রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
৩ মাস আগে কুমিল্লা থেকে যশোরে এসে রেকি করে চুরি
প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সের চার চোর আটক
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Sunday, 14 July, 2019 at 6:00 AM
প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সের চার চোর আটক যশোর শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সে অভিনব স্টাইলে চুরির সাথে জড়িতদের মাত্র ১৪ দিনের মাথায় সনাক্ত করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। চোরেদের টিম লিডার কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার সুন্দর আলীর ছেলে আব্দুল এখনো পলাতক। চুরির তিন মাস আগে সে যশোরে ‘প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্স’ রেকি করে যায়। এরপর তার দলের অন্য সদস্যরা ঘটনার তিন দিন আগে যশোরে আসে। চুরির সাথে জড়িত চারজনকে আটকের পর এই তথ্য মিলেছে। আটককৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ দেড় লাখ টাকা ও প্রায় সাড়ে তিনভরি সোনা।
গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী। এসময় তুলে ধরা হয়েছে অভিযানের বর্ণনা। একইসাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকসহ বাকি সোনা ও টাকা উদ্ধার করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
২৭ জুন বিকেল ৩টা ৫২ মিনিটে ত্রিপল টাঙিয়ে যশোর কোতোয়ালী থানার সাড়ে ৯ গজ দুরের প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সে বড় ধরণের চুরি সংঘটিত হয়। সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি ৩টা ৫২ মিনিটে ঢুকে ৮ মিনিট পর বিকেল ৪টা ১ মিনিটে বেরিয়ে আসে। আর বিনা বাধায় ব্যাগে করে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যায়। চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি যশোরের নেতৃবৃন্দসহ সব জুয়েলারী দোকানী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দ্রুত ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করে আটক দাবি করেন পুলিশ প্রশাসনের কাছে। একই সাথে ২৮ জুন থানায় এজাহার দাখিল করেন জুয়েলারী মালিক অমিত রায় আনন্দ। অজ্ঞাত চোর চক্রের বিরুদ্ধে দেয়া মামলায় জুয়েলারী থেকে ৪৭ ভরি ১২ আনা সোনার গহনা ও নগদ আড়াই লাখ টাকা চুরির হিসেব দেয়া হয়। যার মূল্য প্রায় ২৪ লাখ ৭৯ হাজার দুশ’ ৫০ টাকা।
এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে থানার ৯ গজ দুরে জনবহুল এলাকায় দুর্ধর্ষ এই চুরির ঘটনায় টক অব দ্যা যশোরাঞ্চল হওয়া এবং থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তোলায় ২৮ জুন রাতে মামলাটি হস্তান্তর করা হয় যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবিতে। চুরির ঘটনা নিয়ে দৈনিক গ্রামের কাগজে সিরিজ সংবাদ প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ, ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও নানামুখি আল্টিমেটামে জোরেসোরে কাজ শুরু করে ডিবি। পুলিশ সুপার মঈনুল হকের (পিপিএম বিপিএম বার) সার্বিক দিক নির্দেশনায় গোয়েন্দা শাখার একটি আইটি স্পেশালিস্ট টিম মাঠে নামে। আইটি স্পেশালিস্ট সাব ইন্সপেক্টর শামীম হোসেন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে  দু’সপ্তাহ কাজ করেন। সিসি ক্যামেরা থেকে সংগৃহিত ভিডিও ফুটেজে চোরদের অস্পষ্ট ছবি নিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। মোবাইল ট্রাকিং করা হয় শতাধিক পেশাদার সোনা চোর ও পুরোনো অনেক সোনা চোর ও চোরাই সোনা বিকিকিনি চক্রের লোকজনের। এভাবে চোর সনাক্ত করার কাজ এগিয়ে চলে। যশোর ডিবিকে ব্রাম্মণবাড়িয়া, ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের আরও কয়েকটি গোয়েন্দা টিম সহায়তা করে। এক পর্যায়ে চোর চক্র সনাক্ত হলে ১১ ও ১২ জুলাই অভিযান পরিচালনা করে যশোর ডিবি। ইন্সপেক্টর আল মামুনের নেতৃত্বে এসআই শামীম হোসেন সোনা, নগদ টাকাসহ সংঘবদ্ধ চক্রের ৪ জনকে আটক করতে সক্ষম হন।
এ ব্যাপারে ১৩ জুলাই যশোর পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক সার্কেল গোলাম রব্বানী। ব্রিফিংয়ের সময় আটক ৪ সোনা চোরকে হাজির করা হয়। এরা হচ্ছে চট্টগ্রামের বহাদ্দারহাট এলাকার আব্দুর রশিদ বাদশা, চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার সোহেল ওরফে মোটা সোহেল, কুমিল্লার মুরাদ নগরের উজ্জল ও সুমন। এদের মধ্যে সোহেলের বসতবাড়ি থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা ও ৩ ভরি ৭ আনা সোনা উদ্ধার হয়। আটককৃতদের মধ্যে আব্দুর রশিদ বাদশা ও সোহেল ওরফে মোটা সোহেলকে সিসিটিভি ফৃুটেজে দেখা যায় একজন পুটলি হাতে, অন্যজন ছাতা হাতে বের হয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার হওয়া সোনা ও টাকা প্রিয়াঙ্গণ জুয়েলার্সের বলে নিশ্চিত করেছেন মালিক অমিত রায় আনন্দ।
ব্রিফিংয়ের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী জানান, যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে এই মামলাটি তদন্ত করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও সফলতা আসবে বলেও জানান তিনি। ব্রিফিংয়ের সময় জুয়েলার্সের মালিক অমিত রায় আনন্দ ছাড়াও যশোর জেলা জুয়েলার্স সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে রবি মজুমদার, মিঠু আলী, হরসিত, রফিকুল আলী, অচিন্ত ধর, স্বপন রায় উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহমেদ গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, মামলাটি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার শুরুতেই গোয়েন্দা শাখা নজরদারি শুরু করে। স্থানীয় যোগসূত্রতা ছাড়া ওই চুরি সম্ভব নয় সেদিকে জোর দিয়ে তদন্ত এগোয়। জুয়েলারী মালিকের পরিচিত কেউ বা এই ব্যবসার সাথে জড়িত কেউ নেপথ্যে থাকতে পারে এনিয়েও তদন্ত চলে। কয়েকদিনের মধেই পরিষ্কার হয়, এ চুরির মিশনে বাইরের জেলার চোরেরা ছিল। এরপর ডিবির আইটি স্পোলিস্ট টিম মাঠে নামে জোরেসোরে। আগেই আটক করা হয় সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যজনক আচরণ পাওয়া পাশের জয় স্টোরের মালিক প্রদীপ রক্ষিতকে। পরে আটক করা হয় সিসি টিভি ফুটেজে চুরির সময় পাশেই অপেক্ষা করা রিকসা চালক আব্দুল হালিম সরদারকে। তিনি আরও জানিয়েছেন, চুরিতে স্থানীয় যোগসূত্রতা বের করতে চুড়িপট্টির কয়েক ব্যবসায়ী ও থানার পাশে চুড়িপট্টিতে ঢোকার মুখে যে সব হকার বসে মালামাল বিক্রি করে তাদের উপর এখনও নজরদারি রাখা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft