বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
দৌলতদিয়ায় ফেরি সংকট
যানবাহনের দীর্ঘ সারি, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
রাজবাড়ী প্রতিনিধি :
Published : Friday, 12 July, 2019 at 5:20 PM
যানবাহনের দীর্ঘ সারি, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ পদ্মা নদীতে ¯্রােত বেড়ে যাওয়া ও ফেরি স্বল্পতার কারণে ২১ জেলার প্রেবেশদ্ধার দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে নৌযান পারাপার ব্যহত হচ্ছে বেস কয়েক দিন যাবৎ। পদ্মায় পানি বাড়ার সাথে ¯্রােত বেড়ে যাওয়ায় নদী পারাপারে সময় লাগছে প্রায় দ্বিগুন। এসব কারণে উভয় ঘাটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যার ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। সাথে বেড়ে গেছে দালালদের দৌরাতœ্য জিম্মি ট্রাক চালকারা। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নিতে হচ্ছে ফেরির টিকিট। তার পরেও ঘন্টার পর ঘন্টা রাতের পর রাত বসে থাকতে হচ্ছে ঘাটে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ঈদুল ফিতরের সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ছোট-বড় মোট ২০ টি ফেরি চলাচল করতো। কিন্তু ঈদের কয়েকদিন পর যান্ত্রিক ক্রটি দেখা দেওয়ায় সংস্কারের জন্য এই রুট থেকে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয় ছোট বড় ৫টি ফেরি।  
২০ টি ফেরির মধ্যে ৫টি ফেরি বিকল থাকায় এই নৌপথে ফেরি সংকট দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় বাকি ১৫ টি ফেরির মধ্যেও মাঝেমধ্যে ২টি ফেরি যান্ত্রিক ক্রটিতে বিকল হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ঘন্টা সময় পর্যবেক্ষন করে দেখা যায়। দালাল ছাড়া কেউ পাচ্ছে না ফেরির টিকিট। যদিও ভাগ্য ক্রমে পাওয়া যায় তবুও সেই টিকিট সরকার নিধারিত ভাড়া ১০৬০ টাকার স্থানে অতিরিক্ত  ৩৪০ টাকা যোগ করে ১৪০০টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ট্রাক চালকদের। ফেরি সংকটের কারনে সন্ধ্যা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশ হ্যাচারী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সাড়ি তৈরি হয়। এতে ভোগান্তিতে পরে যাত্রী ও চালকেরা।
যশোর থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে আসা ট্রাক চালক সবুজ শেখ জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে দুই দিন ধরে বসে আছি। এখোন ঘাটের দেখা পাইনি। এখানে থাকার কোন নিরাপত্তা নাই। আবার দুই দিনের মধ্যে অনেক বার কাউন্টারে গেছি ফেরির টিকিটের জন্য। আমার বড় গাড়ি ১৬৬০টাকার টিকিট ২২০০টাকা দিয়েছি তার পরেও ফেরির টিকিট পাই নাই। অতিরিক্ত টাকার কোন স্লিপও দেয় না কাউন্টার থেকে। সে কারনেই মালিককে আমরা হিসাব দিতে পারি না। মালিক আমাদের কে এক প্রকার চোর বলেও অপমান করে। আমরা চাই যে একটি ফেরি ব্যবস্থা করাহোক যাতে আমারমত কোন ট্রাক চালককে অসহায় এর মত ঘাটে খেয়ে না খেয়ে নিরঘুম রাত কাটাতে না হয়।
গোপালগঞ্জ থেকে ছেরে আসা ছোট ট্রাকের চালক আসরাফুল জানান, গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় দৌলতদিয়া ঘাটে আসছি। ঘাটে কোন নিয়ম শৃঙ্খলা নেই এখানে অনেক ট্রাক চালক কর্তৃপক্ষকে টাকা দিয়ে আগে চলে যাচ্ছে আর আমরা ঘন্টার পর পর ঘন্টা রাতের পর রাত বসে আছি। আমার ট্রাক ভাড়া ১০৬০টাকা কিন্তু টিসি.র কাউন্টার থেকে টিকিট নিল ১৪০০টাকা ৩৪০টাকা অতিরিক্ত নিল। আমি জানতে চাইলাম যে কেন ৩৪০টাকা বেসি নিচ্ছেন তারা বলে কি তুমি দালাল ধরে আসো। এখনর সত্যি বলতে কি ভাই আমরা ট্রাক চালকরা এই ঘাটে এক প্রকার জিম্মি কারন আমাদের নদী পার হতেই হবে তাই বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফেরির টিকিট নেই।
এসডি পরিবহনের যাত্রী মোঃ পলাশ আহাম্মেদ জানান, সকাল ৯টায় দৌলতদিয়ায় আসছি এখন বিকেল ৪টা বাজে কিন্ত  এখনো পার হতে পারিনি। দৌলতদিয়া ঘাটে যখনই আসি তখনই এমন যানজট দেখি। এ ঘাটে ভোগান্তি আজ নতুন না। এখানে বছরের বেশির ভাগ সময়ই সমস্যা লেগে থাকে। ঘাট এলাকায় কাজ করে এমন কোন সংস্থার সাথে কারো সমন্বয় নেই। কেউ সঠিক কারন বলে না। কখন ফেরি পাবো কখন ঢাকা যাবো তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। সরকারের কাছে দাবী জানাই যেন এর থেকে জনগনকে রক্ষা করতে একটি ভালো উদ্যোগ গ্রহন করে। পাশাপাশি আরো কিছু নতুন ফেরি যুক্ত করা হয়।
দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ আবুল হোসেন জানান, টিসির পক্ষ থেকে ১৫টি ফেরির কথা বলা হলেও ঠিকমত ১৫টি ফেরি চলাচল করে কিনা আমরা বলতে পারি না। নদীতে তীব্র ¯্রােতের কারনে ঘাটে ফেরি ভিরতে সময় লাগছে বেশি, তাছারা ফেরি সংকট তো আছে যে কারনে ঘাট এলাকায় চাপ পড়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে নিয়ম মেনে সিরিয়াল অনুযায়ী পারাপার করা হচ্ছে যাবাহন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুরøাহ  বলেন, ঈদের সময় ২০টি ফেরি চালচল করেছে। ঈদের কিছু দিন পরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে ৫টি ফেরি বিকল হয়ে  পড়ে। ফেরি গুলো সংস্কারের জন্য এই রুট থেকে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। যার ফলে গাড়ি পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পদ্মায় পানি বাড়ার সাথে ¯্রােতে বেড়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচল মারাত্বক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আগে যেখানে লাগতো ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট। বর্তমানে সেখানে সময় লাগছে প্রায় ৫০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা।
ট্রাক চালকেদের অভিযোগ টিসির কাউন্টার থেকে ফেরির টিকিট দালাল ছাড়া পাওয়া যায় না। বা পাওয়া গেলও ১০৬০টাকার টিকিট নেওয়া হয় ১৪০০টাকা, ১৬৬০টাকার টিকিট ২২০০টাকা থেকে ৩হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এমন প্রশ্নে টিসির এই কর্মকর্তা বলেন, সরকার নিরধারীত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত কোন টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই যদি কেউ নিয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল ভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর দালল ঠেকাতে কাউন্টারের সামনে সময় সময় ডিবি পুলিশের একটি টিম কাজ করে। যদিও কাউন্টার থেকে ট্রাক চালক বা হেলপার ছাড়া কাউরো কাছে কোন টিকিট দেওযা হয় না। কাউন্টারে যারা আসেন তাদের গায়ে তো আর লেখা থাকে না যে কে ট্রাক চালক। এখন যদি ট্রাক চালকরা দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকার দিয়ে টিকিট ক্রয় করেন এটা আমি কি ভাবে ঠেকাবো।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft