মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০
সারাদেশ
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দেড় লাখ মানুষ পানি বন্দি
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
Published : Sunday, 14 July, 2019 at 6:38 PM
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দেড় লাখ মানুষ পানি বন্দিকুড়িগ্রামে ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭৫ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এতে করে জেলার ৯ উপজেলার প্রায় দেড় লাখের বেশি মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। লোকজন আশ্রয় নিতে শুরু করেছে পার্শ্ববর্তী উঁচ বাঁধ, পাকা সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এসব এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
নদ-নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের পানিবন্দি কিছু পরিবার নৌকার অভাবে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু জায়গায় যেতে পারছেন না। অনেক পরিবার অন্যের নৌকা ধার নিয়ে উঁচু স্থানে আসতে শুরু করেছেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের মহির উদ্দিন জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে পেতে ঘরের ভিতর এক কোমর পর্যন্ত পানি হয়েছে। ঘরের চৌকি ইট দিয়ে ভাসিয়ে কোন রকমে কষ্ট করে ছিলাম যে পানি কমা শুরু হলে আর অন্যত্র যেতে হবে না। কিন্তু পানি কমার পরিবর্তে শুধু বাড়তেছে। বাড়িতে আর থাকার উপায় নাই। এজন্য সড়কে এসে বাড়ির কয়েকটি টিন দিয়ে ছাপড়া ঘর তুলতেছি। এখানেই বউ বাচ্চা নিয়ে থাকতে হবে। রান্না করার উপায় নাই। শনিবার থেকে শুধু কাঁঠাল খেয়ে আছি। এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য সহযোগিতা পাই নাই।
উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দই খাওয়ার চরের কালু মিয়া জানান, এই চরে আমরা শতাধিক পরিবার বসবাস করছি। সব পরিবারের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। যাদের নৌকা আছে তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু স্থানে যাচ্ছে আর যাদের নৌকা নেই তার মাচা উঁচু করে গরু ছাগল নিয়ে কষ্টে দিন পার করতেছে। পানি আরো বাড়তে থাকলে এই চরের সব মানুষকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবে।
উলিুপর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন জানান, আমার ইউনিয়নটি ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত। এখানে চরাঞ্চলসহ প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি জীবন যাবন করছে। কিছু পরিবার উঁচু সড়কে আশ্রয় নিচ্ছে। সরকারিভাবে এখনও কোন ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।
কুড়িগ্রামের অতিারিক্ত জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসন থেকে ৫০ মেট্রিক টন চাল, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।  যা আজ (১৪ জুলাই) বিতরণ করা হচ্ছে। আজ নতুন করে আরো বরাদ্দ দেয়া হবে। এছাড়াও নতুন করে ১ হাজার মেট্রিক টন চাল, ২০ লাখ টাকা ও ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলার সকল সরকারি দফতরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, গত ৩০ ঘণ্টায় দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার, তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৪৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৪৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft