সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
হাতিয়ায় অবৈধ, চোরাই ও লাইসেন্সবিহীন হোন্ডার সংখ্যা বেড়েই চলেছে
হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা :
Published : Monday, 15 July, 2019 at 3:28 PM
হাতিয়ায় অবৈধ, চোরাই ও লাইসেন্সবিহীন হোন্ডার সংখ্যা বেড়েই চলেছেনোয়াখালী জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় অবৈধ, চোরাই ও লাইসেন্সবিহীন হোন্ডা (মোটরসাইকেল)-র সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। সেই সাথে হোন্ডা চালকদের নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইনস্যুরেন্স ও হোন্ডার বৈধ কাগজপত্র। এই অবৈধ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এখানে গঠন করা হয়েছে একটি হোন্ডা সমিতি। সমিতির নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে প্রায় ২ হাজারেরও অধিক হোন্ডা রয়েছে। সমিতিভূক্ত ছাড়াও আরো প্রায় ১০ হাজার অবৈধ ব্যক্তিগত হোন্ডা রয়েছে যেগুলোরও ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইনস্যুরেন্স ও বৈধ কাগজপত্র নেই ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব হোন্ডা (মোটরসাইকেল) চালকদের মধ্যে একজনেরও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হোন্ডার লাইসেন্সও নেই। বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছে। কালেভদ্রে জেলা থেকে নির্দেশ আসলেও থানা পুলিশ নামকাওয়াস্তে ও লোক দেখানো অভিযান করে বেশ কয়েকটি হোন্ডা থানায় আটক করে পরে টাকা আদায় করে কয়েক ঘন্টা পর ছেড়ে দেয়। মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এ দ্বীপ উপজেলায় নেই কোন ট্রাফিক পুলিশের তদারকি। ফলে যানবাহন আইনে এখানে কোন মামলাও হচ্ছে না।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ভাড়ায় চালিত হোন্ডাকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে হাতিয়া হোন্ডা সমিতি নামে একটি সংগঠন। এ সমিতির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে যুবদল থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া নেতা আব্দুর রহিম রতন। তার নের্ত্বৃত্বে প্রতিটি হোন্ডা থেকে প্রতিমাসে ২৫০ টাকা হারে ২ হাজার হোন্ডা থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিটি হোন্ডা সমিতিভূক্ত হতে প্রথমেই ৪ হাজার টাকা ভর্তি ফি আদায় করা হয়। সমিতির উপার্জিত অর্থের অর্ধেক টাকা সভাপতি, সেক্রেটারী ও কতিপয় সদস্য ভাগভাটোয়ারা করে নেয়, বাকি অর্ধেক থানা পুলিশকে মাসোয়ারা দিতে হয়। সমিতিভূক্ত ছাড়াও হাতিয়া দ্বীপে আরও প্রায় ১০ হাজার ব্যক্তিগত হোন্ডা রয়েছে। এসব হোন্ডার মধ্যে সর্বসাকুল্যে এক শতাধিক হোন্ডার বৈধ কাগজপত্র থাকলেও বাকিগুলোর ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইনস্যুরেন্স ও মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র নেই। তারা শুধুমাত্র শো-রুম পেপারস দিয়ে চালাচ্ছেন। এসব মটর সাইকেলগুলোও থানাকে মাসোয়ারা দিতে হয়।
এক শ্রেণীর চোরাকারবারী স্থানীয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় কিছু মধ্যস্থতাকারীদের (দালালের) মাধ্যমে ভারতের সীমান্ত থেকে ফেনী, কুমিল্লা, যশোর ,ফরিদপুর ও খুলনা হয়ে চোরাই মটর সাইকেল এনে দুই নাম্বার কাগজ তৈরি করে হাতিয়ায় সরবরাহ করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি এই এলাকায় এত বেশি মোটরসাইকেলের দৌড়ঝাপ ও আনাড়ি চালকদের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে পথচারী ও স্কুলগামী শিশুরা। অদক্ষ চালকদের কারণে গত ১০ বছরে এ দ্বীপে কম হলেও ২ হাজারেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে শুধুমাত্র মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এছাড়াও গভীর রাতে এসব হোন্ডা নিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে অহরহ অগ্নিসংযোগ, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এসব অবৈধ হোন্ডা নিয়ে গঠিত হাতিয়া হোন্ডা সমিতির চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের  জানান, আমি এ থানায় নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। শীঘ্রই খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন হাতিয়া উপজেলার ভুক্তভোগী পথচারী ও সাধারণ জনগন। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft