রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
খুলে বসেছে চাঁদাবাজি অফিস
যশোরের বেজপাড়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র
কাগজ সংবাদ :
Published : Friday, 19 July, 2019 at 6:03 AM
যশোরের বেজপাড়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র। একটি রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে এরা চলাচ্ছে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। অবস্থা এতটাই বেগতি যে, কেউ বাড়ি করতে ইট ফেলতে পারছেনা এদের হিস্যা না দিয়ে। আবার জমি বিকিকিনি করতে গেলেও একই অবস্থা। ভোল পাল্টে চক্রটি খুলে বসেছে একটি চাঁদাবাজির অফিসও। তবে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেনা। সাবেক ছাত্রনেতা ইমন হত্যা মামলায় আটক হওয়া সন্ত্রাসী খুরশিদের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে এখন পরিচিত সেলিম চাঁদাবাজ চক্রের হোতা। এদের উৎপাতে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ দ্রুত পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ প্রশাসন যখন বারবার সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিচ্ছে তখন ওই ঘোষণার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী তৎপরতাসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে চলেছে। বেজপাড়ার শাহিনের বাড়ির নিচে ছোট একটি ঘর ভাড়া নিয়ে চক্রটি তাদের ডেরা খুলে বসেছে। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ এটি তাদের চাঁদাবাজি অফিস। বিপরীত ঘরানার রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হলেও এখন ভোলপাল্টে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কয়েক নেতার সাথে ভিড়ে তাদের চাঁদাবাজির পথ সুগম করছে।
বেজপাড়ার এক সময়ের আলোচিত সন্ত্রাসী নিহত মুরাদের ভাই মান্নান হত্যকান্ডসহ একাধিক মামলার আসামি সেলিম, জনি ওরফে হিজড়া রনি,  নেছারের ভাই রফিক,  সুমন ওরফে বচন সুমন ও একই এলাকার রানাসহ ৭/৮ জনের ওই চক্রটি বেশুমার চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। সাবেক ছাত্রনেতা ইমন হত্যাকান্ডে জড়িত বলে সনাক্ত হওয়া পলাতক পেচোকে দিয়ে ফোন করিয়ে বড় দাগের চাঁদাবাজিগুলো করছে চক্রটি। চাঁদাবাজ চক্রের কেউ কেউ সরাসরি মাদকের কারবারের সাথেও সংশ্লিষ্ট। ওই চক্রের লোকজন বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে আটক হলেও তাদের টনক নড়েনি। এরা বেজপাড়া মেইন রোড, বিহারী কলোনি, গুরগোল্লার মোড়, আর এন রোড, সাদেক দারোগার মোড়, তালতলাসহ আশে পাশের আরও কয়েকটি এলাকায় ঘটাচ্ছে এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড।
এসব সন্ত্রাসীদের অধিকাংশের নামে কোতোয়ালী থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। এদের কয়েকজন থানার দারোগা হাবিলের সাথে সখ্যতা করে তাকে সাথে নিয়ে এলাকায় ঘুরে আধিপত্য দেখায়। হাবিলকে তাদের ডেরায় বসিয়ে চা পান করাচ্ছে। আরও দু’দারোগা সেখানে আসা যাওয়া করায় এরা নিজেদের আরও শক্তিশালী বলে প্রচার করে চাঁদাবাজি করছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের ডেরা।
এব্যাপারে এলাকার ভুক্তভোগীদের একটি সূত্র জানিয়েছে সেলিম জনি সুমন চক্র ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি করছে। এলাকার কেউ বাড়ি করতে ইট আনলেই সেখানে চড়াও হচ্ছে চক্রটি। আর দাবি করা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ঠেকিয়ে দেয়া হচ্ছে ইটের গাড়ি, বালির গাড়ি। এক ট্রাক চালককে মারপিটের ঘটানাও ঘটিয়েছে চক্রটি। এছাড়া, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মিমাংসার নামে কথিত শালিশ করে একটি পক্ষ নিয়ে অর্থ বাণিজ্য করছে এরা।  আবার জমি কেনাবেচার সময় ওই চক্রকে স্মরণ না করলে বিপত্তির শেষ নেই। ওই চক্রের অনেকে জামিনে থাকায় ভয়ে কথা বলতে পারছেনা ভুক্তভোগীরা। নীরবে চাঁদা দিয়ে নিজেদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করছেন তারা।
সূত্রটি জানিয়েছে, এই চক্রের একজন এলাকার মোড়ে মোড়ে মাদক পয়েন্ট তৈরি করেছে। এরা কারো কথা মানেনা। প্রতিনিয়ত এলাকার নিরিহ মানুষদের প্রতি অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এই চাঁদাবাজ চক্রকে আটক করা না হলে এলাকায় পরিবেশ আরও বিঘিœত হবে বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।
এব্যাপারে যশোর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ সমীর কুমার সরকার গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন উল্লেখিত ওই চক্রের অনেকের নামে মামলা আছে সত্য। তবে তারা জামিনে আছে। এছাড়া চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসী তৎপরতার ব্যাপারে কেউ নিদিষ্ট অভিযোগ করলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভুক্তভোগীরা যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনায় অভিযোগ করলে তাৎক্ষনিক অভিযান চলবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft