়েছে। 
মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, দৈনিক গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন সিদকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক সার্কেল গোলাম রব্বানী শেখ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খ সার্কেল জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল অপু সরওয়ারসহ ৮ থানার ওসিগন। 
সভায় পুলিশ সুপার জানান, ১০ মাসের অধিক সময় যশোর জেলায় চাকরি চলছে তার। এসময় নানা ভুলত্রুটি হয়েছে। তারপরও শতভাগ আন্তরিকতা নিয়ে সেবা প্রদানের চেষ্টা করেছেন। নিয়োগে স্বচ্ছতার কারণে এবার কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, প্রবাসী, দিনমজুর, শ্রমিক, ভ্যান চালক, নরসুন্দরসহ বিভিন্ন পেশাজীবী পরিবারের সন্তানেরা বেশি চাকরি পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে কেউ কোন ত্রুটির কারণে বাদ পড়লে অপেক্ষমান তালিকা থেকে সেটা পূরণ করা হবে।
মতবিনমিয় সভায় উপস্থিত সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত কনস্টেবল ও তাদের অভিভাবকরা আবেগ আপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। তারা জানান, টাকা ছাড়া চাকরি হওয়ার কথা তারা কোন সময় কল্পনাও করেননি। একারণে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। 
কেশবপুর থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত গৌরিঘোনা গ্রামের মরিয়ম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ছোট বেলা থেকে ইচ্ছা ছিল জনসেবা করব। পুলিশে চাকরি পেয়ে তার সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। তিনিও কখনো ভাবেননি বিনা টাকায় তার চকরি হবে। মরিয়মের চাকরি হওয়ায় তার পরিবারের সবাই খুশি। সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার কৃষক বাবা এখন আর কাজ করতে পারেন না। বয়সের ভারে তিনি এখন শয্যাশায়ী। 
মরিয়মের মত শার্শার আল আমিন, মনিরা খাতুন, চৌগাছার সাইদুল ইসলাম, কেশবপুরের হাবিবুল বাসার সুমন, মনিরামপুরের আইয়ুব আলী, শার্শার সাহিদুল ইসলাম, বাঘারপাড়ার সাইফুর রহমান, চৌগাছার চুমকি খাতুন, ঝিকরগাছার সাহেব আলী, অভয়নগরের মুসলিমা খাতুন ও সদরের লায়লা খাতুন আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা সবাই জানান, সম্পূর্ণ বিনা টাকায় তাদের চাকরি হয়েছে। তারা শুধু ব্যাংক ড্রাফট জমা দিয়েছিলেন মাত্র। বাছাই মাঠে শৃংখলা ছিল। বিভিন্ন সময়, এমনকি মাঠে যাওয়ার আগেও তারা শুনেছেন টাকা ছাড়া পুলিশের চাকরি হয় না। কিন্তু এবারে কোনো অনিয়মের ছাপ তারা পাননি। যশোরে পুলিশ সুপার তা বাস্তবায়ন করেছেন। তারা পুলিশ সুপারেরও ভুয়সী প্রশংসা করেন। 





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft