রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
সম্পাদকীয়
ব্যাংকিং খাত যেনো আবার অস্থির হয়ে না ওঠে
Published : Friday, 12 July, 2019 at 6:24 AM
বিভিন্ন অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে দেশের ব্যাংকিং খাত। খেলাপি ঋণসহ নানা কারণে ঝুঁকির মুখে অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অনেকসময় বাড়তি নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে গিয়ে ব্যাংকগুলোকে পড়তে হচ্ছে মূলধন সঙ্কটে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের মার্চ শেষে মূলধন সংকটে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি ১০ ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।
দীর্ঘদিন পর ঘাটতির তালিকা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক বের হয়ে আসতে পারলেও এ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংক। এছাড়া ঘাটতিতে থাকা অন্য ব্যাংকগুলো হচ্ছে- রাষ্ট্রায়ত্ব বেসিক, জনতা, অগ্রণী, বাংলাদেশ কৃষি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি, বাংলাদেশ কমার্স, আইসিবি ইসলামী ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।
বেসরকারি খাতের ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন খবর সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শেয়ার হোল্ডার ও বিভিন্ন পর্যায়ের আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির আমানতের চেয়ে সম্পদের পরিমাণ বেশি। তাই আমানতকারীদের ভয়ের কিছু নেই।
পিপলস লিজিংয়ে ঋণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা, সম্পত্তির ঝুঁকি ও তারল্য সংকটে রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে চিঠি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক তথ্য অনুযায়ী, পিপলস লিজিংয়ে আমানত রয়েছে ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। তবে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার মতো নগদ অর্থ সংকটে রয়েছে। ফলে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। ১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ৭৪৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।
এরকম পরিস্থিতি অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। এছাড়া ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার নিয়েও নানারকমের উচ্ছাস ও হতাশা আছে বিভিন্ন ধরণের গ্রাহকের মধ্যে। এরকম পরিস্থিতি দেশের আর্থিকখাতের জন্য উদ্বেগজনক। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্টরা বিষয়গুলো দেখে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft