শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
সারাদেশ
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটিই ৫ হাজার মানুষের ভরসা!
নাটোর প্রতিনিধি :
Published : Monday, 22 July, 2019 at 8:43 PM
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটিই ৫ হাজার মানুষের ভরসা!নাটোরের সোনাবাজু গ্রামের বুক চিরে বয়ে গেছে তুলশীগঙ্গা নদী। নদীটি সোনাবাজু ও ঝাকড়া গ্রামকে দুটি অংশে বিচ্ছিন্ন করেছে। এখানে প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস করে। জীবিকার প্রয়োজনে তাদের প্রতিনিয়ত তুলশীগঙ্গা নদী পার হয়ে সোনাবাজু এবং উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু তুলশীগঙ্গা নদীর উপর কোনো সেতু না থাকায় এলাকার উদ্যোগে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটিই এখন ৫ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা।
ঝাকড়া গ্রামের মানুষকে জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত তুলশীগঙ্গা নদী পার হয়ে সোনাবাজু এবং উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। তাই পারাপারের সুবিধার্থে এলাকাবাসীর উদ্যোগে দেড়শ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সোনাবাজু-ঝাকড়া গ্রামের মৎসজীবী ইউসুফের বাড়ির পাশে তুলশীগঙ্গা নদীর ওপর বাঁশের সাঁকোটির অবস্থান। এটির ওপর ভর করেই চলে এই গ্রামের মানুষগুলোর জীবনযাত্রা।
শুধু যে জীবিকার প্রয়োজনেই দুর্ভোগ পোহাতে হয় এমন নয়। ঝাকড়া গ্রামের শিশুসহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে তুলশীগঙ্গা নদী পার হতে হয়। শিশুদের জন্য নদী পারাপার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর ওপর সেতু না থাকায় ফসল উৎপাদনের জন্য কীটনাশক-বীজ আনা নেয়া করতে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোনোভাবে ফসল ফলানো গেলেও তাদের উৎপাদিত ঘরে তোলা ও বাজারজাতকরণ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই এ কারণে ফসল বাজারজাত করেন না। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় আ’লীগ নেতা হানিফ বলেন- মূলত নদীটির কারণেই গ্রাম দুটি বিচ্ছিন্ন। সোনাবাজু গ্রামের সঙ্গে সড়ক পথে উপজেলা-জেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। ফলে এই গ্রামে, প্রাথমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিএম কলেজ এবং বাজার রয়েছে। এ কারণে ঝাকড়া গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ সোনাবাজু গ্রামের ওপর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। ফলে দুর্ভোগকে সঙ্গী করেই ঝাকড়া গ্রামের মানুষকে নদী পারাপার হতে হচ্ছে।
সোনাবাজু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন- ঝাকড়া গ্রামের অনেক শিশু তার বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শিশুরা বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসে। ফলে যেকোন সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে এসব শিশু। এছাড়া অসুস্থ রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন। এলাকাবাসীর এই নদীর ওপর একটি সেতুর দাবি বহুদিনের। সেতু নির্মাণ হলে ঝাকড়াগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হতো।
গুদাসপুর উপজেলা উপসহকারি প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম বলেন-বাঁশের সাঁকোতে ৫ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের কথা শুনেছি। অচিরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft