শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
অনলাইনে মিলবে মণিরামপুরের কোরবানির গরু
সরোয়ার হোসেন :
Published : Friday, 12 July, 2019 at 6:24 AM
অনলাইনে মিলবে মণিরামপুরের কোরবানির গরুঅনলাইনে ছাড়া কোরবানির গরু বিক্রি করেন না ব্যবসায়ী ওমর ফারুক। চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতার বাড়িতে গরু পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব তার। শুধু অর্ডার দিলেই হলো! যশোরের মণিরামপুরের শ্রীপুর গ্রাম থেকে গরু পৌঁছে যাবে দেশের যে কোনো স্থানেই। গত কোরবানির ঈদের তিনদিন আগে অনলাইনে ৭৮ হাজার ক্রেতা তার সাথে যোগাযোগ করেন। এবার এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশাবাদ ওমর ফারুকের।
মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে দেশি গরুর খামার করেছেন ওমর ফারুক। যেখানে বর্তমানে গরু আছে শতাধিক। বেশি মুনাফার আশায় কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণের বিপক্ষে তিনি। ‘নিজের জমির সবুজ ঘাস, খৈল আর ভূষি খাইয়ে স্বাস্থ্যবান ও সুস্থ গরু কোরবানির নিয়ত করা মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়াই আমার লক্ষ্য’-জানালেন ওমর ফারুক। এজন্যে তিনি তৈরি করছেন ভার্মি কম্পোস্ট সারখানা। একইসাথে মাঠে ঘাসের চাষ-যা খাওয়ান গরুকে। কোনো বিদেশি জাতের গরু তিনি বিক্রি করেন না।
শ্রীপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আব্দুল করিমের ছয় সন্তানের মধ্যে ওমর ফারুক প্রথম। তিনি ছাড়া সব ভাইবোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। অন্য দু’ ভাইয়ের একজন উচ্চ পদে চাকরি করেন, অন্যজন বড় ব্যবসায়ী। দু’জনই ঢাকাতে থাকেন। তিন বোনের দু’জন শিক্ষক, একজন সচিবালয়ের কর্মকর্তা। শুধু ওমর ফারুকই এসএসসি পাস। প্রথমে মাছের ব্যবসা শুরু করলেও এখন পুরোদস্তুর গরু ব্যবসায়ী। বর্তমানে চারটি গোয়ালে শতাধিক গরু রয়েছে-যা আসন্ন কোরবানির জন্যে লালন করা হচ্ছে।   
দৈনিক গ্রামের কাগজকে ওমর ফারুক বলেন, ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে খামারটি তৈরি করা। প্রথমে ঋণের জন্যে উপজেলার প্রতিটি ব্যাংকে ধর্না দিয়েছি। কেউ টাকা দেয়নি। সবাই বলে জমির দলিল বন্ধক রাখতে হবে। আমাদের সব জমি আব্বার নামে। তিনি এখনো বেঁচে আছেন, দলিল দেব কিভাবে। শেষ পর্যন্ত কাজী ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জয়নুল আবেদীনের দেয়া চার লাখ টাকার সাথে নিজের আরো চার লাখ টাকা দিয়ে ২০০৩ সালে ব্যবসাটি শুরু করি। এর মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হয় ভার্মি কম্পোস্ট সারখানা ও চারটি গোয়াল তৈরিতে। তিন লাখ টাকা দিয়ে গরু কিনে সেগুলো লালন-পালন করতে থাকি। প্রথম বারেই লাভ পাওয়া যায় ভালো। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে, ব্যবসায় প্রসার লাভ করে ২০০৭ সাল থেকে।’ ফার্ম তৈরির আগে খামারি হিসেবে উচ্চতর দু’টি প্রশিক্ষণও তিনি গ্রহণ করেন বলে জানান।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণের প্রক্রিয়াকে অনৈতিক দাবি করে তিনি বলেন, ‘ধর্মে আছে সুস্থ ও সবল পশু কোরবানি দিতে হবে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় মোটাতাজা করা হয় তাতে গরু আর সুস্থ থাকে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের খামারে গরুকে সম্পূর্ণ দেশি খাবার খাওয়ানো হয়। কোনো কৃত্রিম পন্থা অবলম্বন করা হয় না। তাছাড়া, গরু যাতে সুস্থ থাকে তার জন্যে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসাও করানো হয়।’ গরুর সেবায় প্রতিদিন তিন শিফটে দুই ঘণ্টা করে মোট ছয় ঘণ্টা পরিশ্রম করেন ওমর ফারুক। গরুর গোসল করানো, গোয়াল পরিস্কার করা, খাবার দেয়া-সবই নিজে করেন। যদিও এ কাজের জন্যে তিনি সহযোগী নিয়োগ দিয়েছেন।
ওমর ফারুক জানান, শুধু ‘কোরবানির জন্যেই অনলাইনে গরু বিক্রি করি। এর বাইরে সারাবছরই বাড়ি থেকে সরাসরি যে কেউই নির্ধারিত মূল্যে গরু কিনতে পারেন। অনলাইনে বিক্রির জন্যে তারা জাজ কর্পোরেশন নামে বিক্রয় ডটকমের তালিকাভূক্ত হয়েছেন বলে জানান। তাদের মূল কোম্পানির নাম ‘জাম এগ্রো’। গরুর পাশাপশি তারা ভার্মি কম্পোস্ট সার এবং ঘাসও বিক্রি করছেন।
মণিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডক্টর আবুজার সিদ্দিকী বলেন, ‘ওমর ফারুকের খামারে গরু যেভাবে পালন করা হয় তা নিরাপদ খাদ্য স্লোগানের সহায়ক। প্রাকৃতিক খাদ্য যেমন ঘাস, খৈল, ভূষি, কুড়া, ভুট্টা ভাঙা ইত্যাদি খাওয়ানো হয় গরুকে। এই খাবারকে দানাদার খাবার বলে। এগুলো গরুর মাংস বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।’
ডক্টর আবুজার বলেন, মণিরামপুর উপজেলায় যত খামার আছে সবগুলোতেই নিরাপদ খাদ্য ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। তিনি জানান, তার উপজেলায় এক হাজার পাঁচশ’ ৭০টি পারিবারিক খামার আছে। এক থেকে তিনটি গরু থাকলেই সেগুলোকে পারিবারিক খামার বলে। এছাড়া, রেজিস্ট্রেশনভূক্ত খামার আছে ৪০টি। প্রতিটিতে ১০টির বেশি সংখ্যায় গরু না থাকলে ওই খামারকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয় না।   



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft